সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
এম. এ. মতিন, গোয়াইনঘাট :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় শিক্ষার গুনগত মান বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল। উপজেলায় নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয় গুলোর গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্টান একাধিক বার পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের ফলে তাঁর নিকট চলে আসে একাডেমিক ভবন সমস্যা , শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ একটি থালিকা। এছাড়াও বিদ্যালয়ের মধ্যে পাঠ চলাকালীন সময়ে শিক্ষকদের হাটবাজারে চলাফেরার অভিযোগ। তিনি অতি সুকৌশলে সমস্যা জর্জরিত বিদ্যালয় গুলো একাধিক বার পরিদর্শন করে শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। ঝরে পড়া শিক্ষার্থদের পুনরায় বিদ্যালয় মুখি করতে নানা সভা সমাবেশ ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মাসিক সভায় এ্যাডভোকেসী করে অভিভাবকদের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। ফলে গোয়াইনঘাট উপজেলায় দিনে দিনে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ক্ষমতে থাকে। সরকারি নিয়মানুযায়ী বিদ্যায়লয় গুলোতে আগমন ও প্রস্থানের উপর তিনি গুরুত্ব দিয়ে কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া উপজেলা সদরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর ভাবে নজরদারি বৃদ্ধি করে সফলতা অর্জন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকে তিনি প্রাদান্য দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের অত্যাধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়তে প্রানপণ চেষ্টা চালিয়ে অনেকটা সফলকামী হন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বিদ্যালয় গুলোর একাডেমিক ভবন নির্মাণ, সংস্কার, মেরামতসহ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা গুলো সমাধানের জন্য আন্তরিক ভাবে কাজ করেন। প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে জনসচেতনতা মূলক সভার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত জাতিয় দিবস গুলো যথাযথ সম্মান পালনের কঠোরভাবে নির্দেশনা তামিল করান, তিনি প্রত্যেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কনেন্ট তৈরি করে পাঠদানের উপর গুরুত্ব দিয়ে মাল্টিমিডিয়ার ব্যাবহারে সকল শিক্ষকদের উৎসাহিত করে তুলেন। ক্ষুদ্র, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের আলাদা সম্মানী ভাতা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষায় উৎসাহিত করে তিনি সহযোগিতা মুলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করেন। জাফলং চা বাগান, গুলনী চা বাগান ও ফতেহপুর চা বাগানের শ্রমিকদের ছেলে মেয়েদের শিক্ষায় এগিয়ে আনতে বাগান গুলোতে তিনি বেশ কয়েকটি জনসচেতনতা মূলক সভা করে জন সচেতনতা সৃষ্টি করেন। ফলে ওই বাগানের শ্রমিক পরিবার গুলিতে দিনে দিনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও তিনি উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাফলং চা বাগানের শ্রমিকদের ছেলে মেয়ে ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ছেলে – মেয়েদের জন্য মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষন কেন্দ্র প্রতিষ্টা করেন। ফলে প্রায় দুইশো জন শিক্ষার্থী ওই প্রতিষ্টান থেকে কম্পিউটার কম্পোজ, সেলাই প্রশিক্ষন, বটিকাসহ নানা প্রশিক্ষণ গ্রহন করে স্বাভলম্ভী হয়েছেন।
গোয়াইনঘাট ইমরান আহমদ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্টায় রয়েছে তার এক অনন্য অবদান, ইমরান আহমদ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হওয়ায় গোয়াইনঘাট উপজেলায় নারী শিক্ষার নব জাগরন সৃষ্টি হয়। ইউএনও বিশ্বজিত কুমার পালের প্রচেষ্টায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হাওরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্টানে প্রাণের সঞ্চার সৃষ্টি হয়। ফলে বর্তমানে হাওরাঞ্চলের প্রতিটি পরিবারে এখন পড়াশোনা জানা লোক পাওয়া যায়। বাঙালী জাতির অতীত ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে ধারণা দেওয়ার জন্য উপজেলার ১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্টা দৃষ্টি নন্দন শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য তিনি উপজেলার ১৩৬ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তি যোদ্ধা কর্ণার প্রতিষ্টা করেছেন।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল বলেন, মানসম্মত শিক্ষার জন্য রয়েছে ৪ টি মুল উপাদান তার মধ্যে প্রতিষ্টান,শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। এই চারটি উপাদান মানসম্মত হলেই শিক্ষার গুনগতমান নিশ্চিত হয়। এই চারটি উপাদানকে টার্গেট করে গোয়াইনঘাট উপজেলায় আমরা মানসম্মত শিক্ষার বিষয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি শারীরিক ভাবে অক্ষম শিক্ষার্থীর ব্যায়াপারে আমরা যতœবান। ফলে দিনে গোয়াইনঘাট উপজেলায় শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত হচ্ছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd