সিলেট সদর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে ‘মক্ষিরাণী’র সন্ধান: জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

সিলেট সদর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে ‘মক্ষিরাণী’র সন্ধান: জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকল নবীশ এক ‘মক্ষিরাণী’র সন্ধান পাওয়া গেছে। তার নাম আফিয়া বেগম এবং সে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত চাল্লাইন গ্রামের সৌদী প্রবাসী ময়না মিয়ার স্ত্রী ও সিলেট নগরীর কুমারপাড়াস্থ মৌসুমী ৩৪ নং বাসার বর্তমান বাসিন্দা। স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে পরকীয়া প্রেম করে বহুজনকে সর্বস্বান্ত ও একাধিক নারীর সংসার তছনছ এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ‘লাস্যময়ী’ এই নারীর কারণে রাস্তায় বসেছে বহু নারী ও পুরুষ। গত ৫ জুলাই সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দেওয়া এক আবেদনপত্রে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ, সিলেট সদর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের নারী শিক্ষা নবীশ আফিয়া বেগম পরকীয়া প্রেম ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি টাকার জ্ঞাতআয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন করেছে। সম্প্রতি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত চাল্লাইন গ্রামে ৫ শতক ভূমির উপর কোটি টাকার আলীশান বাড়ি করেছে সে। পরকীয়ায় আপন বাসুরপুত্রের সাথে ধরা পড়ে। পরে ৫ লাখ টাকা দিয়ে ওই বাসুরপুত্রকে সৌদী আরব পাঠায় সে। প্রতারণার মাধ্যমে আপন ভগ্নিপতি হেলাল আহমদ চৌধুরীকে সর্বস্বান্ত করে সিলেট সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস ছাড়তে বাধ্য করে। ডিড রাইটার আহমদ হোসেনের স্বাক্ষর জাল করে অফিসের গোপন দলিলাদির নকল সাপ্লাই করে পরে ধরা পড়ে। অফিসের একাধিক পিয়ন ও ডিড রাইটারদের সাথে রয়েছে তার সম্পর্ক।

সর্বশেষ সিলেট সদর সাবরেজিষ্টি অফিসের দলিল লেখক হাসান আহমদের সাথে পরকীয়া প্রেমে মজে পড়ে নকল নবীন ওই আফিয়া। পরকীয়ার সুবাদে হাসানকে তার কাজীটুলাস্থ বাসা ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি করিয়ে হাসানের স্ত্রী-পরিবারকে ভাসমান করে দেয়। হাসান বর্তমানে পরিবার নিয়ে শেখঘাট এলাকায় থাকেন। পাশাপাশি পরকীয়া আফিয়ার বাসাভাড়া ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করে চলেছে সে। দলিল লেখক হাসানের সাথে আফিয়ার অন্তরঙ্গ সম্পর্কের বহু ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। আফিয়ার সাথে পরকীয়ায় বাঁধা হওয়ায় দলিল লেখক হাসান তার স্ত্রী-পরিবারে উপর চালিয়ে যাচ্ছে অবর্ণনীয় নির্যাতন।

সিলেট সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের নকল নবীন ‘মক্ষীরাণী’ আফিয়ার সাথে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে ২০১৮ সালের ১৩ জুন সিলেট কোতয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং-৮১৫) করে হাসান পরিবার। এতদসত্বেও দলিল লেখক হাসানের সাথে আফিয়ার দহরম-মহরম অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা গোপন এই অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং অভিযোগের তদন্ত-অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে নকল নবীশ আফিয়া বেগমের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকের সাথে এসব বিষয়ে কথা বলার তার সময় নেই বলে জানায় সে।

দলিল লেখক হাসান আহমদের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তি এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় ৪ টি অভিযোগ দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন- তদন্তে সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করারও হুমকি দেন তিনি।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..