সিলেট ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে এক সেলুন ব্যবসায়ীর ওপর ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় একদল চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। গতকাল শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জিন্দাবাজারস্থ বারভূইয়া সিদ্দিক প্লাজায় অবস্থিত “Barber Gents Parlour” (বারবার জেন্টস পার্লার) নামের একটি স্বনামধন্য সেলুনে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য এই তাণ্ডবের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গুরুতর আহত ও মৃত্যুর সাথে লড়তে থাকা ওই ব্যবসায়ীর নাম সাজন চন্দ্র দাস। তিনি ওই সেলুনের স্বত্বাধিকারী। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলের দিকে সেলুনে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছিল। এমন সময় আকস্মিকভাবে ১০-১২ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী জোরপূর্বক সেলুনে প্রবেশ করে। তারা এসেই ব্যবসায়ী সাজন চন্দ্র দাসের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। সাজন বিনা কারণে চাঁদা দিতে সুস্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হত্যার হুমকি দেয় এবং সেলুন থেকে টেনেহিঁচড়ে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে আসে। এরপরই শুরু হয় পৈশাচিক নির্যাতন। হামলাকারীরা তাদের হাতে থাকা লোহার রড, হকিস্টিক এবং মোটা লাঠি দিয়ে সাজন চন্দ্র দাসকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। বাঁচার জন্য তিনি আর্তনাদ করলেও রক্তপিপাসু সন্ত্রাসীদের নির্মমতা একটুও কমেনি। লোহার রড ও হকিস্টিকের উপর্যুপরি আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান থেঁতলে যায়। বৃষ্টির মতো আঘাত সহ্য করতে না পেরে একসময় তিনি রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এই নারকীয় ও বর্বরোচিত হামলায় সরাসরি যাদের নাম ও পরিচয় উঠে এসেছে, তারা হলেন- সিলেট জেলা যুবদলের সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সিলেট মহানগর ২নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েম আহমেদ আপু এবং সিলেট মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইবনে জাহান তানভির। এছাড়াও তাদের সাথে হামলায় সরাসরি অংশ নেয় রাজু আহমেদ, কামরুল ইসলাম, জুবায়ের চৌধুরীসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী।
প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ভয়াবহ তাণ্ডব ও রক্তপাতের ঘটনায় পুরো জিন্দাবাজার এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে আশপাশের ব্যবসায়ীরা দ্রুত তাদের দোকানপাটের শার্টার নামিয়ে ফেলেন। সন্ত্রাসীরা তাদের তাণ্ডব শেষে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর, স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসেন। তারা রক্তাক্ত, থেঁতলে যাওয়া ও মুমূর্ষু অবস্থায় সাজন চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে দ্রুত নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ইবনে সিনা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লোহার রড ও ভারী বস্তুর নির্মম আঘাতে সাজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ও গুরুতর জখমের সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে তার অবস্থা বর্তমানে বেশ আশঙ্কাজনক।
সিলেটের সবচেয়ে ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় প্রকাশ্যে এমন ভয়াবহ চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র পৈশাচিক হামলার ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে চিহ্নিত এই চাঁদাবাজ ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd