সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২০
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেটের অন্যান্য উপজেলার চেয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলাটি নিন্মাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাশিয়া ও জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। অনেক সময় স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত না হলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পুরো গোয়াইনঘাট উপজেলা আকস্মিক বন্যা হয়। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে ভারি বর্ষণ হলে তো আর কথাই নেই।
জানা গেছে, ৮০’র দশক থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় এ পর্যন্ত যে কয়টি বন্যা জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে তার মধ্যে ১৯৮৮ সাল, ২০০৪ সাল ও ২০১২ সালের বন্যা উল্লেখযোগ্য। উল্লেখিত বন্যায় এলজিইডির নির্মিত সালুটিকর-গোয়াইনঘাট, বঙ্গবীর-হাদারপার, গোয়াইনঘাট-রাধানগর সড়ক গুলোর উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি করেনি। তাছাড়া পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের জাফলং বাজার থেকে আসাম পাড়া হাওর সড়কসহ বিভিন্ন বেড়িবাঁধও একেবারে ধ্বংসের মুখে পড়েনি।
কিন্তু চলতি পরিস্থিতিতে এখনো পর্যন্ত ৮৮, ২০০৪ ও ২০১২ সালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির ধারে-কাছে পৌছায়নি। কিন্তু এলজিইডির নির্মিত সড়ক গুলোর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এলজিইডির গোয়াইনঘাট-রাধানগর সড়ক, সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের পিরিজপুর কাল ভার্টের এপ্রোস ও গার্ডটার ওয়ালের ভাঙ্গন, লেঙ্গুড়া গ্রাম সড়কের বেশকটি জায়গায় বড়ধরনের ভাঙ্গন এখন পর্যন্ত সর্ব মহলে আলোচিত হচ্ছে।
পাশাপাশি জাফলং-আসামপাড়া হাওর ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের কয়েকটি বেড়িবাঁধ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। গোয়াইনঘাটের বিজ্ঞ ব্যাক্তিবর্গের মতে এলজিইডি নির্মিত সড়ক গুলোর উপর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপ সৃষ্টির মূল কারণ দুটি হতে পারে। ১। হিদাই খালের উপর বাঁধ নির্মাণ ও ২। সড়ক ও জনপথ বিভাগ অপরিকল্পিতভাবে সারি-গোয়াইনঘাট সড়কে ৩-৪ফুট উচ্চতা বৃদ্ধি। তারা মনে করেন, জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে প্রবাহমান সারি নদীর পানি ইতিপূর্বে হিদাইর খালে প্রবাহিত হতো। কিন্তু বর্তমানে উক্ত খালে বাঁধ নির্মাণ হওয়ায় পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অপরদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন সারি-গোয়াইনঘাট সড়কের উপর দিয়ে সর্বদাই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল প্রবাহমান ছিল। কিন্তু সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গোয়াইনঘাট উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাযথ পর্যালোচনা না করে ৩-৪ ফুট উচ্চতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ফলে অপরিকল্পিত ভাবে সারি-গোয়াইনঘাট সড়কের উচ্চতা বৃদ্ধি করায় পানির গতি পথ পরিবর্তন হয়েছে এবং গোয়াইনঘাটে এলজিইডির নির্মিত প্রধান প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ রাস্তা গুলোর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী রাসেন্দ্র বলেন, চলতি বন্যায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গোয়াইনঘাট-রাধানগর এলজিইডি নির্মিত সড়কের ৮-৯টি স্থানে বড় ধরনের ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের পিরিজপুর কালভার্টের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ এখনও পর্যন্ত লেঙ্গুড়া গ্রামের এলজিইডির নির্মিত সড়কের বেশকটি স্থানে বড়ধরনের ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। তবে বন্যার পানি চলে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পাওয়া যাবে।
সড়ক বিভাগের ভুলের কারণেই এমন হয়েছে কী না জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাকিব এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd