সিলেট ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এক এজেন্টকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে আফতাবসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে তাহিরপুর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন-সোনাপুর গ্রামের মিলন মিয়া ও নুরপুর গ্রামের লিটন মিয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নুরপুর গ্রাম থেকে বাদাঘাট বাজারে নিজের এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে দেলোয়ার হোসেনকে রাস্তা থেকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ও তার সহযোগীরা দেলোয়ারকে তুলে নিয়ে বাদাঘাট বাজারে আফতাবের নিজস্ব ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে তিন ঘণ্টা আটকে রাখেন।
সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দেলোয়ারের মাথায় ও ডান হাতে গুরুতর জখম করা হয়। আসামিরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তাকে দফায় দফায় মারধর ও লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে রাখে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে উত্তর বড়দল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া এবং বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেলোয়ারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। রাতেই তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় শুক্রবার সকালে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহত দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আফতাব আগে আমার কাছ থেকে তার ভাগ্নের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা ধার নিয়ে শোধ করেননি। পরবর্তীতে ব্যবসার কথা বলে আরও ৮ লাখ টাকা দাবি করলে আমি তা দিতে অস্বীকার করি। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে আমাকে তুলে নিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন দাবি করেন, “জমি সংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসার জন্য দেলোয়ারকে আমার অফিসে ডাকা হয়েছিল। মামলার বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক।”
তবে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশংকর পাল জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আফতাবের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd