সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা :: দুইশত আসট্টি-টি গ্রাম ও দশ-টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গোয়াইনঘাট উপজেলা। ৩য় বারের বন্যায় প্লাবিত প্রায় ১৫০-টি গ্রাম দেড় লক্ষ মানুষ পানি বন্দি। উপজেলার বেশির ভাগ স্কুল কলেজ মাদ্রাসা পানিতে নিমজ্বিত। নষ্ট হচ্ছে দরকারি আসবাব পত্র ও প্রয়োজনীয় ডুকুমেন্টারী। গ্রামের ভিতেরর যাতায়াতের রাস্তায় ২-৩ থেক ৪ ফুট পর্যন্ত পানি বিদ্যমান।যার জন্য প্রধান সড়কে নেই মানুষের আনা গুনা। একান্ত প্রয়োজনে যারা বাড়ীর বাহির হচ্ছেন তাদের পরনে সট-প্যান্ট বা গামছা।যান্ত্রিক যোগ নৌকা নাই বললেও চলে।
নন্দিরগাঁও গ্রামের রহিম নামে(ছন্দনাম)একজন বলেন বাড়ীতে পানি উঠায় বাচ্ছা কাচ্ছারা সাতার না জানায় নিরপত্তার জন্য শ্বশুর বাড়ীতে চলে এসেছি।এই রকম হাজার জন যার যার নিকট আত্বীয়র বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন।নুরুল আমিন নামের একজন হাওরের বাসিন্দা বলেন ত্রাণ নয় প্রান চাই।অথাৎ উনি বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সংকটে ত্রাণ-কে প্রান সমতুল্য মনে করছেন। নুরুল নামে আরোও একজন বলেন বন্যার এলোপাথাড়ি ঢেউয়ে ঘরের দুই দিকের বেড়া ফেলে দিয়েছে। তবুও তিনি অন্যত্র যাওয়ার চিন্তা করছেন না। কারণ ঘরের অনেক দরকারি জিনিসপত্র রেখে যাওয়া সম্ভব নয়।
সিলেটের সীমান্তবর্তী গোায়াইনঘাট উপজেলায় গত মাসে কয়েকটি গ্রামে বন্যা হওয়ার পর বিগত বুধবার থেকে এই উপজেলায় ৩য় দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে দুর্যোগ। বন্যার পানি বাড়িঘরে ঢুকে যাওয়ায় মানুষ অন্যত্র সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার স্হানীয়ভাবে অবিরাম বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে গোয়াইনঘাটের দু’টি নদী পিয়াইন ও সারী নদী’র ঢলে উপজেলার সর্বত্র প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রোপা আউস, আউসের বীজতলা এবং রোপা আউস ও ইরি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দেশের বৃহত্তম পর্যটন এলাকা জাফলং ও বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারী দু’টি বন্ধ রয়েছে। কোয়ারীগুলোতে খেটেখাওয়া হাজারো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। ২য় দফার বন্যায় গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও, তোয়াকুল, লেঙগুড়া, পূর্ব জাফলং, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, আলীরগাঁও এবং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের সকল গ্রামের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ঘরের চুলায় আগুন দিয়ে রান্না করতে না পারায় শিশু বাচ্চাসহ মানুষজন চরম বেকায়দায় পড়েছেন। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তাদের মধ্যে বিরাজ করছে। গবাদি পশু নিয়ে কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে।
এছাড়া উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের অন্যতম দু’টি রাস্তা সালুটিকর, গোয়াইনঘাট ও সারি-গোয়াইনঘাট রাস্তার অনেক স্থানে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছ।
উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামের চতুরদিকে পানি আর পানি। ঘরবাড়ি থেকে লোকজন বের হতে না পারায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গবাদি পশু নিয়ে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। দেখা দিয়েছে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট। কিছু জায়গায় ভেসে উঠেছে ভেড়া ও ছাগল মরার দৃশ্য। তারচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন পাথর কোয়ারীতে কর্মরত হাজারো শ্রমিক। ভারতের ডাউকি নদীর ঢলে জাফলং-এর পিয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাথর কোয়ারীগুলো বন্ধ রয়েছে। সারিবদ্ধভাবে পিয়াইন নদীর তীরবর্তী এলাকায় শ্রমিকরা বেঁধে রেখেছেন শত শত নৌকা।বন্যার পানির সাথে সাথে বেড়েছে সাপ-বিচ্ছুর উপদ্রব সাথে নানারকম জীবজন্তুর মরা ও পচা দুর্গন্ধ। পানিবন্দি মানুষের ঘরে দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাব। বন্যায় বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় সেলো ও গভীর নলকূপ পানিতে তলিয়ে গেছে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম শিথিলযোগ্য থাকলেও তরকারি ও শাকসবজির মূল্য চড়া। যেকোনো ধরনের তরকারি বাজারে ৫০ থেকে ৬0 টাকা কেজি।
এমতাবস্থায় প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে শুকনা খাবার দেয়াশলাই মোমবাতি খাবার স্যালাইন সহ পানি বিশুদ্ধ করনে ফিটকিরি। দীর্ঘ চার মাসের করোনা ও পর পর তিনবারের বন্যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত নেতিয়ে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
ফেইসবুক জগতের সুবাদে আমরা দেখতে পেয়েছি আমাদের উপজেলার সুযোগ্য নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুস সাকিব কলাগাছের বেরুয়া দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করছেন। উপজেলাবাসী উনার সময় উপযোগী সঠিক নেতৃত্বের জন্য সাধুবাদ অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপজেলাবাসীর দাবি এই সংকটময় মুহূর্তে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের অবস্থা বিবেচনায় এনে গোয়াইনঘাট উপজেলা কে প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ ও দুর্গত উপজেলা ঘোষণায় উনার সদয় সম্মতি জ্ঞাপনে বিবেচনায় আনবেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd