সিলেট ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২৬
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে একুশে টেলিভিশন ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি বিকুল চক্রবর্তীর ওপর দুই দফা হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে শহরতলীর সবুজবাগ আবাসিক এলাকার শ্মশানঘাট প্রাঙ্গণে দোল উৎসবের অনুষ্ঠান চলাকালে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে সবুজবাগ দোল পূর্ণিমা উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী। মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহিবুল্লাহ আকন্দ, উপজেলা বিএনপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলীসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠান চলাকালে যখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন স্থানীয় সুব্রত চক্রবর্তী নামে এক যুবক মঞ্চে উঠে বিকুল চক্রবর্তীকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ ও ‘বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। এ সময় আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক পিয়াস দাশ তাকে জাপ্টে ধরে বাধা দেন এবং অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন।
পরবর্তীতে প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী যখন ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সুব্রত পুনরায় মঞ্চে হামলা করতে আসে। দ্বিতীয় দফাতেও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাকে সরিয়ে দেন। তবে অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর শ্মশানঘাটের রাস্তায় সুব্রত তার দলবল নিয়ে বিকুল চক্রবর্তীর ওপর পুনরায় অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হলে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিকুল চক্রবর্তী জানান, একটি বিশেষ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “সুব্রত চক্রবর্তী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে যে দুঃসাহস দেখিয়েছে তা অকল্পনীয়। এর আগেও দুষ্কৃতকারীরা আমার অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের অমূল্য স্মারক নষ্ট করেছে। সুব্রত তার ফেসবুক লাইভে এই হামলার কথা স্বীকারও করেছে।”
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, “একটি সুন্দর ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের বিশ্রী ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।” শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd