মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: দেশজুড়ে চলছে মাদক বিরোধী অভিযান। সরকার মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিগ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। দেশে বিশেষ এ অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসা ও পাচারের সঙ্গে জড়িত অনেকে নিহত হয়েছেন। বিশেষ এ অভিযানে সারাদেশের ন্যায় ইতিমধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বিশ্বনাথ মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে। অনেকে গা ঢাকা দিয়েছে। তবে বিশেষ এই অভিযানে প্রভাবশালী ও রাঘব বোয়ালরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
জানাগেছে, এলাকায় যে সব মাদক ব্যবসা করছে ইতিমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায় জড়িত গড়ফাদারদের নাম বিভিন্ন সংস্থার তৈরি করা তালিকায় ওঠলে ও আড়ালেই থেকে গেছেন অনেকেই। ধরা পড়ছে শুধু মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতারা।
ফলে সাধারণ মাদক ব্যবসায়ী যারা তাদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। আর বড় ব্যবসায়ীরা পাড়ি জমাচ্ছেন দেশের বাহিরে। এদিকে সম্প্রতি রাজধানীতে র্যাবের মাদক বিরোধী ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ শীর্ষক দেশব্যাপি ক্যাম্পেইন এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এখন থেকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন ঘোষণা ও সারাদেশে পুলিশ, র্যাব ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কঠোর এ অবস্থানের কারণে অনেকটা হিম শীতল অবস্থা বিরাজ করছে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মাদকের আগ্রাসন থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। শুধু কিছু সংখ্যাক খুচরা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে না। সামগ্রীক ভাবে যে সব গড়ফাদাররা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে। আমরা এটাকে একটা পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। মাদকের সঙ্গে যারাই জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। যত বড় প্রভাবশালীই হোক কেউ রেহাই পাবে না। আমাদের যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে।