সিলেট ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২৬
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :: সিলেটের জৈন্তাপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফসলি জমি ধ্বংস এবং নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে আটজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫:৩০টা পর্যন্ত উপজেলার বড়গাঙ জাঙ্গালঘাট, রুপচেং গরুঘাট এবং সারী-২ এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ পলি রানী দেব-সহ জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানের প্রথম পর্যায়ে বড়গাঙ নদীর জাঙ্গালঘাট এলাকা থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন- ইসমাইল হোসেন (২০), তাবাসসুম আহমেদ (১৭), খাইরুল ইসলাম (২৪) ও মামুনুর রশীদ (১৮)।
পরবর্তীতে সারী-২ এলাকায় অভিযান চালিয়ে নদীর পাড় ও ফসলি জমি ধ্বংসের দায়ে আরও চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন জামাল উদ্দিন (২৫), আসাদ আহমেদ (২৮), সেবুল আহমেদ (৩৫) ও আবদুল করিম (৪৫)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে আটককৃতদের মধ্যে সাতজনকে সর্বনিম্ন ৩ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। আটককৃতদের মধ্যে একজনের বয়স ১৭ বছর হওয়ায় তাকে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে উপযুক্ত আদালতে সোপর্দ করার নির্দেশ দিয়ে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে রুপচেং এলাকায় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা ১০টি বারকি নৌকা করাত দিয়ে কেটে ধ্বংস করা হয়।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, “নির্ধারিত স্থানের বাইরে গিয়ে ফসলি জমি ও নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে বসতভিটা ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই ধরনের কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
আটককৃতদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যায় জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd