সিলেট | |
প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও পাসপোর্টে পেশার তথ্য গোপন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি সার্জন ডা. লিপিকা দাসের বিরুদ্ধে। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও তিনি নিজের পাসপোর্টে পেশা হিসেবে ‘বেসরকারি চাকরি’ উল্লেখ করেছেন, যা দেশের বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই বিষয়ে গত ৮ জুন সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো: মোছাদ্দেক আলী। অভিযোগটি গত ৭ জুলাই পাসপোর্ট অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে।
লিখিত অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডা. লিপিকা দাস (আইডি নং- ১০০৭০৯১) সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে একজন নিয়মিত সরকারি চিকিৎসক (গাইনি সার্জন) হিসেবে কর্মরত।
তাঁর ব্যবহৃত পাসপোর্টে (নম্বর: A07623995) পেশার স্থানে ‘Private Service’ বা বেসরকারি চাকরি উল্লেখ রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও পাসপোর্টের আবেদনকালে নিজ পেশা সম্পর্কে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করা পাসপোর্ট আইন-১৯৭৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী তথ্য গোপন করলে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এটি একই সাথে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ এবং ‘বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর)’-এরও পরিপন্থী।
অভিযোগকারী মো: মোছাদ্দেক আলী তাঁর আবেদনে প্রধানত তিনটি দাবি জানিয়েছেন, পাসপোর্ট আবেদনপত্রে ডা. লিপিকা দাস প্রকৃতপক্ষে কী তথ্য প্রদান করেছিলেন তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে উক্ত চিকিৎসকের পাসপোর্টটি বাতিল বা স্থগিত করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এই বিষয়ে সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম মামুন জানান:
> “সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের একজন নারী চিকিৎসকের তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট তৈরির বিষয়ে একটি তদন্তের আবেদন আমি পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পাসপোর্টটি সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক অফিস থেকে নয়, বরং সিলেট থেকে ইস্যু করা হয়েছে। তবে যে পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি দেশের বাইরে গিয়েছেন, সেই পাসপোর্ট নম্বরের তথ্যে উনার পেশা গোপন করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের এখতিয়ার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নেই।”
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সার্জন ডা. লিপিকা দাসের সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করার চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা (মেসেজ) পাঠানো হলেও কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সরকারি হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এমন তথ্য গোপনের অভিযোগে স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd