সিলেটে করোনা হাসপাতালে আইসিইউ’র জন্য হাহাকার, সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন?

প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২১

সিলেটে করোনা হাসপাতালে আইসিইউ’র জন্য হাহাকার, সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন?

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে বেড়েই চলছে করোনা সংক্রমণ। প্রতিদিন চারটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছেন শতাধিক। আক্রান্ত সনাক্তের পাশাপাশি বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও। সিলেটে অন্য কোন সরকারি করোনা হাসপাতাল না থাকায়।করোনা ডেডিকেটেড ‘শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে’ ঠাঁই মিলছে না রোগীদের। ১০০ শয্যার হাসপাতালটি সবসময়ই রোগীতে থাকছে পূর্ণ। সাধারণ শয্যা বা আইসিইউ খালি নেই কোথাও। বিশেষ করে আইসিইউ’র জন্য চলছে হাহাকার। দুই হাজার টাকা দিয়েও সিট পাচ্ছে না রোগীরা। সিট খালি না থাকায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে আসা মুমূর্ষু রোগীদেরকেও ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। যার ফলে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে।

কিন্তু শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডের সেবা মান রোগীর স্বজনদের মধ্যে নানাবিধ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইসিইউতে ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। সম্পতি কয়েকটি নেউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়া পর বর্তমানে কিছুটা হলেও দায়িত্বশীল হচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে নামে মাত্র।

হাসপাতালে প্রবেশের সময় রোগীর চোঁখে পড়ে একটি কুকুরকে। তখন কুকুর দেখে রোগী ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে কোন ভাবে রাজি হননি। এসময় রোগী বলেন, এখানে কুকুর থাকে আমার চিকিৎসা করবে কে?। হাসপাতালে নেই কোন সিকিউরিটি গার্ড, নেই কোন নাইট গার্ড। এভাবে বেশির ভাগ সময় দায়িত্ব অবেহেলায় পড়ে থাকে হাসপাতালটি। রাত হলেই হাসপাতালের ভিতর জমে উঠে ছিনতাইকারীদের আড্ডা। ইমার্জেন্সী গেইট থেকে হাসপাতালের ভিতর দিয়ে ফার্মেসী যাতায়াতের রাস্তায় বসে থাকে ছিনতাইকারীর দল।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. ব্রিগে: জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার পরিদর্শনে আসার খবরে হাসপাতালের একটু হলেও দায়িত্বশীল হন স্টাফরা। কিন্তু তা কতো সময়। ওসমানীর পরিচালক ও উপ-পরিচালকের কঠোরতায় এখনও সেবা নিতে পারছেন রোগীরা। এই কর্মকর্তারা একটু নিরব হলেই অবহেলায় পড়ে থাকে হাসপাতালটি।

জানা গেছে, গত এক সাপ্তাহে আইসিইউ ওয়ার্ডে ১৭ জন রোগী ভর্তি হন এর মধ্যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত (৭ এপ্রিল) বুধবার রাতে আইসিইউ ওয়ার্ডের ৩নং বেডে চিকিৎসাধীন অবস্তায় মৃত্যুবরণ করেছেন একজন রোগী। কিন্তু মৃত্যুর ঘন্টা খানেক আগ থেকে রোগীর অবস্তা খারাপ এবং পেশার কমে যায়। এমন অবস্তা দেখে স্বজনরা বার বার আইসিইউ’র দায়িত্বে থাকা একজন ডাক্তারকে বলেন রোগীর পেশার ৫০-৩৫। কিন্তু ডাক্তার তাদের বলেন আমি রাউন্ডে গেলে দেখবো। এই অবস্তায় প্রায় ৩০ মিনিট পার করলেন ডাক্তার। পরে স্বজনরা বুঝতে পারেন রোগী আর বেঁচে নেই। এরপরও ডাক্তার রোগীকে দেখার প্রয়োজন বোধ মনে করেননি। অনেক সময় পর ওয়ার্ডে থাকা নার্সদের কথায় এসে রোগীর ইসিজি পরিক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। এই হলো শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডের রোগীদের সেবার মান। দালাল মিডিয়া গুলোর সেবার মান নিয়ে প্রচারণা দেখে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ভর্তি করে হয়ে এখন কবরবাসী। এই হলুদ সাংবাদিকরা টাকার বিনিময় অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করে দালালী করে যাচ্ছে। হলুদ সাংবাদিকদের জন্য শুধু হাসপাতালে নয় বাড়ছে সর্ব স্থানে অনিয়ম।

Manual7 Ad Code

এদিকে সিলেট বিভাগের চার জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউ বেড রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬টি ও মৌলভীবাজার হাসপাতালে ৫টি। বিভাগের সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ’র ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসার মান ও সেবা ভাল হওয়ায় করোনা আক্রান্ত বা করোনার লক্ষণযুক্ত রোগীর অবস্থা খারাপ হলেই নিয়ে আসা হয় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।

আইসিইউ ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি করার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দুই হাজার টাকা ফ্রি দিতে হয়। টাকা নিয়ে ঠিক মতো রোগীদের সেবা দেননি তারা। তাছাড়া আইসিইউ ওয়ার্ডে রোগীদের সুস্থতার সংখ্যার চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। গত এক সাপ্তাহে আইসিইউ ওয়ার্ডে ৮ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়ে ফেরা কম রোগীর ভাগ্যে জুটে। হাসপাাতাল ও রোগীর স্বজনদের সাথে আলাপ কালে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র হাসপাতালের আইসিইউতে রোগীর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে গ্রহণের কথা স্বীকার করে সংবাদিকদের বলেন, আইসিইউ-এর যন্ত্রপাতি সচল রাখতে এবং অতিরিক্ত ব্যায় নির্বাহের নিমিত্তে এ টাকা গ্রহণ করা হয় এবং এ খাতেই তা’ ব্যয় করা হয়ে থাকে। কোন রসিদ দেওয়া না হলেও একটি খাতায় হিসাব রাখা হয় এবং কর্তব্যরতরা এর হিসাব ম্যান্টেইন করে থাকেন। তবে এই টাকা নেয়ার আইনগত কোন বৈধতা নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন।

জমা হওয়া টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই খাতে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক নেহারি রাণী দাশ এর কাছে জমা ছিল। কিন্তু এখন তিনি টাকা হারিয়ে গেলে বলে দাবী করছেন। একারনেই এই টাকা এখন পাওয়া যাচ্ছেনা।

Manual3 Ad Code

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু রঞ্জন দাস সংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি মেরামত করার জন্য ডিসচার্জ হওয়া রোগীরা স্বেচ্ছায় কিছু টাকা দিয়েছেন বলে আমি শুনেছি। গত সপ্তাহেই প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি মেরামত করা হয়েছে। ফান্ডে টাকা নেই, এখন কিভাবে এই ব্যায় পরিশোধ করা হবে। অথচ রোগী ভর্তির আগে দুই হাজার টাকা জমা দিয়ে হচ্ছে।

অতিরিক্ত খাবার বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ডাক্তাররা ডিউটি করেন। তাদের তো খাবারের প্রয়োজন হয়।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. ব্রিগে: জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার সংবাদিকদের বলেন, আমি তাদেরকে বলেছি কোন করোনা রোগী যদি ডিসচার্জের সময় স্বেচ্ছায় ১০০০/২০০০ টাকা ডোনেট করে তবে নেয়ার জন্য। এবং এজন্য একটি রেজিষ্ট্রার ম্যান্টেইন করার জন্য। কেউ স্বেচ্চায় না দিলে তাকে জোর করা যাবেনা, এমনকি প্রতিদিনও এই টাকা নেয়া যাবেনা।

Manual2 Ad Code

রোগীদের কাছ থেকে টাকা রাখান কোন সরকোরী বিধান নেই জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের ৪টা মেশিন খারাপ ছিল। এই টাকা দিয়ে এগুলি মেরামত করা হয়েছে। আইসিইউতে নতুন করে ২টি বেড বাড়ানো হয়েছৈ। ২টি ভ্যন্ডিলেটর মেশিন নষ্ট ছিল, তা মেরামত করা হয়েছে। সরকারকে এসব বিষয় বললে তিন মাসেও মেরামত করা সম্ভব হত না। এই হাসপাতালে এখন ১৬টি আইসিইউ বেডই এখন স্বচল।

Manual2 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..