ইরফানের অপরাধ রাজত্ব নিয়ন্ত্রনে কে এই মোরাদ?

প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

ইরফানের অপরাধ রাজত্ব নিয়ন্ত্রনে কে এই মোরাদ?

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক :: ঢাকা ০৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের সব জায়গা থেকে চাদাঁ উত্তোলন ও সব ধরনের অবৈধ ব্যবসার টাকা হিসেব নিকেষ করে ইরফান সেলিম কে প্রতিদিন বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন বর্তমান চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম মোরাদ। মোরাদ যদিও ২০০১ সালে বরিশাল থেকে ঢাকায় আসেন কাজের উদ্দেশ্যে, এরপর মধুপুর ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে লেবার হিসেবে গাড়িতে মাল লোড-আনলোডের কাজ করতেন। এরপর ২০০৬ সালে মোরাদের পরিচয় হয় এমপি হাজী সেলিমের ভাগিনা পিল্লু এর সাথে, তারপর পিল্লুর আন্ডারে চাঁদা উত্তোলনের কাজ করতেন। ২০১৫ সালের ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে পিল্লু ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে স্থান দখল করেন। এরপর সোয়ারীঘাটের মালামাল লোড-আনলোডে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় ও ক্যাডার বাহিনী চালানোর দায়িত্ব পান মোরাদ। পিল্লু ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর থাকাকালীন টানা ৫ বছর উনার আন্ডারেই ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ৩০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হন এমপি হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। নির্বাচিত হওয়ার পরে মোরাদকে চাঁদা উত্তোলন ও অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য ইরফান সেলিম তাকে তার মানুষ হিসেবে নিয়োগ করেন।

এবং ইরফান সেলিমের আন্ডারে নিয়োজিত ক্যাডার বাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব দেন মোরাদকে। ক্যাডার বাহিনীর নিত্যদিনের খরচপাতি মোরাদ নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং বাকি টাকা ইরফান সেলিমের অফিসে ব্যাগে ভরে জমা দিতেন। শুধু ইরফান সেলিম মানুষের জায়গা দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ ব্যবসার টাকা খায় নি। মোরাদও ইরফান সেলিমের মাধ্যমে বনে গেছেন হাজারোও কোটি টাকার মালিক। মোরাদের ব্যক্তিগত দুুটি গাড়ী আছে, যার একটি গাড়ী হ্যারিয়ার ব্র্যান্ডের গাড়ী নং- ঢাকা মেট্রো ঘ-১৮-২৯২৬, যার বাজার মূল্য ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি এবং এফ প্রিমিও ব্র্যান্ডের গাড়ী নং- ঢাকা মেট্রো গ-৩২-৮৪৪৭, যার বাজার মূল্য ৩৫ লক্ষ টাকারও বেশি। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ব্যাংকে মোরাদের স্ত্রী রাফা খানের নামে কোটি কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। মোরাদের নামে-বেনামে ঢাকা শহরে কয়েকশ কোটি টাকার ফ্ল্যাটসহ জমি জায়গা রয়েছে। মোরাদ বরিশাল থেকে কেরানিগঞ্জে একটি বিলাশবহুল বাড়ী করে কেরানিগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা বনে যান। হাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে আমিনুল ইসলাম মোরাদ (৩৭), ঠিকানা- আটিগ্রাম, পো: আটি, থানা: কেরানিগঞ্জ দক্ষিণ, জেলা: ঢাকা, বর্তমান- মধুপুর ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মির্জা ভবন ২৪/২ মহিউদ্দিন লেন, ইমামগঞ্জ, থানা: চকবাজার, জেলা: ঢাকা।

উপরোক্ত ঠিকানায় মোরাদের নামে গত ২৯শে আগষ্ট ২০২০ইং তারিখে একটি চোরাচালানের মামলা হয়, চকবাজার থানার মামলা নং- ৪১,জিআর-৩৩০, ধারা- ১৫(১) এর ৪(ক), (খ), ১২: বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫(সংশোধিত ২০১০) । ২২ লক্ষ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ করেন র‌্যাব ও পরিবেশ অধিদফদর মিলিতভাবে। এই মামলায় ২নং আসামী জামাল উদ্দিন জুয়েল ১নং আসামী মোরাদ পলাতক না থাকলেও চকবাজার থানা পুলিশের সাথে সুসম্পর্ক থাকার কারণে মোরাদকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। যদিও মোরাদের বস ইরফান সেলিম বর্তমানে জেল হাজতে থাকলেও মোরাদের নেতৃত্বে চলছে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা। অনুসন্ধানে জানা যায়, মোরাদের কাছে ইরফান সেলিমের বিভিন্ন লুকায়িত গুপ্ত জিনিস রয়েছে যেসব জিনিসগুলো ক্যাডার বাহিনীর বিভিন্ন অবৈধকাজে ব্যবহার করা হয়। মোরাদ একাধিক মামলার পলাতক আসামী, তবুও থামেনি তার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি। ২০১৫ সালে মোরাদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলার পলাতক আসামী হিসেবে রয়েছে সে, চকবাজার থানা মামলা নং-৬, জিআর নং-৫৫৩, তারিখ: ১৭/০৪/২০১৫ইং, মামলার চার্জশীট নং- ২২২, তারিখ: ৩০/০৬/২০২০ইং। এই মামলায়ও মোরাদ ১নং এজহারভুক্ত আসামী।

তার বিরুদ্ধে সি.আর/জি.আর, জিডি সহ বহু মামলার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের কিছু সদস্যের সাথে রয়েছে তার রফাদফা সম্পর্ক, এ কারণে মামলায় ১নং এজহারভুক্ত আসামী হয়েও থানার ওসির রুমে বসে চা খাওয়ার ক্ষমতাও রাখেন এই আমিনুল ইসলাম মোরাদ।

এ ব্যাপারে মোরাদের ব্যক্তিগত ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করিলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেন নি।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

October 2020
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

সর্বশেষ খবর

………………………..