সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৯
স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকায় গড়ে উঠেছে অপরাধে স্বর্গরাজ্য। অবৈধ টাকা কামানোর জন্য কিছু প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা প্রশাসনকে ম্যনেজ করে এ সকল অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। দিন দিন যেমন অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে তেমনি ধ্বংস হচ্ছে স্থানীয় যুব সমাজ।
জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমা ক্বীং ব্রীজের নিচে শফিক মিয়ার কলোনী ও সুইপার কলোনীতে দীর্ঘ দিন থেকে চলছে মাদক , জুয়া, পতিতা ও ভারতীয় শীলং তীরে আসর। এ ছাড়া ওই কলোনিগুলোতে ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন কেনা হয়।
এখানে পতিতা ব্যবসা থেকে শুরু করে সর্ব প্রকার নেশাজাতীয় দ্রব্য যেমন গাজা, চোলাই মদ, বিদেশী মদ, ইয়াবা ট্যাবলেট, ডেন্ডি ও ফেনসিডিলসহ এমন কোনো নেশাদ্রব্য নেই যা এখানে পাওয়া যায়না। পাশাপাশি চলে শিলং তীর, তিনতাশ নামক জুয়া খেলা, পকেটচুর ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন কেনা বেচার নিরাপদ অবয়াশ্রম। এখানে দিন রাত প্রকাশ্যে মাদক কেনা বেচা চলছে।
এই দুই কলোনী ছাড়াও রয়েছে কদমতলী বালুর মাঠের মুজিব মিয়ার কলোনী যে খানে মদ, নারী ও তাস তিনই নিয়মিত চলছে। রেলওয়ে স্টেশন, পুরান স্টেশন, কুমিল্লা পট্রি, জিঞ্জিরশাহ মাজারের এলাকায়ও শীলং তীর ও নিয়মিত মাদক কেনা বেচা হয়। বর্তমান সরকার যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে রিতীমত জেহাদ ঘোষনা করেছেন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন, সেখানে সিলেট দক্ষিণ সুরমার উক্ত স্থান গুলোতে মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ভার্থখলা এলাকা সংলগ্ন সুরমা নদীর তীর ঘেসে বিভিন্ন কলোনীতে মাদকের অবয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত হয়েগেছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমার অনেকে।
প্রত্যেক্ষ দর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে সফিক মিয়ার কলোনীর নাজমা আক্তার নাজু, রহিমা, মায়া, ইসলাম, সুফিয়া, কমরুনের ছেলে আব্দুল করিমসহ অনেকে মিলে বিভিন্নভাবে মাদক ও জোয়ার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাদক ব্যবসায়ী বলেন, তারা দক্ষিণ সুরমা থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও নামধারী কিছু সাংবাদিককে নিয়মিত উৎকুচ দিয়ে তারা তাদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
মাঝে মধ্যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) ও ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করেন এবং আটক ও করেন। অভিযানের পর কিছু দিন বন্ধ থাকলেও জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে তারা পুণরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।
এলাকার কোন লোকজন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। প্রতিবাদ করলে স্থানীয় কিছু খারাপ ও নেশাগ্রস্থ লোক দিয়ে ফোনে প্রতিবাদী লোকজনকে হুমকি ধমকি দিয়ে থাকেন এই অবৈধ ব্যবসায়ীরা।
ভার্থখলা এলাকার স্থানীয় বাসিন্ধা কৃষি, পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ ও সদর দক্ষিণ নাগরীক কমিঠির তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক মো: আব্দুল হাই আজাদ বাবলা বলেন, এদের কারনে আমাদের এলাকার বদনাম হচ্ছে, আমরা সদর দক্ষিণ নাগরীক কমিঠির দাবীর ভিতরে এই এলাকাটি রেলওয়ের সুইপার কলোনী অন্যত্র সরিয়ে নিতে প্রশাসন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও রেলওয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি এবং অনেক প্রতিবাদ সমাবেশ ও করেছি কাজের কাজ কিছুই হয়না।
স্থানীয়রা বলেন, সুরমা নদীর অন্য তিন পারের অবস্থা ঠিক তদরুপ ছিলো কিন্তু বর্তমানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে দর্শনার্থীরা সকাল, বিকাল, সন্ধ্যায় এখানে সুরমা নদীর সুন্দর্য্য উপভোগ করেন। দুঃখজনক হলেও সত্য এই অংশের সুন্দর্য্য বর্দনের কাজটি প্রকল্পের আওতাধীন থাকলেও অজানা কারনে সমাজের কলঙ্খিত কিছু রুই, কাতলার ইশারায় বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। এই কলোনীগুলোর একশ গজের ভিতরে সিলেটর নামকরা ভার্থখলা জামেয়া নুরিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা, ভার্থখলা জামে মসজিদ তৎসাথে ভার্থখলা পঞ্চায়েতি ঈদগাহ ও মসজিদ বাজার এর উপর বিচরণ ও উৎপাৎ করে সুইপারদের খাদ্য তালিকার পশুগুলো।
ব্যবসায়ীরা বলেন, এইসব মাদক ব্যবসায়ীর ব্যবসা ও দুস্কৃতিকারীর আনাগুনা যাতে বন্ধ হয় সে ব্যপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন এবং এই মরণনেশার হাত থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
এ ব্যপারে দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনর্চাজ খায়রুল ফজল বলেন, এখানে আমরা বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে থাকি, এটা আমার নজরে আছে আমি বিষয়টি দেখতেছি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd