পাপিয়ার সিন্ডিকেটে তরুণীরা!

প্রকাশিত: 3:09 AM, January 2, 2018

ক্রাইম ডেস্ক : পাপিয়া! যে নামটি শুনলেই কেঁপে ওঠেন মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার মানুষ। তার অবস্থান জানতে পারলে পুলিশ ছুটে যায় গ্রেপ্তার অভিযানে। এক সময়ের বস্তির মেয়ে পাপিয়া আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। নামে-বেনামে রয়েছে অনেক সম্পদ। তবে এসব করতে গিয়ে নামের আগে জুটেছে মাদকসম্রাজ্ঞী বিশেষণ। অস্ত্র ও মাদক জগতের পরিচিত মুখ পাপিয়া মাদক ব্যবসা করতে গিয়ে হয়েছেন একাধিক মামলার আসামিও। কারাগারেও গেছেন একাধিকবার। তবে কখনোই তাকে বেশিদিন জেলখানায় থাকতে হয়নি। কারণ পর্দার আড়ালে রয়েছে তার আশীর্বাদদাতারা। যারা মাদক বিক্রির টাকার একটি বড় অংশ পেয়ে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরী পাপিয়া নিজের রুপ-যৌবন আর অর্থ ব্যবহার করেই প্রভাবশালীদের সুনজরে থাকছেন। এসব প্রভাবশালীরাই পাপিয়াকে জামিন পাইতে সহায়তা করেন। জামিনপ্রাপ্ত পাপিয়া যেন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। নিজের গড়া মাদক সিন্ডিকেট আরো শক্তিশালী করেন। নতুন করে তার বাহিনীতে সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি নাম লিখিয়েছে অনেক তরুণী। যাদের কাজ মাদক বিক্রি, হামলা ও তরুণীদের দিয়ে প্রতিপক্ষকে অথবা মাদক ব্যবসায় বাধা দিতে আসা সাধারণ মানুষকে মামলায় ফাঁসানো।
পাপিয়ার মাদক সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় মোহাম্মদপুর আর আদাবরের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, ইকবাল রোড, পুরান থানা রোড, জহুরি মহল্লা, জয়েন্ট কোয়ার্টার, টিক্কাপাড়া, কৃষি মার্কেট, পাকা ক্যাম্প, পিসিকালচার ও শেখেরটেকের মানুষ এককথায় জিম্মি তার অস্ত্রধারী বাহিনীর কাছে। পাপিয়ার সিন্ডিকেট ওইসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। আনুমানিক ২৩-২৪ বছরের পাপিয়ার পুরো নাম ফারহানা আক্তার পাপিয়া। বেড় ওঠা মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার জয়েন্ট কোয়ার্টারে। হাইস্কুলে পড়তে গিয়ে জেনেভা ক্যাম্পের মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন ওরফে পাচুর সঙ্গে প্রেম। পরে বিয়ে। বউ হয়ে আসেন পাচুর জেনেভা ক্যাম্পের বাসায়। নারীদের দিয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসায় অনেক সুবিধা। তাই স্ত্রী পাপিয়াকে যুক্ত করেন এ ব্যবসায়। অল্পদিনেই পারদর্শী হয়ে ওঠেন সুন্দরী পাপিয়। অবৈধ মাদক ব্যবসায় নিজের রুপ যৌবনও কাজে লাগায়। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পাপিয়া যুক্ত করেন আরো অনেক তরুণীকে। এক সময় নিজেই হাল ধরেন। গড়ে তোলেন পাপিয়া সিন্ডিকেড। হয়ে ওঠেন মাদক সম্রাজ্ঞী। তার অবৈধ মাদক ব্যবসা বিস্তৃতি পায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। এক সময় শুধু হেরোইন ও গাঁজা বিক্রি করতেন। পরে শুরু করেন ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি। গ্রেপ্তার পরবর্তী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া জানিয়েছে, চট্টগ্রামের হোসাইন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী তার ভাসুর রাহীর কাছে ইয়াবা পৌঁছে দিতো। পরে সেগুলো স্বামী পাচু ও নিজে মিলে রাজধানীতে ছড়িয়ে দিতেন। এছাড়া নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, আদাবর, শ্যামলী ও মিরপুর এলাকার বিক্রি করতেন। বছর তিনেক আগে জেনেভা ক্যাম্পের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার হন পাপিয়া ও তার ভাসুর রাহী। কিন্তু কিছুদিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ক্যাম্প ছেড়ে বাসা নেন শ্যামলী হাউজিং সোসাইটিতে। সর্বশেষ গত বছরের ৪ ডিসেম্বর আদাবরের শেখেরটেকের শ্যামলী হাউজিং সোসাইটির বাসা থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় পিস্তল ও বিপুল ইয়াবা ট্যাবলেট ও কিছু হেরোইন উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া স্বীকার করেছিলেন, তিনি মাদক বেচাকেনার সময় নিরাপত্তার জন্য পিস্তল সঙ্গে রাখতেন। বর্তমানে মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার বিভিন্ন স্পটে পাপিয়া বাহিনী মাদক বিক্রি করছে। কেউ বাধা দিলেই পাপিয়ার লালিত সন্ত্রাসী সেখানে হামলা চালায়। জেনেভা ক্যাম্প, পাঁচ তলা ক্যাম্প ও কৃষি মার্কেট এলাকায় তার ক্যাডররা বিচরণ করে। কেউ বাধা দিলেই ক্যাডার বিভিন্ন দিক থেকে হামলা চালায়। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে চিহ্নিত অনেককে গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..