কানাইঘাট থানার সোর্স কে এই দালাল লুৎফুর

প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

কানাইঘাট থানার সোর্স কে এই দালাল লুৎফুর

কানাইঘাট প্রতিনিধি : সিলেটের কানাইঘাট থানার দালাল লুৎফুর রহমানের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অতিষ্ট্য স্থানীয় এলাকার জনসাধারণ। সে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের খালোপার গ্রামে বাসিন্দা মৃত আনফর মিয়ার ছেলে। তার কোন রকম আয়ের উৎস্য বা ব্যবসা-বানিজ্য না থাকলেও চাল-চলন জমিদারী স্টাইলে।

স্থানীয়দের কাছে সে থানার দালাল বা সোর্স হিসাবে পরিচিত। তার কাজই হচ্ছে পুলিশ দিয়ে নিরোপরাধ মানুষকে হয়রানী করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজী করা, এটাই চলে তার সংসার। এ কাজে সে এতোই চতুর স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানগনও সরকারি উন্নয়ন কাজ করতে গেলেও লুৎফুরকে চাঁদা না দিয়ে কোন কাজ করা সম্ভব নয় এলাকায়।

এনিয়ে স্থানীয় মেম্বারের সাথে বেশ কয়েকবার ঝামেলাসহ বিচার শালিস হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়ে থানার দালালী ও সোর্সগীরি করায় লুৎফুর এলাকায় তার একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছে। সেই বাহিনীর হয়রানি থেকে খুদ ইউনিয়নের জন-প্রতিনিধিরাও রেহাই পায়নি। লুৎফুর রহমানের সকল অপকর্মের সহযোগী তার শশুর কয়ছর আহমদ উরফে (কয়সর মরিল) তিনিও খালোপার গ্রামের বাসিন্ধা। তবে পেশায় তিনি ভুমি অফিসের একজন মুহরি হলে জাল-জালিয়াতি তার মুল পেশা হয়ে উঠেছে। অন্য জমি নিজের করে নেওয়া, আরেক জনের জমি অপর জনকে দিয়ে আবার টাকার বিনিময়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে একাধিক। আর এসব জালিয়াতির মূলসহযোগী তার মেয়ের জামাই এই সোর্স লুৎফুর বা দালাল লুৎফুর। সে থানার দালালি করে এলাকার কত মানুষের সর্বশান্ত আর বিনা অপরাধে হয়রানী করেছে তার হিসাব সে নিজেও জানেনা।

সম্প্রতি সে গ্রামের কয়েকজন অসহায় মানুষকে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা, বিধবা ভাতা এবং বয়স্ক ভাতা পাইয়ে দেয়ার নাম করে জনপ্রতি ১ থেকে ২ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই কখনো সে নিজে বাদী আবার অন্য কাউকে বাদী সাজিয়ে থানায় মিথ্যা মামলা করে, তার পরিচিত পুলিশ নিয়ে এসে তদন্তের নামে দফারফা করে টাকার বিনিময়ে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া এটাই এখন তার আসল আয়ের উৎস্য। তার এসব কর্মকান্ডে অতিষ্ট্য হয়ে এলাকার লোকজন তাকে বেশ কয়েকবার গণধোঁলাইও দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এক সময়ের থানার চিহ্নিত দালাল এখন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে বিশাল নেতা। তার কথায় নাকি চলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা এমন দাম্বক্তি প্রায়ই দিয়ে থাকে সে। সম্প্রতি তার নিজ গ্রামে বদরুল ইসলাম বাবুল নামের এক সরকারী কর্মচারী তার টার্গেটে পড়েছেন, বাবুলের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবী করলে এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে খালোপার গ্রামে। ঐ সরকারি কর্মচারী তার কথা মতো চাঁদা না দেওয়া লুৎফুর বাহিনী কয়েক দিন আগে তার বসবাড়িতে হামলা করে ভাংচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে শিঘ্রই প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হবে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..