ছাতকে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধামাচাপার অভিযোগ: প্রতিবাদ করায় ফার্মেসি ভাংচুর, ব্যবসায়ীকে হুমকি ও পিটিয়ে জখম

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২৩

ছাতকে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধামাচাপার অভিযোগ: প্রতিবাদ করায় ফার্মেসি ভাংচুর, ব্যবসায়ীকে হুমকি ও পিটিয়ে জখম

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার হায়দারপুর এলাকায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং বিষয়টি গোপন রাখতে অবৈধভাবে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্ত মাওলানা মোশাররফ আলী মিয়াজানি, যিনি স্থানীয় হায়দরপুর ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানা গেছে। অভিযোগে তার ভাই স্থানীয় হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা আশরাফ আলী মিয়াজানির নামও রয়েছে।

এতে বাধা দেওয়ায় এবং প্রতিবাদ করায় সেই ফার্মেসি মালিক কে হুমকির এবং আক্রমণের শিকার হতে হয়। হায়দারপুর বাজারে অবস্থিত “মেসার্স আশরাফুল ফার্মেসি”-এর মালিক, আশরাফুল আলম, এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গত মার্চ মাসে এক ১৬-১৭ বছর বয়সী কিশোরী তার ফার্মেসির ভেতরে চেম্বার করা এক নারী গাইনি চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। পরে জানা যায়, ওই কিশোরীকে অভিযুক্ত শিক্ষক ধর্ষণ করেন।
তখন আশরাফুল আলম দাবী করেন, বিষয়টি প্রকাশ পেলে অভিযুক্ত শিক্ষক চিকিৎসকের ওপর গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। চিকিৎসক রাজি না হওয়ায় তাকে দিয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি এতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করার কথা বলেন।
আশরাফুল আলমের অভিযোগ, এর পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। গত ১২ এপ্রিল ৮–১০ জন ব্যক্তি তার ফার্মেসিতে গিয়ে ভাঙচুর চালায় এবং এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ জুলাই রাত ৮টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি গুরুতর হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে আঘাত করে এবং আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায় বলে তিনি জানান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাকে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় তিনি ছাতক থানায় অভিযোগ করেন। থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে থানা কর্তৃপক্ষের নিকট এ বিষয়ে তিনি এখনো কোনো সাহায্য পান নি।
অভিযুক্ত মাওলানা মোশাররফ আলী মিয়াজানির সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তার ভাই মাওলানা আশরাফ আলী মিয়াজানি কে ফোন করে পাওয়া যায়নি।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আশরাফুল আলমের অভিযোগের বিষয়ে জানত চাইলে তিনি বলেন, “ধৈর্য্য ধারণ করে পুলিশ কে তার কাজ করতে দিতে হবে।” তবে আশরাফুল আলম সহ স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের কারণে পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি ধীরগতির।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..