সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:৪২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯
অনেকেই মানুষের সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করতে চান। এমনই সেবামূলক এক পেশা হচ্ছে নার্সিং। এই পেশায় একদিকে যেমন মানুষের সেবা করা যায়, তেমনি ভবিষ্যৎও উজ্জ্বল।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মরত ১৫ নং ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স অনিমা রানী রেলী এর মতো নার্সদের সেবা ও সহযোগীতায়ই বেঁচে আছে সুনামগঞ্জের লালাগাঁওয়ের আল আমিনের স্ত্রী আশেয়া বেগম (২২)।
মানবতা যখন বিপন্নের পথে, সভ্যতা যখন রূপ বদলাতে ব্যস্ত তখনও কিছু পেশার মানুষ মানবতাকে আঁকড়ে ধরে থাকে। শুধু তাই নয়, বিপর্যস্ত মানবিক মূল্যবোধকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে, সমাজটাকে টিকিয়ে রাখতে, সভ্যতাকে ভঙ্গুরতার হাত থেকে রক্ষা করতে আপ্রাণ চেষ্টা তাদের। মানুষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে লিপ্ত হয়েও যারা বলে আমরা আছি জনগণের সাথে। সেই স্বার্থান্বেষী মহলের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এরা বলে- তা বটে- তোমরা জনগণের সাথেই আছ! আমরাও ওদের পাশে আছি। তোমরা আছ জীবন নিতে। আমরা ব্যস্ত ফিরিয়ে দিতে। এই যা পার্থক্য। তোমাদের নোংরা খেলায় আমরা কোনকালে ছিলাম না, এখনো নেই। আমরাও স্বার্থের জন্য জীবন বিলিয়ে দিই। তবে সে স্বার্থ তোমাদের মতো নির্মম নয়।
সেবাই এদের ধর্ম। এদের সেবা থেকে বঞ্চিত নয় কেউই। হোক না সে গরীব-নিঃস্ব, ফকির। তাদের নার্সিং কার্যক্রম শুরু হয় খুব সকাল থেকে। সবাই যখন গভীর সুখনিদ্রামগ্ন, সাত-সকালে সে তখন রান্নাঘরে। পরিবারের সবার চাহিদা মেটানোর সংগ্রামে। শুধু তখনকার নয় দিনের বাকি সময়টুর (যখন কর্মক্ষেত্রে থাকে) সম্ভাব্য সব প্রয়োজনের বন্দোবস্ত তাকেই করতে হয়।
রোগী অর্ধেক সুস্থ হয় এই নার্সদের সেবা-যতেœ। আর অর্ধেক ওষুধ-পথ্যে। মানসিক রোগীদের ক্ষেত্রে আশি শতাংশই সুস্থ হয় নার্সদের কল্যাণে। বিনিময়ে কি পায় এই সেবিকারা? আছেনই বা কেমন তারা?
এমন একটি প্রমাণ মিললো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মরত ১৫ নং ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স অনিমা রানী রেলী এর সাথে। তিনি কথা প্রসঙ্গে প্রতিবেদকের সাথে একটি বিষয় শেয়ার করেন। একটি রোগীকে বাঁচানোর জন্য নার্সরা কি না করে। তা ওই নার্সের কথায় বুঝা গেলো। হাসপাতালের ডেলিভারী ওয়ার্ডে ভর্তি সুনামগঞ্জের লালাগাঁওয়ের আল আমিনের স্ত্রী আশেয়া বেগম (২২) রক্তের অভাবে মৃত্যু পথযাত্রী। তখন ডাক্তার বলছে রোগীর রক্ত না হলে মারা যাবে। আল আমিন কোন রকমে রক্ত সংগ্রহ করতে পারছেন না।
হঠাৎ ১৫ নং ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স অনিমা রায় এমন খবর শুনে সাথে সাথে রোগীকে বাঁচানোর জন্য রক্ত সংগ্রহ করতে শুরু করেন। সর্বশেষ নার্সিং অফিসার আসমা আক্তার ও অফিস সহায়ক শেফালী বেগমসহ অন্যান্য নার্স ওই রোগীকে রক্ত দিয়ে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিলেন।
আমিনের স্ত্রী আশেয়া বেগম বলেন- ১৫ নং ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স অনিমা রানী রেলী আমার নতুন জীবন ফিরিয়ে দিলেন। ওই নার্স যদি সহযোগীতা না করতেন তাহলে হয়তো আজ আমি পৃথিবীর আলো দেখতে পারতাম না। তাই ওই নার্সের সহযোগীতায় অন্যান্য নার্সরা আমাকে রক্ত দিয়ে নতুন জীবন দিলেন। সে জন্য আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ।
আগের দিনে মেয়েরা সহজে এ পেশাটিতে আসতে চাইতো না। যারা আসতে বাধ্য হতো তারাও একধরনের হীনমন্যতায় ভূগত। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে, বিশ্বায়নের ফলে মানুষের জ্ঞানের পরিসীমা বৃদ্ধি পেয়েছে; তৈরী হয়েছে উন্নত মানসিকতার। তাই অনেক নারীই এখন চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে নার্সিংকে বেছে নিচ্ছে। যা আমাদের মাঝে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
সেবিকারা আমাদের মায়ের মত। আমাদের মায়েরা যখন অসহায় হয়ে পড়েন তখন পাঠানো হয় এই সেবিকা মায়েদের কাছে। তাদের ভালবাসা অকাতরে বিলিয়ে দেন আমাদের মায়েদের জন্য। আমরা পারিনা এ মায়েদের উপযুক্ত সম্মান দিতে? তাদের ভালবাসার কিছুটা মূল্য দিতে? অবশ্যই পারি। এজন্য আমাদের সমান্য সদিচ্ছাই যথেষ্ট।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd