জাফলংয়ে পড়ে আছে ৩০০ কোটি টাকার পাথর

প্রকাশিত: ৫:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০১৮

Manual7 Ad Code

মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট থেকে : জাফলং পাথর কোয়ারিতে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করে পরিবহন জটিলতায় পড়েছেন পাথর ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান বন্ধ হওয়া এবং সরকারের রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতি বছর শুকনো মৌসুমের ন্যায় এবারও আদালতের নির্দেশনার আলোকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

সিলেটের অপরাপর এলাকার কোয়ার ন্যায় দেশজুড়ে পাথর সরবরাহ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এবারও বোমা মেশিন ছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে (হাতে উত্তোলন) জাফলংয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার পাথর তুলে মজুদ করেছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পিয়াইন নদীর লামাপুঞ্জি থেকে সেই পাথর পারাপার করার কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন পাথর ব্যবসায় বিনিয়োগকারী অন্তত ৫ হাজার ব্যবসায়ীরা।

Manual4 Ad Code

সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায় যে, জাফলংয়ের পাথরের মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হাজারো পাথর ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণসহ লগ্নী টাকায় পাথর ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। এখানকার পাথর পরিবহনের জন্য শত শত ট্রাক কিস্তিতে কিনেন পরিবহন মালিকেরা। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সিলেটে পাথর ব্যবসার ভর মৌসুম। এ বছরও মূল ধারার পাথর ব্যবসায়ীরা শ্রমিক লাগিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে কেটে (হাতে তোলা) লামাপুঞ্জি এলাকায় পাথরের স্তপ করে রেখেছেন। কিন্তু সেখান থেকে উত্তোলিত এসব পাথর পরিবহনে পিয়াইন নদী পারাপারে কোন সুব্যবস্থা না থাকায় সেই পাথর পাহাড়সম হয়ে পড়ে আছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই সে পাথর কোনো রকম বাধা বিপত্তি ছাড়াই পরিবহন করতে না পারলে ব্যবসায়ীরা বড় অঙ্কের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। এ ব্যাপারে জাফলং বল্লাঘাট পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলওয়ার হোসেন বলেন, প্রতি বছরই আমরা হাতে তোলে পাথর মজুদ করি। এবারও সমিতির ৪৪০ জন ব্যবসায়ী পাথর মজুদ করেছেন।

কিন্তু পাথর পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পথে বসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই রকম সমিতির বাইরে ক্ষুদে আরও ৫ হাজার ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় নেমেছেন। তারা চরম হতাশায় রয়েছেন। গোয়াইনঘাট উপজেলা-জাফলং ট্রাক শ্রমিক শাখার সভাপতি মো. ফয়জুল ইসলাম বলেন, সিলেটের পাথর ট্রাক শ্রমিকেরা সারা দেশে পৌঁছে দেন। কিন্তু এবার এখানে পাথর আটকা পড়ায় অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গোয়াইনঘাট ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বক্স বলেন, পাথর মৌসুমে আমাদের ট্রাকগুলো ভালো ট্রিপ দিয়ে অর্থ উপার্জন করে। সে কারণে অনেক ট্রাক মালিক কিস্তিতে টাকা তোলে ট্রাক কিনেছেন। কিন্তু পাথর নদীর ওপার থেকে পার করার সংকটের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন ট্রাক মালিকেরা। আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের একজন পাথর ব্যবসায়ী জানান, উত্তোলিত এসব পাথর পরিবহনে একটি অস্থায়ী ব্রীজ নির্মিত হওয়ায় সে ব্রীজটি একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের দায়েরকৃত মামলা ও আইনী জটিলতায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যদি এই অস্থায়ী ব্রিজটি ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে জাফলং পাথর কোয়ারির এসব উত্তোলিত পাথর পরিবহন কোনক্রমেই সম্ভব হবে না। পাশাপাশি হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার সঙ্গে সরকারও এসব পাথর থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হবেন। ফরহাদ নামের একজন শ্রমিক নেতা জানান, পাথর উত্তোলন, পরিবহন, শ্রমিকের কর্মসংস্থান সহ সরকারের রাজস্ব প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয় এমন অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। সেই লক্ষ্যে আমরা মাননীয় উচ্চ আদালতের কাছে উক্ত বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার জন্য জোর দাবী জানাই এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করতঃ কোনক্রমেই যেন উক্ত ব্রীজটি ভেঙ্গে ফেলা না হয়।

Manual5 Ad Code

এব্যাপারে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন,‘ ব্যবসায়ীরা যদি পাথর পারাপারের নিজস্ব বিকল্প কোনো উদ্যোগ নেন, তবে আমরা সাধুবাদ জানাবো। এরকম কোনো উদ্যোগ নিলে কিছু নির্দেশনা তাদের মেনে চলতে হবে।সূত্র – মানবজমিন

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..