সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯
স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেঁতলী ইউনিয়নের ধরাধরপুরে পাওয়া সেই নবজাতক এখন বাগবাড়ীর ছোটমনি নিবাসের বাসিন্দা। দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় অবৈধ মেলামেশায় জন্ম নেয়া নবজাতককে রুবী বেগমের কাছ থেকে উদ্ধার করে ছোটমনি নিবাসের তত্ত্বাবধানে রেখে আসে।
ধরাধরপুরের জামাল মিয়ার কলোনীতে বসবাসকারী রুবী বেগম কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতককে নিজের ঘরে নিয়ে মা’র স্নেহে লালনপালন করে তার চিকিৎসা করান। সেই কারণে তাকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাঁড়ার চাপ দেয়া হচ্ছে। রুবীর পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তেঁতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলীর বাড়িতে স্বামী পরিত্যক্তা পাঁচ সন্তানের জননী হাজেরা বুয়ার কাজ করতেন।
সেই সুবাদে মেম্বারের ছেলে শহীদের সাথে হাজেরার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। অবৈধ সম্পর্কে ফুটফুটে পুত্রসন্তান মেম্বারের কলোনীতে ১১ ডিসেম্বরে কোনো এক সময় জন্ম নেয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের স্বীকারোক্তির অডিও ও ভিডিও রেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর হাজেরাকে তেলিবাজারে অবস্থিত আলী মেম্বারের মালিকানাধীন কলোনী থেকে সরিয়ে বলদী এলাকায় ও নবজাতক জন্মদানে সহায়তাকারী দাই মহিলা কলোনীর বাসিন্দা আহাদের স্ত্রী শাফিয়া উরফে লালিকে ছাতকে রাখা হয়েছে। আর মুখ না খুলতে প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শহীদের পরিবার একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করায় সেই প্রভাবশালীরা যে কোনো কিছুর বিনিময়ে পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে দশদিন অতিবাহিত হয়েছে। ন্যাক্কারজনক বিষয়টি নিয়ে পুলিশের মাথাব্যথা না থাকায় অনেকে বলছেন তারাও নাকি অনেকটা ম্যানেজ হয়ে গেছেন। যদিও পুলিশ বলছে কেউ লিখিত অভিযোগ না করায় তারা অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পারছেন না। দক্ষিণ সুরমা থানার সেকেন্ড অফিসার রিপন দাস জানান, আদালতের নির্দেশে শিশুকে উদ্ধার করে বাগবাড়ীর ছোটমনি নিবাসে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিলম্বে হলেও ঘৃণ্য অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, অবৈধ সম্পর্কে শিশুটির জন্ম হলে পুরাতন কাপড়ে মোড়ে গত ১১ ডিসেম্বর ধরাধরপুর এলাকার হযরত আরকুম শাহ (রহ:) মাজার সংলগ্ন ক্ষেতের জমির ঝোপঝাড়ে কোনো এক সময় ফেলে দেয়া হয়। সকালে খেলতে যাওয়া শিশুরা নবজাতকের নড়াচড়া করতে দেখে অন্যদের দেখায়। তখন জানা জানি হলে জামাল মিয়ার কলোনীর ভাড়াটিয়া সিএনজিচালক সুহেল মিয়ার স্ত্রী রুবী বেগম নবজাতককে তার ঘরে নিয়ে লালনপালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখ বন্ধ রাখতে দেখানো হচ্ছে ভয়ভীতি। নানাভাবে দেয়া হচ্ছে হুমকি। ঘটনার কয়েকজন সাক্ষীকে অন্যত্র চলে যেতে চাপ প্রয়োগও করা হচ্ছে। নবজাতকের জন্মদাতা প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি অতি উৎসাহী মহলকে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd