সিলেট | |
প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট নগরীতে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, শারীরিক হামলা এবং তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইফতেখার রহমান সাদী। তিনি নগরীর বন্দরবাজারস্থ সমবায় ভবনে অবস্থিত “সাদী ইলেকট্রনিকস”-এর স্বত্বাধিকারী।
সম্প্রতি ক্রাইম সিলেট-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইফতেখার রহমান সাদী দাবি করেন, তার ব্যবসা লাভজনক ও পরিচিত হয়ে ওঠার পর থেকেই তিনি একটি চাঁদাবাজ চক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২১ জুলাই ২০২২ তারিখে মাহবুবুল হক চৌধুরী নামের এক রাজনৈতিক নেতা সাদী ইলেকট্রনিকসে যান। সেখানে ব্যবসার উন্নতি ও আর্থিক অবস্থা নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি ইফতেখার রহমান সাদীর কাছে নগদ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
ব্যবসায়ী সাদী এত বড় অঙ্কের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে সাত দিনের মধ্যে টাকা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দেওয়ায় পরবর্তীতে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে ফোন করে গুরুতর পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। পরের কয়েক মাস ধরে তাকে অব্যাহতভাবে হুমকিমূলক ফোন দেওয়া হতে থাকে। এছাড়া তিনি দোকানে উপস্থিত না থাকলেও অভিযুক্তরা দোকানে গিয়ে কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাত বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে। অনুসনধানে আরও জানা যায় গত ১০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে রাতে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের বেধড়ক মারধরে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে স্থানীয় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফ্রিডম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি টানা আট দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ইফতেখার রহমান সাদীর সাথে যোগাযোগে জানান, হামলাকারী দলের সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছিলেন। তাদের মধ্যে আলী আকবর রাজন, হোসাইন খান ইমাদ, কাউসার হোসেন রকি, নাজিম উদ্দিন, রাসেল আহমদ এবং নাসির হোসেনের নাম তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, ওই ব্যক্তিরা মাহবুবুল হক চৌধুরীর সরাসরি সহযোগী।
হামলার ঘটনার পর ২০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে তিনি সিলেট বিমানবন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে যান। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা তার অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন তিনি। উল্টো তাকে বিষয়টি আইনি পথে না গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মীমাংসা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পেয়ে পরবর্তীতে তিনি আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানের শরণাপন্ন হন এবং তার পরামর্শে ১৭ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগ, আদালতে মামলা করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধ হিসেবে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে বা দখলের চেষ্টা চালায়। ক্রমাগত হুমকি ও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কায় থাকায় তিনি বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা কিংবা নিজ বাড়িতে নিরাপদে বসবাস করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ইফতেখার রহমান সাদী বলেন,
“আমি কঠোর পরিশ্রম করে তিল তিল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার শিকার হতে হয়েছে। প্রশাসনের দ্বারে ঘুরেও যখন কার্যকর সহযোগিতা পাইনি, তখন বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি এখন আমার জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা এবং এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
সংবাদটি ক্রাইম সিলেট পত্রিকার অনুসন্ধানী টিমের তদন্তে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd