চাঁদাবাজির অভিযোগে এসআই জেসমিনকে প্রত্যাহার

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০১৯

চাঁদাবাজির অভিযোগে এসআই জেসমিনকে প্রত্যাহার

Manual7 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : চাঁদাবাজির অভিযোগে টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জেসমিন আক্তারকে প্রত্যাহার ও তার সোর্স বক্কর হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Manual5 Ad Code

রোববার দুপুরে এসআই জেসমিন আক্তারকে টাঙ্গাইল সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এসআই জেসমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়।

সদর থানা পুলিশের এসআই জেসমিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে শনিবার রাতে থানা ঘেরাও করে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বেলতা গ্রামের কয়েকশ মানুষ। এ সময় এলাকাবাসী এসআই জেসমিনের বিচার চেয়ে স্লোগান দেয়। পরে পুলিশ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাত ৯টার দিকে থানা চত্বর ত্যাগ করে বাসায় ফিরে যায়।

এ ঘটনায় শনিবার রাতেই এসআই জেসমিনের সোর্স বক্করকে চাঁদাবাজি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল মডেল থানা থেকে এসআই জেসমিন আক্তারকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়।

Manual4 Ad Code

বিষয়টি নিশ্চিত করে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, সদর উপজেলার বেলতা গ্রামে কিছুদিন আগে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের নামে টাঙ্গাইল মডেল থানার এসআই জেসমিনের সোর্স পরিচয়ে বক্কর হোসেন। সে স্থানীয়দের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের হত্যা মামলায় আসামি করার হুমকি দেয়। এছাড়া গ্রামের মানুষকে জেসমিন বিভিন্নভাবে হয়রানি করে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীর। একইভাবে শনিবার বিকেলে ওই সোর্স বেলতা গ্রামের হাজি আয়নাল হকের কাছে টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যা মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে দেয়া হবে বলে শাসানো হয়। এ ঘটনায় গ্রামবাসী তাকে আটক করে। খবর পেয়ে এসআই জেসমিন তাকে উদ্ধার করতে গেলে গ্রামবাসী তাকে ঘিরে ফেলে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।

Manual7 Ad Code

তিনি আরও বলেন, শনিবার রাতে এসআই ও সোর্সের বিচার দাবিতে থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী। এ ঘটনায় রাতেই এসআইয়ের সোর্স বক্করকে চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল মডেল থানা থেকে এসআই জেসমিন আক্তারকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশের একজন সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

তবে গ্রামবাসীর এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জেসমিন আক্তার।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ রক্ষিত বেলতা এলাকায় ছেলের সামনে রেজিয়া বেগম নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা করে ধান খেতে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করায় বিভিন্ন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় এসআই জেসমিন আক্তার ও তার সোর্স বক্কর হোসেন কয়েকজনকে আটক করে মোটা অংকের টাকা নেয়ার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

শনিবার পুলিশের সোর্স বক্কর হোসেন রক্ষিত বেলতা এলাকায় হাজী আয়নাল হকের বাসায় গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে কয়েকজন মিলে বক্কর হোসেনকে আটক করে। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল থানার এসআই জেসমিন আক্তার গিয়ে বক্কর হোসেনকে উদ্ধার ও সাধারণ মানুষকে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

April 2019
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..