সিলেট ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৮
শাহ আলম, গোয়াইনঘাট :: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেটের গোয়াইনঘাট। উপজেলা জুড়ে রয়েছে দেশের খ্যাতিমান দৃষ্টিনন্দিত পাঁচটি পর্যটনকেন্দ্র। চোখ জুড়ানো এসব সৌন্দর্য দেখে প্রতিনিয়তই মুগ্ধ হোন প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক। শুধুমাত্র অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দিন দিন হারিয়ে বসছে এসব সৌন্দর্য। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে ঘটছে ব্যাঘাত। সেই সাথে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সম্প্রতি সময়ে কয়েক লক্ষাধিক পর্যটকের পদচারণায় মূখর থাকতো পর্যটনকেন্দ্রগুলো। ভ্রমন পিপাসুদের ভীড় দেখে গড়ে উঠে শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। সুতরাং এই পর্যটন শিল্পের যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় যেন দিন দিন পর্যটনকেন্দ্রগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে পর্যটক। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছরেরও অধিক সময় থেকে বেহাল দশায় পড়ে থাকা এ সকল রাস্তাগুলো সংস্কার কাজে দায়বদ্ধতা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফলে রীতিমত বিরম্ভনায় পড়তে হচ্ছে ঘুরতে আসা এ সব ভ্রমণপিপাসুদের। এছাড়াও বিপাকে পড়তে হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্রে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদেরও।
পর্যটকদের প্রধান আকর্ষন প্রকৃতিকন্যা জাফলং। কিন্তু উপজেলার নলজুড়ি থেকে পর্যটক স্পট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটারেরও অধিক পথ যেতে হয় কাঁদা জল মাড়িয়ে। এই সড়ক দিয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাফেরা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই অবস্থা আরেক দৃষ্টিনন্দিত পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতেও। হাদারপার বাজার থেকে পর্যটক স্পট পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তা জুড়েই খানা-খন্দে ভরপুর। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তীতে পড়ছেন জনসাধারণ ও আগত পর্যটক। অপর দিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় রাতারগুল ও মায়া বন যেতে হয় নৌকাযোগে।
গতকাল সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরতে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, নলজুড়ি থেকে বল্লাঘাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটারের ও অধিক পথ খানা-খন্দে ভরপুর। রাস্তার স্থরে স্থরে জমে থাকা কাঁদা জল মাড়িয়েই পথচারী ও যানবাহন চলাচল করছেন। কিছু কিছু যায়গায় জমে থাকা কাঁদা আর বালির জন্য প্রতিনিয়তই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের ভোগান্তী যেন লেগেই আছে।
২০১৬ সাল ছিলো সরকার ঘোষিত পর্যটক বর্ষ। প্রায় আড়াই বছর গড়িয়ে গেলেও রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ফলে উল্টো হুমকিতে পড়েছে সম্ভাবনাময় এ পর্যটন শিল্প।
ময়মনসিংহ থেকে স্বপরিবারে জাফলং ঘুরতে আসা আরমান মিয়া জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে এই প্রথম জাফলংয়ে আসা। জাফলংয়ের সৌন্দর্য আসলেই আমাকে বিমোহিত করেছে। তবে সিলেট থেকে আসার পর রাস্তাঘাট দেখে খুব খারাপ লাগছিলো। রাস্তাঘাটের আরেকটু উন্নতি হলেই এই জাফলং ফিরে পেতো তার আসল সৌন্দর্য।
এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের সড়ক ও জনপথের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দেবাশীষ রায় জানান, নলজুড়ি থেকে মামার বাজার পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার ও বিভিন্ন খানা খন্দে ভরা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠিটি পাশ হলেই আশা করছি এক-দেড় মাসের মধ্যেই রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd