সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : পুলিশ কনস্টেবল স্বামীর বর্বর নির্যাতনের শিকার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের সেই ব্র্যাককর্মী ইয়াসমিন আক্তার খানম (৪১) আর নেই। পুলিশ স্বামী প্রেমানন্দ ক্ষত্রিয় কর্তৃক পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় মারাত্মকভাবে ঝলসে যাওয়া স্ত্রী ইয়াসমিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে টানা ১২ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার ভোরে মৃত্যুবরণ করেন। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে নেত্রকোনা জেলা সদরের সাতপাই রেলক্রসিং এলাকায় নিজ বাড়িতে মরদেহ নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন মৃত ইয়াসমিনের পরিবারের স্বজনরা।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরেই গত ৩০ জুন দিবাগত রাতে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার বাজারিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় প্রেমানন্দ তার স্ত্রী ইয়াসমিনের সারা শরীরে পেট্টল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালান।
ইয়াসমিনের বোন আসমা আক্তার সেতু কালের কণ্ঠকে জানান, তার বোন ইয়াসমিন গত ১ জুলাই ভোর থেকে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শরীরের শতকরা ৮০ ভাগ আগুনে পুড়ে ঝলসে যাওয়ায় তার অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন ছিল। সোমবার ভোরে ইয়াসমিন মারা যান। সোমবার বিকেল চারটার দিকে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন স্বজনরা।
স্বামীর হাতে বর্ববর নির্যাতনের শিকার হয়ে ব্র্যাকের দেওয়ানগঞ্জ অফিসের কর্মসূচি সংগঠক ইয়াসমিন আক্তারের মৃত্যুতে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে ব্র্যাকের জামালপুর জেলা সমন্বয়ক মো. মুনির হোসেন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্র্যাকের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে দারিদ্র বিমোচনে এবং মানুষের সেবায় কাজ করেছেন ইয়াসমিন। তার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি পুলিশ কনস্টেবল প্রেমানন্দ ক্ষত্রিয়র ফাঁসির দাবি জানিয়ে জামালপুরের মানবাধিকার সংগঠক জাহাঙ্গীর সেলিম কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি একটি বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড। গ্রেপ্তার আসামি প্রেমানন্দ ক্ষত্রিয়র ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম ময়নুল ইসলাম জানান, ১ জুলাই ইয়াসমিন আক্তার খানমের বোন হাজেরা বেগম বাদী হয়ে তার বোনের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পুলিশ কনস্টেবল প্রেমানন্দ ক্ষত্রিয়কে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিক্রমে মৃত্যুর কয়েকদিন আগে একজন ম্যাজিস্ট্রেট্রের উপস্থিতিতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ইয়াসমিন আক্তার খানমের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেছি। আসামি পুলিশ কনস্টেবল প্রেমানন্দ ক্ষত্রিয় জামালপুর জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd