সিলেট-তামাবিল হাইওয়ে রোডে তিন চাঁদাবাজ, নেই প্রশাসনিক তৎপরতা!

প্রকাশিত: ২:০৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০২০

সিলেট-তামাবিল হাইওয়ে রোডে তিন চাঁদাবাজ, নেই প্রশাসনিক তৎপরতা!

Manual1 Ad Code

ক্রাইম প্রতিবেদক : টোকেনের আরেক নাম পুলিশ টোকেন। দেদারছে চলছে চাঁদা আদায় বাণিজ্য আর দালালি। তিন চাঁদাবাজদের কারনে সিলেট-তামাবিল হাওয়ে রোড’র অনটেষ্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা এখন চরম বিপাকে। জৈন্তা,গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট তিনটি উপজেলার টোকেন বাণিজ্যের মূল কারিগর তারা। দুইজন হলেন একই বাবার সন্তান জৈন্তাপুর উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের আব্দুল মনাফ ওরফে গাছ মনাফের ছেলে নুরুল হক ও তার ছোট ভাই বাবুল। হরিপুর মাছ বাজারে পলিথিন ব্যাগ বিক্রেতা থেকে এখন তারা কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক।

ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়-স্থানীয় দৈনিক পত্র-পত্রিকা, টিভি চ্যানেলসহ অনলাইন নিউজপোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারনে এখনও তারা আইনের ধরাচোয়ার বাইরে। তাদের সাথে রয়েছে আরেক সহযোদ্ধা পীরের বাজার এলাকার নিজাম উদ্দিন ওরফে নাজিম। এই চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে সিলেট-তামাবিল রোডে চাঁদা আদায় বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় এলাকায় তাদেরকে সকলেই ‘পুলিশ টোকেন’র মালিক হিসেবে চিনে। থানা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের অতি কাছের লোক এই তিন চাঁদাবাজ।

Manual6 Ad Code

জানা গেছে, হাজার-দেড়হাজার অনটেষ্ট সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে মাসে অন্তত ৮লাখ টাকা উর্পাজন হয় তাদের। প্রতি সিএনজি ফোরষ্ট্রোক হতে টোকেন প্রতি হাতিয়ে নেয়া হয় ৫-৭শ’ টাকা হারে। যে চালক তাদের টোকেন ব্যবহার করবেনা তাদের কপালে জুটে মামলা, হামলা ও গাড়ি ছিনতাই। এভাবে সে নিজেও বেশ কয়েকটি সিএনজি ফোরষ্ট্রোক গাড়ির মালিক বনে গেছে। হরিপুর এলাকায় গড়ে তুলেছে বড় একটি সিন্ডিকেট গ্রুপ। হরিপুর স্কুল মার্কেট-এ প্রতিদিন সন্ধ্যারপর মদ জুয়ার আসর বসায় সে। মালিক সমিতি নামে ওই অফিসে রয়েছে তার একটি টর্চার সেলও। সেখানে ২/৩জন কর্মচারীও থাকেন। প্রতিরাতে মাদকাসক্ত হয়ে অনেক অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও নুরুল হক গোপনে আড্ডা জমায়। এছাড়া তার ছোট ভাই বাবুল রাস্তার উপরে দিন-রাত মোটরসাইকেল যোগে গাড়ি চালকদের পাহারা দেয়।

এদিকে নাজিম উদ্দিন সিলেট নগরীর ট্রাফিক পুলিশ ও শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশের নামে চাঁদা আদায় করে থাকে। জেলা পর্যায়ে নুরুল হক আর এসএমপি পর্যায়ে নাজিম। রাতভোর পর্যন্ত তাদেরকে কখনও বটেশ্বর বাজার, পীরের বাজার, সুরমা গেইট পয়েন্ট ও থানা-পুলিশ ফাঁড়িতে দেখা যায়। এমন কোন পুলিশ সদস্য নেই রাতের ডিউটিতে গেলে তার সাথে বসে নাস্তা করেন না। তবে ট্রাফিক পুলিশের ব্যাপারটি তারা গোপনে ছেড়ে ফেলে। ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট শাওন এই মাসোহারা চাঁদা আদায় করে থাকেন। শাওন সিলেটের স্থানীয় লোক হওয়াতে অফিস আদালতেও রয়েছে তার আধিপাত্য। অনেক সময় তার বিরুদ্ধে সিনিয়র অফিসাররাও কথা বলতে নারাজ। শাওনকে সহযোগীতা করেন আরেক ট্রাফিক পুলিশ কর্মচারী হাবিব। অভিযোগ রয়েছে তিনটি উপজেলার প্রত্যেকটি থানা পুলিশ টেবিলে মাসোহারা চাঁদা পৌছে দেয় এই চক্র।

Manual6 Ad Code

এদের সাথে জড়িত রয়েছে বন্দরবাজার এলাকার ফুটপাতে বসা জুতা বিক্রেতা জয়নাল, আজাদ ও জমির দালাল লোকমান সহ ভূইফোর সংবাদকর্মী পরিচয়ধানকারী একাধিক ব্যক্তি। এতে লক্ষ্য নেই বিআরটি এর কতৃপক্ষেরও। লাইসেন্স বিহীন চালক,মালিকানা নিবন্ধন, ট্যাক্স টোকেন ছাড়াই চালিয়ে দিচ্ছে এসব মোটরযান। তাও গাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে শুধুমাত্র একটি টোকেন। প্রশাসনের এমন কর্মকান্ডে দিশেহারা সচেতন মহল। কারন এমনিতেই হাইওয়ে রোডে এসব যানবাহন চলাচলেও রয়েছে বিধি-নিষেধ। কিন্তু কেউ কারো কথা কর্ণপাত করছে না। প্রশাসনিক তৎপড়তার দুর্বলতার কারনে চাঁদা আদায় বাণিজ্য মহামারী রুপ ধারণ করছে! অথচ তাদের কোন বক্তব্য নিতে গেলেই বরাবরের মতো চক্রটি চাঁদাবাজির বিষয় এড়িয়ে যায়।

Manual2 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

November 2020
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..