বিজয় দিবসের জন্য হবিগঞ্জের ইউএনওর চাঁদা দাবি

প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

বিজয় দিবসের জন্য হবিগঞ্জের ইউএনওর চাঁদা দাবি

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ম্যাগাজিন প্রকাশের নামে ব্যবসায়িদের কাছে চাঁদা দাবি করেছেন বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা হক। চাঁদা না পেয়ে বিভিন্নভাবে ব্যবসায়িদের হয়রাণী করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ব্যবসায়িদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জরিমানা প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন উপজেলার বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়িরা।

অভিযোগে জানা যায়, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা হক বিভিন্ন ব্যবসায়িদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। এরমধ্যে একজন বাহুবল উপজেলা ব্রিকস্ ফিল্ড সমিতির সভাপতি হাজী মো. দুলাল মিয়া। আয়েশা হক এই ব্যবসায়ির কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

দুলাল মিয়ার অভিযোগ- বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা হক বিভিন্ন সময় এলাকার ব্যবসায়িদের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিদা গ্রহণ করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১২/১৩ দিন আগে ব্যবসায়ি নেতা আছকর আলীর মোবাইল দিয়ে দুলাল মিয়ার সাথে কথা বলেন ইউএনও। এ সময় তিনি বিজয় দিবস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ম্যাগাজিন প্রকাশের জন্য দুলাল মিয়ার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাৎক্ষণিক দুলাল মিয়া সহযোগিতা করার প্রতিশ্র“তি দেন। কিন্তু গত দুইদিন ধরে ইউএনও আয়েশা হক তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল ফোন দিয়ে দুলাল মিয়ার কাছে বারবার ফোন করেন। দুলাল মিয়া তার (ইউএনও) ফোন রিসিভ না করায় তিনি সিওকে দিয়েও একাধিকবার ফোন করিয়েছেন। কিন্তুএত টাকা দেয়ার সামর্থ না থাকায় দুলাল মিয়া তাদের ফোন রিসিভ করেননি।

দুলাল মিয়া আরও অভিযোগ করেন- টাকা না দেয়ার কারণে ব্যবসায়িদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন আয়েশা হক। রোববার বিকেলে বিভিন্ন ব্রিকস্ ফিল্ডে অভিযান চালান তিনি। এ সময় মোটা অংকের টাকা জরিমানা করা হয়।

বাহুবল উপজেলা ব্রিকস্ ফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো. দুলাল মিয়া বলেন- ‘বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু এত টাকা আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব না। তাই তিনি বারবার ফোন করলেও আমি ফোন রিসিভ করিনি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। যার ফলে তিনি আমার ইটভাটা ‘সামিম ব্রিকস’এ অভিযান চালান। আমার প্রতিষ্ঠানের সকল কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এছাড়াও আমার আত্মিয়-স্বজনদের ইটভাটায় মোটা অংকের টাকা জরিমানা করেন।’ এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিবেন বলেও তিনি জানান।

দুলাল মিয়া বলেন- ‘ইউএনও আয়েশা হক শুধু বিজয় দিবস উপলক্ষে চাঁদা দাবি করেননি। বিভিন্ন সময় তিনি উন্নয়ন কাজে বাঁধা সৃষ্টি করেন। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অসহায় দরিদ্র শ্রমিকদের জেল-জরিমানা প্রদান করেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শ্রমিক নেতা আছকর আলী বলেন- ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার জন্য আমার মোবাইল দিয়ে ইউএনও দুলাল মিয়ার কাছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চান।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা হক বলেন- ‘হবিগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধোদের নিয়ে একটি বিশেষ ম্যাগাজিন প্রকাশ করার জন্য আমরা বিজ্ঞাপণ বাবদ টাকা চেয়েছি। কোন ধরণের চাঁদা দাবি করা হয়নি। এছাড়া উন্মোক্ত সভার মাধ্যমে এই টাকা চাওয়া হয়েছিল।’

তবে গত দুইদিন তিনি ব্যবসায়ির কাছে একাধিক ফোন করার বিষয়টি স্বিকার করে তিনি বলেন- ‘আমি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেয়ার জন্য ফোন করছিলাম। সব সময় টাকার জন্য ফোন করেছি সেটা নয়।’

সাংবাদিকের বিভিন্ন প্রশ্নের এক পর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এ সময় চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বিকার করে বলেন- ‘আমরা কোন পরিবেশ দূষণকারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করব না। জেলা প্রশাসন থেকে পরিস্কার বিষয়টি আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। প্রয়োজনে সরকারি কোষাগার থেকে ম্যাগাজিনের খরচ বহন করা হবে।’

অভিযোগ করে ইউএনও বলেন- ‘দুলাল মিয়া শুধু একজন ব্যবসায়ি নন। তিনি আমার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারও। কাজের জন্য আমি অনেকবার তাকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।’

তিনি বলেন- ‘দুলাল মিয়া বাহুবল উপজেলা ব্রিকস্ ফিল্ড সমিতির সভাপতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ইটভাটাগুলোতে অভিযান চালানোর কারণে তিনি আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কথা বলছেন।’

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

December 2019
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..