সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : কনকনে শীতের রাত। ঘড়ির কাঁটায় তখন ১২টা পেরিয়েছে। হিম শীতল বাতাসে তখন প্রাণ জবুথবু। সারাদিনের কাজের ক্লান্তির পর পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ঘরে কোনো মতে ঘুমিয়ে পড়েছেন বেদে সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো।
প্রচণ্ড শীতের প্রকোপ থেকে আত্মরক্ষার জন্য তাদের নেই ন্যুনতম শীতবস্ত্র। বেদে পল্লীতে তখন গভীর রাতের নিস্তব্ধতা। এমন সময় হঠাৎ বেদে পল্লীদের দরজায় কড়া নাড়িয়ে একজন বললেন ইউএনও স্যার আপনাদের জন্য কম্বল নিয়ে এসেছেন।
কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার মিরপুরে বেদে সম্প্রদায়ের কষ্ট দেখতে বের হন নবাগত বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিগ্ধা তালুকদার।
এ সময় তিনি উপজেলার মিরপুর বাজারের অসহায়, দুঃস্থ, শীতার্ত ৫০টি বেদে পরিবারে কম্বল দেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এই কম্বলগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এমন সময় মিরপুর মাছের বাজারের পাশে অবস্থিত বেদে পল্লীর আব্দুর রহমানের ঘরের দরজায় কড়া নাড়লেন ইউএনও। ঘুম ঘুম চোখে ঘরের দরজা খুলেন আবদুর রহমান।
তখন পরম মমতায় কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে রহমানকে কম্বল দেন নবাগত ইউএনও সিগ্ধা তালুকদার। আব্দুর রহমানের মত বেদে পল্লীর মাছের বাজার, মিরপুর পাইলট স্কুলের পিছনের বেদে পল্লীসহ ৫০টি পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দ হওয়া কম্বল।
গভীর রাত পর্যন্ত সড়কে গাড়ি দাড় করিয়ে বাজারে থাকা ছিন্নমূল মানুষদেরকেও কম্বল বিতরণ করেন তিনি। এ সময় বেদে সম্প্রদায়ের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তিনি কথাও বলেন।
কম্বল পাওয়া বেদে সম্প্রদায় আয়েশা বলেন, ‘হঠাৎ দরজার সামনে লোকজন ডাকছে। দরজা খুলে দেখি ইউএনও স্যার আমাদের জন্য কম্বল নিয়ে এসেছেন। উনি আমাগো দুখের কথা চিন্তা করি কম্বল নিয়ে আইছে। এখন শীতের জ্বালায় আমরা মরমু না।’
এসময় ইউএনওর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্রিস্টফার হিমেল রিছিল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিষ কর্মকার প্রমুখ।
বাহুবলের নবাগত ইউএনও সিগ্ধা তালুকদার বলেন, উপজেলায় প্রচণ্ড শীত পড়েছে। মানবতাবোধ থেকেই কাজটি করেছি।
উল্লেখ্য, তিনি গত ১৭ই ডিসেম্বর এ উপজেলায় যোগদান করেন। তিনি ৩০তম বিসিএস ক্যাডার। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার গাভীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
এ উপজেলায় যোগদানের আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি বিবাহিত জীবনে এক কন্যা সন্তানের জননী।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd