সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সোনিয়া, আর ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। একে অপরকে ভালবেসে ঘর বাঁধার স্বপ্নে মাত্র ৪০ দিন আগে বিয়ে করেন তারা। সোমবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে সোনিয়াকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠাতে সব আয়োজন করা হয়। কিন্তু গাইনোকলজিক্যাল সমস্যায় কখনও মা হতে পারবেন না চিকিৎসকের দেওয়া এমন একটি রিপোর্টের কথা জানতে পেরে ভোরে বাবার বাড়িতেই আত্মহত্যা করেছেন সোনিয়া।
সোনিয়া খাতুন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জালালপুর গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার মুনছুর আলীর ছোট মেয়ে। হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনার পর বর-কনের পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা জানায়, ওয়ার্ড মেম্বার মুনছুর আলীর এক ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে সোনিয়া ছোট। সোনিয়া খাতুন যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অনার্স ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। আর পিয়াল হোসেন যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়ীয়া গ্রামের মইন উদ্দিনের ছেলে। পিয়াল ভারতের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। লেখাপড়ার সুবাদে যশোরে তাদের পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে ঘর বাঁধার স্বপ্নে সোনিয়া এবং পিয়াল গত ১০ জুন বিয়ে করেন। বিয়ের পর পিয়াল লেখাপড়ার জন্য ভারতে চলে যান।
সোনিয়ার বাবা মুনছুর আলী জানান, এরই মধ্যে মেয়ে অসুস্থ হলে তাকে যশোরের একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ওই চিকিৎসক সোনিয়ার বাবাকে গোপনে জানান, তার মেয়ে কখনও মা হতে (গর্ভধারণ) পারবেন না। অবশ্য এ কথা মুনছুর আলী গোপন না করে তার স্ত্রীকে জানান। পরবর্তিতে সোনিয়া তার মার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। ফলে সব সময় সোনিয়ার মন খারপ থাকতো। এরই মধ্যে দুই পরিবারের সম্মতিতে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সোনিয়াকে তার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যাবার দিন নির্ধারণ করা হয়। সে অনুযায়ী মুনছুর আলী মেয়েকে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। কিন্তু তার আগেই সোনিয়া ভোরে সকলের অজান্তে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মেয়ের মরদেহ জড়িয়ে মুনছুর আলী ও তার স্ত্রী শোকে বিলাপ করছেন আর বলছেন, ডাক্তারের রিপোর্ট শুনেইে আমাদের মামণি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল। অন্যদিকে স্ত্রীর মৃত্যুর কথা শুনেই পিয়াল ও তার অভিবাবকরা ছুটে আসেন। পিয়ালও তার স্ত্রীর মরদেহ জড়িয়ে ধরে বিলাপ শুরু করেন।
মনিরামপুর থানার ওসি (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সোনিয়ার বাবা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd