বিশ্বনাথে পুলিশের ভয়ে পুরুষ শুন্য মনোকুপা গ্রাম : আতংকে নারীরা

প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৮

বিশ্বনাথে পুলিশের ভয়ে পুরুষ শুন্য মনোকুপা গ্রাম : আতংকে নারীরা

Sharing is caring!

বিশ্বনাথ  প্রতিনিধি  :: বিশ্বনাথ থানা পুলিশের এসল্ট মামলায় অলংকারী ইউনিয়নের মনোকুপা গ্রাম এখন পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে। পুলিশের কাজে বাঁধা ও অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগে এসল্ট মামলা করে পুলিশ। গত রবিবার রাতে বিশ্বনাথ থানার এসআই সুলতানউদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরে পর রাতেই পুলিশ এজাহার নামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। সে উপজেলার মনোকুপা গ্রামের মৃত আলকাছ মিয়ার ছেলে জালাল হোসেন। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
জানাগেছে, স্বামীর পরিবার স্ত্রী-সন্তানকে ঘরে তালাবদ্ধ করে নির্যাতনের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে গত রবিবার দুপুরে উপজেলার অলংকারি ইউনিয়নের মনোকুপা গ্রামের চকম আলীর বাড়িতে এঘটনা ঘটে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এসময় ভিকটিমকে উদ্ধারে পুলিশের কাজে বাঁধা ও পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগে ২৭জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০জনকে অজ্ঞাতনা আসামি করে পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের করে। গত রবিবার রাতে বিশ্বনাথ থানার এসআই সুলতানউদ্দিন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরে পর রাতেই পুলিশ এজাহার নামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। সে উপজেলার মনোকুপা গ্রামের মৃত আলকাছ মিয়ার ছেলে জালাল হোসেন।
এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার মনোকুপাা গ্রামের আবদুর রউফের ছেলে আলী হোসেন ও তার স্ত্রী ফারহানা বেগমের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। প্রতিনিয়ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। গত রবিবার দুপুরে স্বামীর পরিবার কর্তৃক ফারহানা বেগম ও তার আট মাস বয়সি শিশুপুত্র আলী আনহারকে শ্বশুড় বাড়ির লোকজন বাড়িতে তালাবদ্ধ করে মারপিট করে। এমন অভিযোগ এনে গত রবিবার সকালে ফারহানা বেগমের ভাই জয়নালউদ্দিন বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার এসআই সুলতানউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এসময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য চকম আলী ও ফারহানা বেগমের ভাই জয়নালউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিম ফারহানা বেগম ও তাহার শিশু পুত্র আলী আনহারকে উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে তার ভাইদের কাছে দেয়।
এসময় ভিকটিম ও তার শিশুপুত্রকে নিয়ে আসার পথে বাড়ীর রাস্তার মুখে স্বামীর বাড়ির পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন চিৎকার চেচামেচি করে লোকজনের সমাগম ঘটায় ও পুলিশের পথরোধ করে এবং পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা প্রদান করে। এরই মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ফারহানা বেগমের স্বামীর পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি ঘোলাটে করার লক্ষ্যে উদ্দেশ্য প্রনোধিত ভাবে পুলিশের উপর আক্রমন করে। এতে তাৎক্ষনিক পুলিশ লাঠিচার্জ করে নিয়ন্ত্রন আনে। এসময় ভিকটিম ফারহানা বেগম (২৫) তাহার শিশু পুত্র আলী আনহার (৮মাস) উদ্ধার করে ভিকটিমের বড় ভাই জয়নালউদ্দিন ও সানোয়ার রহমানের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। তাহাদের সঙ্গে থাকা স্থানীয় চমক আলী মেম্বারকে শারীরিকভাবে মারধর করে তাকে অন্য এক বাড়ীতে লুকিয়ে রাখে। পুলিশের সঙ্গে থাকা অটোরিকশা (সিএনজি নং-মৌলভীবাজার-থ-১১-৪৪৮৬) এর সামনের হেড লাইট এবং ডান পাশের সিগন্যাল লাইটসহ হেডলাইটের সাথে বাম্পার ভাঙ্গিয়া অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে চমক আলী মেম্বারকে অভিযুক্ত ছিদ্দেক আলীর বসত বাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয়। এজাহার নামীয় অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের আক্রমনে থানার এসআই সুলতানউদ্দিন ও এএসআই পরিমল চন্দ্র শীল, কনস্টেবল রাজু, স্থানীয় ইউপি সদস্য চমক আলী, অটোরিকশা চালক বদরুল ইসলাম আহত হন। পরে থানা পুলিশের অফিসার ফোর্সের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে এবং ঘটনায় আহত সকলেই বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এব্যাপারে কয়েকজন অভিযুক্ত জানান, আমাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। মিথ্যা অভিযোগে এনে পুলিশ এলাকার নিরীহ লোকজনকে হয়রানী করার জন্য তাদের আসামি করে মামলা করেছে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করার তারা দাবি জানান।
ঘটনা ও মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা সাংবাদিকদের বলেন, মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares