কোম্পানীগঞ্জের পাথর ব্যবসায়ী বশরকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

কোম্পানীগঞ্জের পাথর ব্যবসায়ী বশরকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পাথর ব্যবসায়ী বশর মিয়াকে (৪৫) অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে র‌্যাবের বিরুদ্ধে। এছাড়াও বশর মিয়াসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন এসব অভিযোগ করেন কোম্পানীগঞ্জের জালিয়ার পাড় গ্রামের রহুল আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য প্রভাবশালীদের দিক-নির্দেশনায় চলতি বছরের ১১ জুলাই আমার ভাই পাথর ব্যবসায়ী বশর মিয়াকে (৪৮) আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। যে সাজানো মামলায় আমার ভাই এখনও অন্যায়ভাবে কারাভোগ করছে। ওই সময়ে অভিযানের নেতৃত্বদেন সিলেট র‌্যাব-৯ এর ডিএডি সোহেল রানা। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে পরদিন ১২জুলাই সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এসময় আমার ভাই বশরের কাছ থেকে নাকি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২টি ছোরা উদ্ধার করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। আসলে এ ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো ও মিথ্যা।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মামলার অভিযোগে র‌্যাব উল্লেখ করেছে জালিয়ার পাড় এলাকায় নিজ বসত ঘরে আমার ভাই (বশর মিয়া) নাকি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে। এমন খবর র‌্যাবের কাছে গেলে র‌্যাব অভিযানের সময় তার ঘরের সামনে পৌঁছামাত্রই আমার ভাই বশর মিয়া দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে র‌্যাব তার ভবনের নীচ থেকে সন্দেহজনক ভাবে আটক করে। এরপর র‌্যাব তার দেহ তল্লাশি করে আগ্নেয়াস্ত্র, ১টি কার্তুজ ও ২টি ছোরা উদ্ধার করে। আমার প্রশ্ন হলো একজন মানুষ তার বসত ঘরে সবচেয়ে বেশী নিরাপদে থাকে। তাহলে সে কেনইবা আগ্নেয়াস্ত্র ও ছোরা নিয়ে অবস্থান করবে?

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, পেশী শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রভাবশালী চক্রটি বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে এ বছরের ৩১ জুলাই মাত্র ২০ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করিয়ে নিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশকে দিয়ে। সব কিছু এতো দ্রুত হওয়ায় আমাদের কাছে পূনরায় বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এছাড়াও আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় পুলিশের কাজে বাঁধা প্রদান, পাথর চুরি, পরিবেশের মামলাসহ ১৪টি মামলায় পরিকল্পিতভাবে আসামি করা করা হয়। এসব মামলার অধিকাংশই বাদী পুলিশ। কোম্পনীগঞ্জ থানায় শুধু আমাদের পরিবার নয় অনেক নিরীহ পরিবারকে প্রভাবশালীদের ইন্ধনে টাকার বিনীময়ে আসামী করা হয়। এছাড়াও সম্প্রতি আমার আরেক ভাই ব্যবসায়ী কালা মিয়াকেও একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আসামী করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ব্যবসার করে যে সুনাম অর্জন করেছি সেই সুনাম ধ্বংস করে দিচ্ছে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। অর্থ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাবে প্রভাবিত পুলিশ। সাধারণ মানুষকে মামলার আসামী থেকে শুরু করে, পাথর কোয়ারী থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা আদায় করাসহ এমন কোন কাজ নেই পুলিশ করে যাচ্ছে না। পুলিশের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বললে তাকে হয়রানি করা হয়। দীর্ঘদিন থেকে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ প্রভাবশালী মহলের পরামর্শে অবৈধ কাজ করেই যাচ্ছে। পুলিশের এমন কর্মকান্ডে মনে হয় থানা যেন প্রভাবশালীদের দখলে? সাধারণ মানুষ কোনভাবেই থানা থেকে নৈতিক সুবিধা পাচ্ছেনা। তবে প্রভাবশালীরা থানা পুলিশকে বলে দিলেই যেকোন কাজই হয়ে থাকে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..