সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯
মো.নাঈমুল ইসলাম : ছিলেন ব্যাংকার। পড়ালেখার জীবনে একটি অংশ ছিল বনবিদ্যাও। পরবর্তীতে আসলেন পুলিশে। ছিলেন ঢাকার ট্রাফিকে, সিলেটের সার্কেলে এখন সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন সিলেটের পুলিশ সুপারের। সাহসিকতার সাথে সিলেটের ৯টি পাথর কোয়ারী বন্ধ, সাথে সাথে অন্যায়ের একশ্যান এবং কাজের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছেন সিলেটের সর্বমহলের। কিভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নিজেকে এভাবে সাহসী রেখেছেন জানতে দৈনিক সিলেটের দিনকাল ও সিল নিউজ বিডি’র বিশেষ আয়োজন ‘কেমন চলছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাজ’ অনুষ্ঠানে লাইভ সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কথা বলেন বর্তমান সময়ে সিলেটের জনপ্রিয় পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমদ (পিপিএম)।
মো.নাঈমুল ইসলাম : আপনি অনেকসময় এই কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) দেন যে, কোনো মানুষ থানায় গিয়ে যেন অসহায় হয়ে ফিরে না আসে। ওসিকে নির্দেশ দেন তার কি সমস্যা সেটি যেন সঠিকভাবে দেখা এবং তদন্ত করা হয়। কেন বার বার এই কথা বলেন জানতে চাইবো আপনার কাছ থেকে।
ফরিদ উদ্দিন : আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে এখানে নিমন্ত্রণ করার জন্য এবং কয়েকটি কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমি সিলেটবাসীকে জানিয়ে দিতে চাই, যে প্রশ্নটি আপনি করেছেন, প্রথাগতভাবে আমাদের থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ সাধারণ মানুষের সেটা হলো যে থানায় মানুষ কাঙ্খিত সেবাটা তাৎক্ষণিকভাবে পায় না। একটা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে একটা কমন ব্লেইম (সচরাচর অভিযোগ) মানুষের যে, থানায় জিডি অথবা মামলা করতে গেলে হয়রানির শিকার হন এবং অনেকসময় দালাল অথবা যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়। এটাকে আমি আসলে মূল উৎপাটন করতে চাই আমার নিয়ন্ত্রাণাধীন সিলেটের যে ১১টি থানা সেই এলাকাসমূহের মধ্যে আমি সেই পরিবর্তনটা আনতে চাই। প্রথমত, আপনাকে যদি দালালমুক্ত করতে হয় থানায় তাহলে আপনাকে প্রথম স্টেপ নিতে হবে থানায় আগত মানুষকে যেন ভালোভাবে রিসিভ করা হয়। তাদের কথা শুনা হয় এবং তারা যে আইনি প্রতিকারটা পেতে এসেছেন তা যেন তাৎক্ষনিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। তাহলেই কিন্তু মানুষের মধ্যে যদি এই আস্থাটা তৈরি হয় মানুষ কিন্তু তখন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পরে বা কোনো আইনি সমস্যায় পরার কারণে তখন কিন্তু আর কাউকে খুঁজতে যাবে না। থানা এলাকার বড় ভাই অথবা ওইখানকার প্রভাবশালী কোনো লোক অথবা কোনো দালালের ছত্রছায়ায় কিন্তু মানুষ যাবেনা। আমি মনে করি যে এই জায়গাটায় যদি একটা ঘটনা ঘটেছে যেখানে মামলা নেওয়ার মতো উপাদান আছে। একটা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যেকোনোভাবে অন্যের দ্বারা অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সেই ব্যক্তির বিষয়টা যেন তাৎক্ষনিকভাবে থানায় শুনা হয় এবং কোনোধরনের প্রভাব প্রতিপত্তির বাইরে গিয়ে অফিসার ইনচার্জ যেন মামলাটা রুজু করেন এবং এই ভদ্রলোক যিনি আইনিসেবা নিতে থানায় গিয়েছেন তিনি যেন কোনারকম হয়রানির শিকার না হন। এটা আমি নিশ্চিত করতে চাই। দ্বিতীয়ত, অনেক জিডি করতে গেলে দেখা যায় যে অনেকসময় অফিসার ইনচার্জরা যেটা করেন যে ডিউটি অফিসারের কাছে একজন ভদ্রলোক যান তখন উনি বলেন যে, ওসি সাহেব এখন থানায় নেই, ওসি সাহেব এখন মিটিংয়ে আছেন বা উনি এখন বাইরে আছেন বা থানার অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে গিয়েছেন কারণ দেখিয়ে মানুষকে ওয়েইট (অপেক্ষা) করতে বলা হয় বা আপনি কিছুক্ষণ ওয়েইট (অপেক্ষা) করুন ওসি সাহেব আসুক তারপর উনার সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। আমরা এখন ডিজিটাল যুগে আছি। এইসময় অফিসার ইনচার্জ বাইরে থাকলেও থানার ডিউটি অফিসার তাৎক্ষনিকভাবে অফিসার ইনচার্জের সাথে কথা বলে নিতে পারেন। অফিসার ইনচার্জ বলতে পারেন এই ভদ্রলোক এই সমস্যা নিয়ে আসছেন আমরা এখন জিডি করতে চাই। আমি মনে করি এই সংস্কৃতিটার পরিবর্তন দরকার। থানায় গেলে মানুষ কিছুক্ষণ পরে একটা জরুরী কাজে অনেক দূরদূরান্ত থেকে থানায় যায়। সেখান থেকে তাকে আবার বলা হবে যে আপনি বিকালে আসেন বা অফিসার ইনচার্জ নেই বা আপনি পরের দিন আসেন। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ডিউটি অফিসার যিনি অবশ্যই তিনি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তাকে তাৎক্ষনিকভাবে জিডি করতে হবে। এটা আমার নির্দেশ এবং ইতিমধ্যে আমি সমস্ত থানায় নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। আমি আমার অফিসার ইনচার্জদের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাকে কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) করেছে যে, স্যার আপনি এই উদ্যোগটা নিতে পারেন, আমরা আপনাকে সহযোগিতা করবো। ইতিমধ্যেই আমি সব থানায় এটা বলে দিয়েছি এবং সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন ফোরামে গিয়ে বলেছি, থানায় আগত ব্যক্তির তাৎক্ষনিকভাবে জিডি নিতে হবে এবং সত্য ঘটনা ঘটেছে, মামলা নেওয়ার মতো উপাদান আছে সেই ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে মামলা নিশ্চিত করতে হবে অফিসার ইনচার্জদের। আমার স্টেইটমেন্ট (মন্তব্য) অনুসারে থানাগুলো এই মুহুর্তে এই কাজ করছে। আমরা থানাকে দালালমুক্ত করতে চাই এবং মানুষ থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হবেন না এটি নিশ্চিত করতে চাই।
মো.নাঈমুল ইসলাম : আমরা বিভিন্নসময় বিশেষ করে আমরা সাংবাদিকরা যখন কোনো ঘটনা ঘটে সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ প্রকাশ করি। এক্ষেত্রে সিলেট জেলা পুলিশ যেই দায়িত্বটা পালন করেন আমাদের প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে আপনারা তদন্ত করে সাথে সাথে পদক্ষেপ নেন। যেমন কানাইঘাটে বৃদ্ধ খুন হওয়ার ঘটনায় আপনারা জেলা পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে তিনজনকে আটক করেন। আরেকটি ঘটনা ওসমানীনগরে ঘটেছিলো মঙ্গলবারে স্ত্রীর মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার। আপনারা প্রায় এক সপ্তাহ কষ্ট করে স্বামীকে আটক করেন। আমরা কোনো নিউজ (সংবাদ) করার পর আপনারা সাথে সাথে এ্যাকশন (পদক্ষেপ) নিয়ে নেন। কিন্তু আমরা বিশেষ করে এই কাজটা মেট্টোপলিটন (মহানগর) পুলিশের ক্ষেত্রে দেখছি না। সাথে সাথে পদক্ষেপটা নেয়া হচ্ছে না। সেটি দেরিতে নেয়া হয়। আমরা জানি যে আপনি জেলা পুলিশের তবুও এটা জানতে চাই আপনি মহানগর পুলিশের উদ্দেশ্যে কি বলতে চান বা এর কারণটা কি..?
ফরিদ উদ্দিন : আমি মেট্টোপলিটন (মহানগর) পুলিশকে ওইভাবে ব্লেইম (দোষারোপ) করবো না। উনারাও কাজ করছেন। তবে যেই কথাটা আপনি বললেন, এই সিলেটের মিডিয়াকে আমি আপনাদের মাধ্যমে ধন্যবাদ দিতে চাই। ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি সমস্ত সাংবাদিক মহলকে। আমি ২৪শে জুন এখানে জয়েন (যোগদান) করেছি। উনারা কিন্তু আমাকে খুব কো-অপারেট (সহযোগিতা) করেছেন প্রত্যেকটা বিষয়ে। এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যেখানে আমি জানার আগে সাংবাদিক ভাইয়েরা কোনো তথ্য জেনেছেন। উনাদের তথ্য-উপাত্তে ভিত্তি করে কিন্তু আমি ইনভেস্টিগেট (তদন্ত) করে সত্যতা যাচাই করে আমি আইনগত ব্যবস্থা অনেকখানি নিয়েছি, অনেক জায়গাতে নিয়েছি। আপনাকেও বলি, লবণ নিয়ে কিছুদিন আগে একটা গুজব ছড়ানো হয় জকিগঞ্জ এবং বিয়ানিবাজার এলাকা থেকে তৈরি হয়েছে। আমি কিন্তু তাৎক্ষনিকভাবে ফেইসবুকে গিয়ে স্টেইটমেন্ট (মন্তব্য) দিয়েছি, জনগণকে আমি আশ^স্ত করেছি যে, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুদ আছে এবং আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। বিভ্রান্ত হয়ে এই গুজব সৃষ্টিতে সাড়া দিবেন না। তখন কিন্তু সাধারণ মানুষ সাথে সাথে বুঝতে পেরেছে। যারা আমার ফেইসবুকটা দেখেছেন তাৎক্ষনিকভাবে মানুষ কিন্তু গুজব থেকে নিজেকে একটু দূরে রেখেছেন। পাশাপাশি ইতোপূর্বে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছিলো ওই গলাকাটা গুজব বা অস্থিরতা তৈরি করতে বিভিন্ন কিছু করে একটা কুচক্রীমহল আমি কিন্তু সাথে সাথে সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফেইসবুক পেইজে আমাদের তরফ থেকে স্টেইটমেন্ট (মন্তব্য) দিয়েছি। আবার জকিগঞ্জে কিছুদিন আগে হঠাৎ করে ইউপি মেম্বার সালাম কর্তৃক একজন মানুষকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়। এটি গত মে মাসের ঘটনা আমি যোগদান করার পূর্বে ঘটেছিলো। ওইসময় কিন্তু ঘটনাটি আমাদের কাছে আসেনি। কিন্তু একজন ভুক্তভোগী সেই ভিডিওটি যখন ফেইসবুকে দিলেন সেখান থেকে ভাইরাল হওয়ার পর আমি মিডিয়াতে স্টেইটমেন্ট (মন্তব্য) দিয়েছি সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি দেখেছি, তদন্ত চলছে অতিদ্রুত আসামীরা আইনের আওতায় আসবে। আমি জনগণকে আশ^স্ত করেছি আমি কাজ করছি, আমার টিম কাজ করছে। এবং আপনারা দেখেছেন আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সালাম মেম্বার ও তার সহযোগি ৪ জনকে এরেস্ট (গ্রেফতার) করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। এমনিভাবে আমার মনে হয় কখনো কোনো নিউজ যেগুলা ভাইরাল হয় সেটি আমাদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করে। তখন কিন্তু যদি আমরা সত্য ঘটনাটা মানুষের মাঝে উপস্থাপন না করি তাৎক্ষনিকভাবে তাহলে মানুষের মধ্যে যে আশংকা তৈরি হবে সেটি আর ভাঙ্গবে না। কিন্তু আমরা যদি সত্যতা সাথে সাথে তুলে ধরি তাহলে মানুষের মধ্যে একটা স্বস্তি ফিরে আসবে। তারা বলবে পুলিশ কাজ করছে। আমি সেইটাই চেষ্টা করছি যেখানে ঘটনা ঘটুক আমরা তাৎক্ষনিকভাবে আসামি গ্রেফতার এবং সত্য ঘটনা মানুষকে জানানোর চেষ্টা করছি। এটা ডিজিটালাইজেশনের যুগ। কোনো অপরাধ করে সেটি লুকিয়ে রাখা যাবেনা। আমরা সবসময় মানুষদের ভালোটা দেওয়া চেষ্টা করি। বেশি মারাত্মক দু একটি ঘটনার ক্ষেত্রে রেসপন্ড দিতে একটু সময় লাগে কিন্তু অবশ্যই জেলা পুলিশ প্রতিকার দেয়ার চেষ্টা করে। দূরদর্শিতা ও কাজের ক্ষেত্রে যে ভালো অবশ্যই তাকে অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি আমাদের অন্য কোনো ইউনিট একটি ভালো কাজ যদি করে অবশ্যই জেলা পুলিশ তাকে সম্মান জানাবে, অনুকরণ করবে। আবার সিলেট জেলা পুলিশ যেভাবে তাৎক্ষনিক গুরুত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে অন্যদেরও উচিত সেটা অনুকরণ করা। ভালো কাজ নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে। আপনারা দেখেছেন এইবছর এই জেলায় ৩৪৮ জন কনস্টেবল নিয়োগ হয়েছে। আমরা স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছি। মিডিয়া আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে।
মো.নাঈমুল ইসলাম : ২০০১ সাল থেকে সিলেটে যে কোয়ারিগুলো চলছিলো বিশেষ করে সিলেট জেলার অন্তর্গত জাফলং, বিছানাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, কোম্পানিগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা সহ যে ৯টি কোয়ারি রয়েছে সেগুলোতে যারা সাধারণ শ্রমিকরা কাজ করে অনেকসময় দেখা যায় কাজ করতে গিয়ে পাথর ভেঙ্গে তাদের উপর পড়ে এবং তারা মারা যায়। অনেক সংবাদ প্রকাশ করেছি আমরা সচেতন সাংবাদিক মহল যাতে এই কোয়ারিগুলো বন্ধ করা হয়, হাইকোর্ট থেকেও নির্দেশ দেওয়া হয় কিন্তু বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। আপনি কিছুদিন পূর্বে সবগুলো কোয়ারি বন্ধ করে দিলেন কিভাবে সম্ভব করলেন.?
ফরিদ উদ্দিন : পরিবেশের প্রতি আমার আলাদা একটা দুর্বলতা আছে যেটা আপনাকে বলিনি। আমি যে বিষয়ে পড়াশুনা করেছি ফরেস্ট্রিতে (বনবিদ্যা)। ফরেন্সি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স বিষয়ে চিটাগং ইউনিভার্সিটি থেকে পড়েছি। সাধারণত পরিবেশের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা আছে। জাফরং এমন একটা সুন্দর জায়গা ছিল। এই পাথরখেকোরা কিন্তু পুরো এলাকাটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনিভাবে আপনার কোম্পানিগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা যেটি আপনি বলেছেন। আমি সেখানে ভিজিট করেছি। দীর্ঘকাল ধরে সেখানে একটা নৈরাজ্য চলছে বলেই আমার কাছে প্রতিয়মান হয়েছে। এখানে বিভিন্নসময় মানুষ যেমন মারা যাচ্ছে তেমনিভাবে এখানকার সম্পদ কিন্তু লুট করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশটাকেও ধ্বংস করা হচ্ছে। এখানে অনেকসময় যারা পাথর ব্যবসা বা কোয়ারিগুলোর সাথে জড়িত ছিলেন তাদের দাবি ছিল কাজ না হলে শ্রমিক বাঁচবে না। এটা শুধু একটা অজুহাত মাত্র। কারণ এই যুগ যুগ ধরে এখানকার শ্রমিকরা কাজ করে আসছে। শ্রমিকদের কিন্তু বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়নাই। যে শ্রমিক ২০০১ সাল থেকে পাথর কোয়ারি থেকে পাথর তুলতো এখন ২০১৯ সাল সেই শ্রমিক এখনো পাথর তুলছেন। শ্রমিক কিন্তু শ্রমিক রয়েই গেছেন। তার অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। এখানে মধ্যস্ততাকারীরা এবং বিভিন্নভাবে যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন তাদের স্বার্থটাই হাসিল হয়েছে। তারাই রাতারাতি অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। কোয়ারি বন্ধ হলে শ্রমিক বাঁচবে না এই কথা বলে যারা আন্দোলন করতে চান আমি মনে করি এটা শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের দেশে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব কোয়ারি বন্ধ করতে গিয়ে আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন আমাদের প্রবাসী মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনিও বলেছেন, কাজ না হলে শ্রমিক বাঁচবে না এই বিভ্রান্ত ছড়িয়ে কোনো লাভ হবেনা। কারণ বাংলাদেশে এখন আর আগের দিন নেই যে কৃষিকাজ করলে মানুষ বাঁচবে না। জাফলং, কোম্পানিগঞ্জ, বিছানাকান্দি প্রত্যেকটি জায়গাই সুন্দর। প্রতিনিয়ত অনেক পর্যটকরা আসেন বেড়াতে। সেখানে এসব অবৈধ পরিবেশ ধ্বংসকারী ব্যবসা বন্ধ করে পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করা উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ পাথরকোয়ারি বন্ধ করা না গেলে পরিবেশ পুরো ধ্বংশ হয়ে যাবে। আর আমি আমার অফিসার ইনচার্জদের বলে দিয়েছি কোনো ধরনের বোমা মেশিন থাকলে সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য। আমি বন্ধ করার আগে স্ট্যাটিস্টিক (পরিসংখ্যান) নিয়েছি পাথর কোয়ারিগুলোতে ৪০০ থেকে ৫০০ বোমা মেশিন ছিল। এখন খোঁজ নিয়ে দেখেন একটিও পাবেন না। দু একজায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। কেউ সনাতন পদ্ধতিতে পাথর তুলতে পারে। কিন্তু পরিবেশ ধ্বংশকারী এই বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তুলতে আর দেওয়া হবে না। আমি এখন পর্যন্ত টেকিয়ে রেখেছি। জানিনা কতদূর এগুতে পারবো তবে আপনাদের সাহায্য সহযোগিতা চাই। পাথর কোয়ারি শুরু করে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায় তাদেরকে স্পষ্ট বলছি আপনারা আর পারবেন না। আপনারা সেখানে পর্যটন শিল্প বিকশিত করুন। আমি সেখানে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা দেখছি। ইকো-ট্যুরিজম বেইস পর্যটন শিল্প। জাফলং, কোম্পানীগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ এসব বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে পর্যটন শিল্প দিয়ে গড়ে তুলুন। আমি যাতে এভাবেই কাজ করে যেতে পারি সবসময় আপনাদের সহযোগিতা চাই। কারণ পুলিশকে সাহায্য নিয়েই কাজ করতে হবে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd