গোয়াইনঘটে ডৌ-বাড়ি ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, গর্ভবতীর জন্য আর্শীবাদ

প্রকাশিত: 5:52 PM, November 5, 2018

গোয়াইনঘটে ডৌ-বাড়ি ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, গর্ভবতীর জন্য আর্শীবাদ

আলী হোসেন,গোয়াইনঘাট :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৯নং ডৌ-বাড়ি ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র এলাকার গর্ভবতী মা ও নবজাতকের সেবায় অসহায় মানুষের আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। পল্লীর হত দরিদ্র শত শত গর্ভবতী মা ও নবজাতকের সেবায় অভিভূত সাধারন মানুষ। যাদের নাই কোন সহায় সম্বল, মা-নবজাতকের সেবার ছিলনা সুযোগ ও আর্থিক স্বচ্ছলতা। তারাই আজ ঘরের পাশে এই সেবা পেয়ে আনন্দিত। সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে কোইকার অর্থায়নে সেইভ দ্যা চিলড্রেন এর মমতা প্রজেক্টের বাস্তবায়নে ২৪ ঘন্টা ডিলেভারী সেন্টর চালু করায় মা-নবজাতকের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাঁসি। ৪ নভেম্বর দুপুর ১২টা সরজমিনে উপজেলার ৯নং ডৌ-বাড়ি এফডাবিøউ সিতে গিয়ে উঠতেই দেখা যায় ভিজিটার জাহানারা বেগমের কোলে করে এক নবজাতক এনে দিচ্ছেন তার নানী ফাতেহার কোলে। মা সাবিনা বেগমকে তখন ডেলিভারী রুমে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি সাতকুড়িকান্দি গ্রামের আনোয়ার আহমদের স্ত্রী।

সকাল ৯টায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসেছেন্ এবং দুপর ১২ টার মধ্যেই তার প্রথম সন্তানকে স্বজনের কোলে দেয়া হয়েছে। কিছু সময় পরেই মা সাবিনা বেগম নবজাতকে কোলে পেয়ে ভুলে যান প্রসব বেদনার সকল কষ্ট। আনন্দের হাঁসি ফুটে তার মুখে। ঐ দিন সকাল সাড়ে ৯টায় চারিগ্রাম গ্রামের আফিয়া বেগমের ছেলে নবজাতকের জন্ম হয় যাহা তার ৬নং সন্তান বলে জানান। ৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় জন্ম হয় রহা গ্রামের কাবাসা বেগমের ৩নং ছেলে নবজাতকের। এছাড়া গর্ভপূর্ব সেবা নিতে আসা মহিলাদের ভীড়দেখা যায় কেন্দ্রে। বলেশ্বরের আফিয়া ,মুর্জাতপুরের মেহেরজান,ডৌ-বাড়ির ম্ছুমা জানান চেক-আপ করাতে এসেছেন। তারা বলেন মা শিশুর সম্পূর্ন সেবা এখনে অত্যন্ত যতœ সহকারে দেখা হয় কোন টাকা পয়সা লাগে না।

পূর্বে এই সেবার সুযোগ ছিল না। শাশুড়ি তাহেরাসহ সবাই জানান “সরকার এই সুযোগ করে দেয়ায় আমরা সেবা পচ্ছি-আনন্দ লাগছে,যাহা ভুলার নয়। শুধু ডৌ-বাড়ি নয় গোযাইনঘাটের বিভিন্ন ইউপি, আন্ত উপজেলা,জেলা থেকে এখানে বেড়াতে আসা মা ‘রা সেবা নিচ্ছেন। উপস্থিত অনেক মহিলারা বলেন এখানের ভিজিটর জাহানারা বেগম অনেক অভিঞ্জ ও পরিচিত তাই ফতেহপুর এফডøাবলিউসিতে এই সেবা তাকলেও রোগিরা এখানে আসেন। তিনি উপজেলা ,জেলা ,বিভাগ পর্যয়ের শ্রেষ্ট কর্মী ।

জানা যায় এখানকার প্যারামেডিকস মোসাম্মৎ ইসরাত জাহানও কটুর পরিশ্রমী ও সেবায় আন্তরীক,ডেপুটে আসা অপর প্যারামেডিকস এ্যাগনেস অপা বারোই ও রোগির প্রতি আন্তরীক। ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রে এই সেবা চালুর পর থেকে ৪ নভেম্বর দুপুর ১২টা পযর্ন্ত ১৬৮৪টি শিশুর জন্ম হয়েছে এই কেন্দ্রে। প্রতিমাসে গড়ে ৫০টি শিশুর জন্ম হয় কেন্দ্রে। কিন্তু সরকারী অফিস সহায়ক, নাইটগার্ড,ফার্মাসিষ্ট, সাকমো পোস্ট দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে, এমন কি মমতা প্রজেক্টেরও নেই কোন নাইটগার্ড যাহা ঐ কেন্দ্রের জন্য অত্যন্ত জরুরী। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সদস্য ডৌ-বাড়ি ইউপি আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন বলেন ২০১৬ সাল থেকে কোন এমবিবিএস ডাক্তারও এখানে দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন মা-শিশুর স্বাস্থসেবায এই কেন্দ্রটি এলাকার মডেল হলেও লোকবল সংকট পূরন করার দাবী জানাচ্ছি। মা-শিশুর স্বাস্থসেবায় সরকার যে সুযোগ সুবিদা সৃষ্টি করে দিয়েছেন তাহা অভিস্মরণীয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..