তিন বন্ধুর মহা মিলনে হারিয়ে গেছে অটোরিক্সা বিরোধী আন্দোলন

প্রকাশিত: ৩:১৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৮

Sharing is caring!

ক্রাইম ডেস্ক :: তারা দুই নেতা। একজন পরিবহন মালিক সমিতির অন্যজন শ্রমিক নেতা। ২০১৪ সালে মাঠ গরম করে তোললেন সিএনজি অটোরিকসার বিরুদ্ধে।
সিলেট জেলা পরিবহন মালিক সমিতি ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে গড়ে তোলেন সিলেট জেলা সড়ক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও সংগ্রাম কমিটি।
সিলেট জেলা পরিবহন মালিক সমিতি নেতা বিএনপি নেতা আবুল কালাম ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সেলিম আহমদ ফলিক ওরফে ধর্মঘট ফলিক। নতুন ধান্ধায়, নতুন ব্যবসার নাম সিএনজি অটোরিকসা নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা যৌথ প্রযোজনায় গড়ে তোলেন সিলেট জেলা সড়ক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও সংগ্রাম কমিটি। মালিক – শ্রমিকদের বুঝিয়ে দিলেন অটোরিকসার কারনে বাস-মিনিবাস-লাইটেসের ব্যবসা মন্দা হয়ে যাচ্ছে। যায় কোথায় সবাইকে আন্দোলনে নামিয়ে দিলেন।
আন্দোলন তাজা করতে নতুন নামে সংগঠন তৈরী করলেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ ও সংগ্রাম কমিটি। সমিতির সদস্য সচিব হলেন সেই বিএনপি নেতা আবুল কালাম। তারপর জেলা প্রশাসক বরাবরে ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ০১/২০১৪ নং স্মারকে নিজ স্বারে স্মারকলিপি দিলেন তিনি। স্মারকলিপিতে দাবী জানালেন ৫টি। এগুলো মানাতে আল্টিমেটাম্ও দিলেন ৭২ঘন্টার তিনি। ৭২ঘন্টার মধ্যে দাবী না মানলে অনিদিষ্ট কালের পরিবহন ধর্মঘট পালন করবে তার নতুন ধান্ধার সংগঠন কথিত লন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ ও সংগ্রাম কমিটি।
স্মারকলিপিতে সিএনজি অটোরিকসা কর্তৃক বাস-মিনিবাসের র্সবনাশের কাহিনী তুলে ধরলেন। এ কাহিনীতের উল্লেখ করলেন বি.আর.টি, এ কর্তৃপক্ষ জেলায় মাত্রাতিরিক্ত সি,এন,জি অটোরিকসা ও হিউম্যান হুইলারের রেজিষ্টেশন দেওয়ায় সিলেট নগরী নাকি যানজটের নগরী হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। তারপর বললেন ঢাকা শহরে সিএনজির সংখ্যা ২০/২৫ হাজার, কিন্তু সিলেট নগরীতে সিএনজির সংখ্যা নাকি ২৫ হাজার সেই তথ্য্ও দিলেন তিনি।
এই সিএনজি একদিকে যানজট বৃদ্ধি করছে অপরদিকে দূরপাল্লার যাত্রী নিয়ে য্ওায়ায় দুর্ঘটনার সংখ্য্ওা আশংকাজনক বেড়ে যাচ্ছে। আরো দাবী জানানো হয়, সিএনজির চালকের সিট ছোট করে দেওয়া ও সামনে গ্রীল স্থায়ীভাবে সংযোজন করার। তারপর বললেন, সিএনজির কারনে বাস-মিনিবাস-লাইটেসের ব্যবসা মারাতœক হুমকির সম্মুখিন। তাদের ব্যবসার চরম ক্ষতি হওয়ায় আমাদের শ্রমিকরা অনাহারে অর্ধাহারে দিনযাপন করতেছে।
তাই এই পরিবহন ব্যবসা বাচাতে সিএনজি ওলাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ন্ওেয়ার দাবী জানানো হয়। এই দাবী গুলোর সাথে ধর্মঘটের হুমকি দেওয়ার নড়চেড়ে উঠে প্রশাসন। ৭২ঘন্টার মধ্যে আলোচনায় বসতে রাজি হয়ে যান সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সিলেট জেলা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও সংগ্রাম কমিটির সাথে। ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কে সকাল ১১ ঘটিকায় অনুষ্টিত হয় একটি বৈঠক।
এই বৈঠকে ৮দফা সিদ্ধান্ত গ্রহন করিয়ে নেন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও সংগ্রাম কমিটির কতিপয় ধান্ধাবাজ নেতারা। এই সিদ্ধান্ত গুলোর মধ্যে দিয়ে তারা চরম চাপে ফেলে দেন সিএনজি অটোরিকসা মালিক-শ্রমিকদের। একদিকে ধর্মঘটের পাওয়ার, অন্যদিকে নতুন শক্তি পেয়ে গেলেন তারা প্রশাসন। এখন যায় কোথায় অটোরিক্সা ওয়ালারা। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে দেখা গেলো সিদ্ধান্তগুলো কাগজে কলমেই রয়ে গেল।
যেই – সেই। সিদ্ধান্ত হয়ে গেল তাবিজ, ধর্মঘট হয়ে গেল পকেট ভারীর শক্তি। নেতারা মিলে গেলে সিএনজি অটোরিকসা নেতাদের সাথে। সিএনজি অটোরিকসা নেতা জাকারিয়ার আদর যতেœ তারা খুশি হয়ে গেলেন। এখন আর কথা বলেন না অটোরিক্সার বিরুদ্ধে, ধর্মঘটও ডাকেন না। কারন মালিক শ্রমিকদের ব্যবহার করে, নিজদের স্থায়ী ধান্ধা ফিটিং করে নিয়েছেন অটোরিকসা থেকে। এখন আর তারা কথা বলেন না অটোরিকসার বিরুদ্ধে।
এখন কি আর বাস – মিনিবাসের ব্যবসা হুমকি কি হয় না, সড়কে আর দূর্ঘটনা কি ঘটে না, সিএনজিতে যানজট হয় না, শ্রমিকরা কি অনাহারে অর্ধাহারে থাকে না। জাকারিয়ার পুরিয়ায় তারা খুশি হয়ে সব কিছু মেনে নিয়েছেন, তাহলে এতোকিছু বলে কেন আন্দোলন করলেন তারা। তাদের মায়াকান্নার ধোকায় পড়ে মালিক শ্রমিকদের সাথে কেন প্রতারনা করলেন। সিএনজি অটোরিকসার একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তারা এই আন্দোলনকারী নেতাদের মাসোহারা হারে টাকা দেন।
টাকার হার আগে কম ছিল, তাই মালিক শ্রমিকদের ব্যবহার করে আন্দোলন ডেকে, প্রশাসন নিয়ে বৈঠক করার পর তাদের দাম বাড়িয়ে নিয়েছেন ওই দুই নেতা। তারা বলেন, ওই দুই নেতা এখন তাদের নেতা জাকারিয়া উপর নির্ভরশীল। তারা জাকারিয়ার ব্যাপারে বলেন, জাকারিয়া অবৈধভাবে আধিপত্য বজায় রেখে সিএনজি অটোরিকসার নেতা হয়ে বসে আসেন।
দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত ৭০৭ শ্রমিক সংগঠনের কোন নির্বাচন দেননি জাকারিয়া। তার শক্তি বিএনপি নেতা কালাম ও ধর্মঘট ফলিক। জাকারিয়া সম্প্রতি তার অটোরিকসা শ্রমিকদের আয় ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন, আয় করেছেন ১৮ লাখ ১৮ টাকা, ব্যয় করেছেন ১৮লাখ। এখন একাউন্টে আছে মাত্র ১৮ টাকা। শ্রমিকরা জানান, তারা খুব শিগগিরই জাকারিয়া বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন।
শ্রমিকদের টাকা পকেটে নিয়ে কার পকেটে তুলিয়ে দিচ্ছেন চাঁদা সেই হিসাব তারা চাইবে। এখনই সাথে জাকারিয়া চাদাবাজ সহযোগিদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মুখোশ খুলে দিবেন তারা। জাকরিয়ার বিরুদ্ধে যেমন শ্রমিকরা বিগড়ে গেছে, তেমনি ধর্মঘট ফলিক শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী হিসাবে এখন আলোচিত- সমালোচিত। তবে পর্দার পেছনে বিএনপি নেতা আবুল কালাম।
কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না এখনও। একাধিক মালিক জানিয়েছেন, আবুল কালাম সব দিকে লিয়াজো রা করে চলায় তিনি নিরাপদে ও স্বস্তিতে আসেন এখনও। কারন কালাম নিজে ব্যবহার হন না, ব্যবহার করান তার স্বার্থে। সফল হলে ঠিক আছে, ব্যবহার কেউ হয়ে ডাস্টবিনে গেলে কাউকে আর পাত্তা দেন না কালাম। অতীতে কতকে এভাবে ছুড়ে দিয়েছেন তিনি, ভুক্তভোগীরা সেই খবর জানে। কিন্তু বুঝলেন না জাকারিয়া, আর ধর্মঘট ফলিক। বুঝ হে সুজন ! সূূূত্র : ড্রীম সিলেট

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

March 2018
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares