গোয়াইনঘাটে পরপর তৃতীয় দফা বন্যায় আউস ফসলের ও বীজ তলার ব্যাপক ক্ষতি

প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২০

গোয়াইনঘাটে পরপর তৃতীয় দফা বন্যায় আউস ফসলের ও বীজ তলার ব্যাপক ক্ষতি

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা :: বন্যায় গোয়াইনঘাট উপজেলার তলিয়ে গেছে নিন্মাচ্ছলের প্রায় সাত’ হাজার একশত হেক্টরের বেশি ফসলি জমি ও ৪’০০০ হাজার হেক্টর বীজ তলা। প্রায় দেড় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পানির নিচে ডুবে থাকা এসব ফসল বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে চলতি মৌসুমের আউস ধান, বীজতলা সহ সবধরনের সবজি পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ফতেপুর ও নন্দিরগাও ইউনিয়নে আউসের ফসল বেশি হয়।

গত ০১ জুলাই থেকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও স্থানীয় ভারী বর্ষণের ফলে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকে। পানির নিচে তলিয়ে যায় গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশিরভাগ ফসল ও বীজ তলা। আটারো দিনের বেশি সময় ধরে পানির নিচে আছে। ফলে সম্পূর্ণরূপে এসব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

এই আগাম বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলের বাড়ির আঙ্গিনায়,মাঠের সবজি চাষিরা। পটল, ঢেড়শ, চিচিংগা, ঝিঙ্গা, বেগুন, চালকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি জাতীয় ফসলের সবেমাত্র ফলন আসা শুরু হয়েছে এমন সময় বন্যায় তলিয়েছে। তলিয়ে যাওয়া এসব ক্ষেতের ফসল পচে নষ্ট হচ্ছে। বিনিয়োগকারী অনেক সবজিচাষী বিনিয়োগ হারিয়ে পথে বসার উপক্রম সবজি কৃষকদের। গ্রামাঞ্চলের অনেক গৃহিণী বলেন, নিতান্ত পরিবারের খাবারের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব সবজি বাড়ির আঙ্গিনায়, বারান্দায়, ঢালাই অথবা মাচায় রোপণ করেছিলেন তাও পুরাপোরি নষ্ট হয়ে গেছে। যা দিয়ে পরিবারের কিছুটা সবজির খাদ্য ঘাটতি পূরণ হতো, তা থেকে এবারের বন্যায় উনারা পুরাটাই বঞ্চিত।

অপরদিকে প্রায় শতাধিক পুকুর ও ফিসারি প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মাছচাষিরা। উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জীবন কৃষ্ণ রায় বলেন, টানা বৃষ্টি আর বন্যার কারণে কৃষিতে ক্ষতি হয়েছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন বীজতলা তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

এছাড়াও বন্যার পর ক্ষতি নিরূপণে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে যা সরকারের নিকট পাঠানো হবে। সেই হিসাবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আংশিক হিসাবে তিনি বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রায় ৭,১০০’০০ সাত হাজার একশত হেক্টর আউস ফসলি জমি ও ৪০০০’০০ চার হাজার হেক্টর বীজ তলা রয়েছে।ক্ষয়ক্ষতির পুরো হিসাব এখনো তাদের হাতে আসে নাই, ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। দুই এক দিনের ভিতরে উপজেলার পুরো রিপোর্ট চলে আসবে ইনশাআল্লাহ।

Sharing is caring!

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..