সিলেট ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯
২০১৫ সালে শারপিন টিলার ক্ষতি নির্ণয়ের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যে রিপোর্ট দিয়েছিল সেখানে ওঠে এসেছিল শারপিন টিলায় আড়াই শ’ কোটি টাকার পাথর লুটের কথা। এর মধ্যে কেটে গেছে আরো ৪ বছর। এই চার বছরে সবচেয়ে বেশি পাথর লুটপাট করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে- এ ক্ষতির পরিমাণ এখন প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। ১৫ বছর আগে মাত্র এক বছরের লিজ নিয়ে শারপিনের ‘কুতুব’ মোহাম্মদ আলী নানা ফন্দি-ফিকির করে এই লুটপাট চালিয়েছে। আর এই লুটপাটে ইতিমধ্যে ঝরে গেছে অর্ধশতাধিক শ্রমিকের প্রাণও। হাইকোর্টের নির্দেশে সর্বশেষ গত ২৮শে জুলাই পর্যন্ত ‘বৈধতা’ দেখিয়ে শারপিন গিলে খেয়েছেন মোহাম্মদ আলী। তার সাথে যুক্ত হচ্ছে আরেক পাথর খোকে আব্দুল করিম ও ঝালিয়ার পাড়ের মোতাহির এদের সেল্টার দাতা হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের বর্তমান ওসি তাজুল ইসলাম।
প্রশাসনের অভিযানে বোমা মেশিন ধবংস করা হয় ঠিকই। তারপরও কোন কিছুতেই পাথর উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন টিলায়। কারণ ওসিকে ম্যানেজ, আধিপত্য বিস্তার করে অবাধে চলছে অবৈধ বোমা মেশিনের তান্ডব। ধবংস করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। যার ফলে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে। এ নিয়ে প্রশাসন বারবার অভিযান চালায়। বোমা মেশিন ধবংস করে, কখনও পুলিশ মামলা করে, আবার কখনও এড়িয়ে যায়।
স্থানীয় প্রশাসন ও টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযানের পরও শাহ্ আরফিন টিলায় পরিবেশ বিধ্বংসী নিষিদ্ধ যন্ত্র বোমা মেশিনের ব্যবহার অব্যাহত রাখে একটি চক্র। ফলে যেকোনো সময় টিলা ধসে আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরফিন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করতে এবং অসহায় পাথর শ্রমিকরা যেন হতাহত না হয় সেজন্য এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসন বার বার অভিযানে চালালেও নির্দ্বিধায় পরিবেশ ধবংসী বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে একটি চক্র। প্রতিদিন একাধিক বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করলেও প্রশাসনের নজরের বাইরে রয়েছে ওই চক্র।
জানা যায়- শাহ আরফিন টিলায় ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করছে আব্দুল করিম। কোম্পানীগঞ্জের জালিয়ার পাড় গ্রামের মৃত নঈম উল্লাহ’র পুত্র সে। দীর্ঘদিন থেকে অবাধে পাথর লুট করলেও তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। পাথর রাজ্যের আরেক দানব পাথর খেকো মোহাম্মদ আলীর সাথে হাত মিলিয়ে দীর্ঘদিন থেকে পাথর লুট করছে করিম। রয়্যালিটির নাম করেও প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে সে। তার বোমা মেশিন পুলিশ ধবংস করলেও অদৃশ্য কারনে সে মামলা থেকে রেহাই পেয়ে যায়।
সূত্র জানায়- আব্দুল করিমের সাথে তার একাধিক সহযোগীও রয়েছে। পুরো একটি গ্যাং চলে তার কথায়। পাথর খেকো এ গ্যাং-এর অর্তাকর্তা হলেন আব্দুল করিম। তার সহযোগীরা হলেন- জালিয়ার পাড় গ্রামের মৃত রহিম উল্লাহর পুত্র নজির, মনির, করিমের ভাই মহিম, আব্দুল, চিকাডহর গ্রামের মৃত সোবহান মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান সাদ্দাম, বতাই মিয়ার ছেলে আফসার, মৃত উস্তার আলীর ছেলে আনফর, বতুয়া, নারায়নপুর গ্রামের ছবর আলীর ছেলে রহিম সহ আরো অনেক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়- তারাই বর্তমানে শাহ আরফিন টিলায় বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ও ওসির মনোনীত স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্ররা অহেতুক প্রতি নৌকা থেকে চাঁদা আদায় করছে। বিগত সময়ে পুলিশ প্রশাসন শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা না নিলেও বর্তমান ওসি তাজুল ইসলাম থানায় যোগদানের কিছু দিনের মধ্যেই চাঁদা নেওয়া শুরু করেন। ওসির মনোনীত এএসআই এনামুল, পুলিশের টহল দল ও স্থানীয় চাঁদাবাজরা ওসি তাজুলের নামে চাঁদা উত্তোলন করছেন। শ্রমিকরা চাঁদা উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বরাবরে তারা স্মারকলিপি প্রদান করবেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd