সিলেট ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯
ক্রাইম প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ‘জামালগঞ্জ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার’ নামের ল্যাবটি সরকারী কোন অনুমোদন নেই। বেআইনী পন্থায় পরিচালিত এ ল্যাবে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াও এমআর ও অবৈধ গর্ভপাত করা হচ্ছে। আর এটা করে থাকেন একজন সরকারী স্বাস্থ্য সেবিকা। আর তিনি হচ্ছেন জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র সিনিয়র স্টাফ নার্স নির্লিপ্তা রাণী হলাদার। তারা স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘ দেড় যোগ থেকে এই বেআইনী ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটি পরিচালনা করে যাচ্ছে।
১৯৯৬ সালে ২৪ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগদানের পর থেকে নির্লিপ্তা রাাণী সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জেই অবস্থান করছেন। সরকারী চাকরির পাশপাশি স্বামী সঞ্জিব কান্তি বড়–য়ার নামে জামালগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল গেইটে অবস্থিত ‘জামালগঞ্জ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার’ নামের একটি বেআইনী ল্যাব। যেটির কোন লাইসেন্স নেই। নেই পরিবেশের ছাড়পত্র, টিআইএন, ভ্যাট, বর্জ ব্যবস্থাপনা পত্র। নেই লোকবল, নেই কোন ট্যাকনোলোজিষ্ট। শুধুমাত্র দুই বৎসর মেয়াদী চুক্তিতে নিয়ে আসা একজন ট্যাকনিশিয়ান দ্বারা ওই ল্যাবের রিপোর্ট প্রদান করা হয়ে থাকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর টিএলসি এ সুমন কুমার পালকে দিয়ে সকাল সন্ধা ল্যাবের মেশিনের কাজ করানো হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিনটি সাদাকালো কিন্তু এলাকার সহজ সরল লোকজনকে ধোকা দিয়ে প্রিন্ট করা ছবিটি উপর রঙ্গিন করে হাতিয়ে নিচ্ছেন শত শত টাকা। ল্যাবে যে এক্সরে মেশিন ব্যবহার করা হয়,এর কোন লাইসেন্স নেই। নেই কোন রেডিওগ্রাফার, একটি টিনসেডের ঘরের মধ্যে ল্যাবটি পরিচালিত হচ্ছে। এক্সরে ঘরে কোন লিড প্রটেকশন না থাকায় এলাকাবাসী এক্সরে বিকরণ দ্বারা বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ল্যাবের ভুল রিপোর্টে সর্বনাশ ঘটছে অনেক রোগীর।
মূলত ল্যাব পরিচালনার আড়ালে এ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নির্লিপ্তা রাণী প্রায়ই করে থাকেন বেআইনী এমআর ও অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর কাজ। সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে নির্লিপ্তা রানী এ অবৈধ কর্মকান্ড ও অবৈধ ব্যবসা করলেও কারো প্রতিবাদ করার সাহস নেই। কারণ সে নিজেকে একজন নারী নেত্রী হিসাবে সমাজে পরিচয় দিয়ে তার এই অবৈধ অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন।
বরিশালের পিরিজপুরের মেয়ে নির্লিপ্তা ও তার স্বামীর বাড়ি চট্টগ্রামে। অবৈধ এ ব্যবসার মাধ্যমে তারা দেশেরবাড়ি সহ সুনামগঞ্জে অনেক জায়গা জমিও করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে নির্লিপ্তা রাণীর মোবাইল ফোনে (০১৭১২—৯৩৬) শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বার বার কল করা হলেও তিনি সাংবাদিকের ফোন রিসিভ করেন নি। তার স্বামী সঞ্জিব কান্তি বড়–য়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্রাইম সিলেটকে বলেন , আমি ২০০৮ সালে কাগজপত্র সবকিছু সুনামগঞ্জে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে জমা দিয়েছি।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আশুতুষ দাশ জানান, ‘জামালগঞ্জ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার’ নামে কোন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-এর তথ্য তার জানা নেই।
বিস্তারিত অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসবে নির্লিপ্তা রাাণীর অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর বিরল তথ্য——-
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd