সিলেটের রায়হান হত্যা: মামলার প্রায় ৭ মাস পর আগামীকাল চার্জশিট

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২১

সিলেটের রায়হান হত্যা: মামলার প্রায় ৭ মাস পর আগামীকাল চার্জশিট

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হান আহমদ হত্যা মামলার প্রায় ৭ মাস পূর্ণ হতে চলেছে। এমন অবস্থায় চার্জশিট কবে আসবে তা নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। এবার সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বুধবার (৫ মে) আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইন্সভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আর দীর্ঘদিন পর চার্জশিট প্রদানের তারিখ পাওয়ায় খুশি হলেও রায়হানের মা সালমা বেগমের আছে অজানা কোন এক ‘শঙ্কা’।

মঙ্গলবার (৪ মে) বিকালে চার্জশিট দেওয়ার তারিখের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদুজ্জামান।

কত জনকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মো. খালেদুজ্জামান বলেন, সকল কাজ শেষ। এখন আগামীকাল আদালতে চার্জশিট জমা দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে চার্জশিট দেওয়ার সংবাদে অনেকটা আশান্বিত আহলেও অজানা শংকায় নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। তিনি বলেন, এতো দিন পর হলেও যে তারা চার্জশিট দিচ্ছে শুনে ভালো লাগছে। কিন্তু চার্জশিট দিলে কি হবে তারা কি দিবে সেটাই আসল বিষয়। এখন চার্জশিট দেওয়া পর বুঝা যাবে তারা কি উল্লেখ করলো। যদি আমরা সন্তুষ্ট না হই তাহলে আইনজীবীদের পরামর্শে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে রায়হানকে নির্যাতনের ফুটেজ ধারণের সিসিটিভির ফুটেজ ধারণ করা হার্ডডিস্ক গায়েব করে আকবরের সাথে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল নোমানকে চার্জশিট দেওয়ার আগে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রায়হানের মা সালমা বেগম। তিনি বলেন, প্রায় ৭ মাস হয়ে যায় আমার ছেলে হত্যার। কিন্তু আগামীকাল তারা চার্জশিট দিচ্ছে। অথচ তারা সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও নোমানকে গ্রেপ্তার করতে পারলো না। নোমানের ব্যাপারে তাদের এতো উদাসীনতা কেন এটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান নামের ওই যুবক। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেক ই এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।

ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

রায়হান হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১২ অক্টোবর তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তের প্রেক্ষিতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। এখন পর্যন্ত ৫ পুলিশ সদস্যসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তার ৬ জন হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, টুআইসি এসআই হাসান আলী, এএসআই আশেক ই এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও ওইদিন ছিনতাইয়ের অভিযোগকারী একজন। তাছাড়া বরখাস্ত অবস্থায় এসআই আব্দুল বাতেন ভুঁইয়া, এএসআই কুতুব আলী ও প্রত্যাহার অবস্থায় কনস্টেবল মো. সজীব হোসেনকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

May 2021
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares