সিলেট | |
প্রকাশিত: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৯নং ডৌবাড়ী ইউনিয়নের বলেশ্বর গ্রামে এক অসহায় পরিবার ও তাদের আত্মীয়দের বেআইনিভাবে ‘সামাজিক একঘরে’ (সোশ্যাল বয়কট) করে রাখা, স্বাভাবিক চলাচলে বাধা প্রদান, জমি দখল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বলেশ্বর গ্রামের মৃত মো: বশির উদ্দিনের ছেলে আব্দুস শুকুর গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর।
অভিযোগে জানা যায়, বিগত ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বলেশ্বর গ্রামের লোকমান উদ্দিনসহ কয়েকজন প্রতারণামূলক দলিল তৈরি করে ভুক্তভোগীদের বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবার সিলেটের গোয়াইনঘাট সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা (মামলা নং- ০৪/২০২৪) দায়ের করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ভাই মো: সিরাজ উদ্দিন বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১, সিলেটে ১৪৪ ধারায় আরেকটি মামলা (মামলা নং- ১২৪/২৬) দায়ের করেন।
অভিযোগ করা হয়, আদালতে মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত মাহমুদ আলী, ইকবাল হোসেন, ফরিদ উদ্দিন, লোকমান উদ্দিন, মুসাই মিয়া, মুসাহিদ আলী, আলাউদ্দিন (আলাই)-সহ স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাদীর পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে দেন। এর ফলে ভুক্তভোগী পরিবার বাজারে যাওয়া-আসা, মসজিদে নামাজ আদায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এমনকি দৈনন্দিন চলাচলও করতে পারছে না।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিগত ৫ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ ভোরে অভিযুক্তরা প্রায় ৩০-৪০ জন লোক নিয়ে বাদীর বাড়িতে আক্রমণ করে গাছপালা কেটে ফেলে এবং ২টি টিনের ঘর ভেঙে জোড়পূর্বক ২টি ঘর নির্মাণ করে। পরবর্তীতে দরবস্ত সেনাক্যাম্পের হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে মীমাংসা হলেও অভিযুক্তদের হয়রানি বন্ধ হয়নি।
অভিযুক্তরা অন্যান্য গ্রামবাসীকে বাদীর পরিবারের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা লেনদেন না করতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এছাড়া বাদীর সাথে থাকা আরও দুটি পরিবারের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে এবং চাঁদা না দিলে ফসল কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকির মুখে বাধ্য হয়ে একাধিক দফায় চাঁদার টাকা প্রদান করে সাময়িকভাবে রক্ষা পেলেও বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত সালিশ বৈঠক অমান্য করে প্রভাবশালী চক্রটি বাদীর পরিবারকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি ও শারীরিক-মানসিক হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী আব্দুস শুকুর ও তাঁর পরিবার এই বিষয়ে সরজমিনে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গোয়াইনঘাট থানা অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক মোড়ল জানিয়েছেন,গ্রামের কতিপয় ব্যক্তির উস্কানিতে সৃষ্ট শিক্ষক পরিবারের সাথে করা বিষয়টি আমরা ওয়াকিবহাল, গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে তালিকা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু সমাধান না হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী বলেন,ডৌবাড়ি ইউনিয়নের বলেশ্বর গ্রামে শিক্ষক পরিবারকে এক ঘরে করে রাখার বিষয়টি জেনেছি, মাননীয় মন্ত্রীও বিষয়টি জেনেছেন এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্হা নিতে আমাদের বলেছেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd