সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কেয়া খাতুন নামে এক নববধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ব্যর্থ প্রেমিক মিলন ও তার দুই বন্ধু। ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেন তারা। লাশ উদ্ধারের তিন মাস পর তাদের গ্রেপ্তার হলে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন নিহতের মিলন ও অপর দুই ধর্ষক।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কালীগঞ্জের ত্রীলোচনপুর গ্রামের সলেমান হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন (২৬), একই গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে ইসরাফিল (২৫) ও আজগর আলীর ছেলে আজিম (২৬)।
জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ মার্চ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দাদপুর গ্রামের একটি রাস্তার পাশ থেকে মাথার চুলসহ ক্লিপ ও একটি স্যান্ডেল পাওয়া যায়। যার সূত্র ধরে ওই গ্রামের মাঠের মধ্যে থেকে কলাগাছ ও গাছের পাতার নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, লাশটি কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রীলোচনপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে কেয়া খাতুনের। লাশ উদ্ধারের ১৭ দিন আগ থেকে ধরে নিখোঁজ ছিলেন কেয়া।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের পর হত্যার মোটিভ বের করা ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকারীদের কোনো আলামত না পেয়ে ক্লু-লেস এ মামলার তদন্তে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরে কেয়ার বিয়ের আগে ও পরে নানা বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এতে জানা যায়, কেয়ার সঙ্গে তিন বছর আগে থেকে একই গ্রামের সলেমানের ছেলে মিলন হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কেয়ার পরিবার একই উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মাইক্রোবাস চালক সাবজাল হোসেনের সঙ্গে তাকে বিয়ে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘মিলন হোসেন প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এ ঘটনা ঘটাতে পারে- এমন সন্দেহে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর এলাকায় ছদ্মবেশে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে গত ১৬ মার্চ জীবননগরের হাসাদাহ এলাকা থেকে মিলনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মিলন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় ইসরাফিল ও আজিম জড়িত বলে জানান।’
এসপি বলেন, ‘মিলনকে গ্রেপ্তার করা হলে অপর দুই আসামি ইসরাফিল ও আজিম গা ঢাকা দেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসরাফিলকে ২৭ মার্চ গ্রেপ্তার করলে তিনিও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তৃতীয় আসামি আজিমকে গ্রেপ্তারর করা যাচ্ছিল না। দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের চেষ্টায় গত মঙ্গলবার কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা এলাকা থেকে আজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনিও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে কেয়া খাতুনকে তার বাবার বাড়ি থেকে মিলন ফুসলিয়ে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরে মাঠের মধ্যে নিয়ে প্রথমে মিলন তাকে ধর্ষণ করেন। পরে পালাক্রমে আজিম ও ইসরাফিল ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর মিলন বাঁশ দিয়ে কেয়ার মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। পরে ওই স্থানের পাশের বাড়ি থেকে একটি কোদাল এনে রাস্তার পাশে মাটি চাপা দিয়ে কলাগাছ ও কলাপাতা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যান।’
প্রেমে ব্যর্থ হয়েই মিলন অন্য সহযোগীদের নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd