গোয়াইনঘাটের শিয়ালায় গরু চুরির জেরে থামছেনা উত্তেজনা!

প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

গোয়াইনঘাটের শিয়ালায় গরু চুরির জেরে থামছেনা উত্তেজনা!

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নের শিয়ালা হাওর গ্রামে গরু চুরির ঘটনার ঝের ধরে হামলায় শিকার হয়েছেন গ্রামবাসী। উক্ত বিষয়টি নিয়ে পক্ষে -বিপক্ষে গোয়াইনঘাট থানায় অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায় শিয়ালা হাওর গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে আয়না মিয়া(৩৫)গত ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাত দুইটার দিকে একই গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে সিদ্দিকুর রহমানের গরু ঘরে ঢুকে চুরি করে দুটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়।

উক্ত গরু চুরির ঘটনায় গরু ফেরত দেয়ার কথা বলে নগদ আরো ৬০ হাজার টাকা মুক্তি পন নেয়। তারপরও গরু ফেরত না দিয়ে সিদ্দিকুর রহমানের সাথে অশালীন আচরণ করে। এক পর্যায়ে সিদ্দিকুর রহমানকে প্রানে হত্যার হুমকি দেয়।

অপর দিকে ৩ মে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আয়না মিয়া শিয়ালা হাওর গ্রামের পার্শ্ববর্তী গ্রাম চলিতাবাড়ীর মৃত হযরত আলীর ছেলে জালাল উদ্দীনের গরু ঘরে ঢুকে। ৪ টি গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় বসতবাড়ির মালিক পক্ষ ও গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে ঘটনাস্থলে গরু রেখে পালিয়ে যায়। উক্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ গরু চুরির ঘটনায় শিয়ালা হাওর এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয় শিয়ালা হাওর গ্রামবাসী শিয়ালা হাওর গ্রামের মৃত আব্দুল খালিকের ছেলে আয়না মিয়া(৩৫)কে গ্রামের সালিসি বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। এ ব্যাপারে নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ রইছ মিয়া বলেন, আয়না মিয়া কতৃক ৫ দিনের মধ্যে দুটি গরু চুরির ঘটনায় হাওর অঞ্চলে টান টান উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য গ্রামবাসী আয়না মিয়াকে গ্রামের বৈঠকে উপস্থিত থাকার আহবান জানান। কিন্তু আয়না মিয়া গ্রামের বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে বরং তার গোষ্ঠী গাড়া ও তার সাথের চুরদের দলবদ্ধ করে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রামবাসীর সালিসি বৈঠকে অতর্কিত হামলা চালায়। উক্ত ঘটনার খবর পেয়ে নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল হাসান সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর দিলীপ কান্ত নাথকে অবহিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কিন্তু গত ৯ মে আয়না মিয়া ও তার দল-বল পুনরায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে গ্রামবাসীর কয়েকজনকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। এ ব্যাপারেও গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। শিয়ালা হাওর গ্রামের আসাব উদ্দিনের ছেলে সফিকুল ইসলাম (২২) বাদী হয়ে চলতি মাসের ৯ তারিখের ঘটনায় আরেকটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটিতে আয়না মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করেছেন ও অজ্ঞাত রয়েছে আরো কজন আসামি। ৯ তারিখের ঘটনায় আয়না মিয়া ছাড়া যারা অভিযুক্ত তারা হলেন মিজান,দিদার,রব,আমির আলী, শরিফ, জাহাঙ্গীর, দানিছ মিয়া,আলী আকবর, সাদ্দম হোসেন, আবুল কালাম, ফজলু মিয়া,মেহেদি হাসান ও তৈয়ব আলী।

এ ব্যপারে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ বলেন, শিয়ালা হাওর গ্রামে মারামারির ঘটনায় পক্ষে – বিপক্ষে দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। গত ৯ মে মারামারির ঘটনায় শিয়ালা হাওর গ্রামের আসাব উদ্দিনের ছেলে সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..