সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, মে ১১, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : পৃথিবীকে করোনামুক্ত করতে নিজেদের জীবন বাজি রেখে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হয়তো এই যুদ্ধে তারা সফল হবেন।
বিজয়ের বেশে তাদের সঙ্গে করোনামুক্তির আনন্দ উদযাপন করবে বিশ্ববাসী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এমনই দুই করোনাযোদ্ধা ডা. মো. আকিব জাভেদ রাফি এবং ডা. তাসফিয়া আহমেদ।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর আইসোলেশন সেন্টারে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রথম ধাপে যে কয়েকজন চিকিৎসকের নাম লিপিবদ্ধ করা হয় তাদের একজন আকিব জাভেদ রাফি ও আরেকজন তাসফিয়া আহমেদ।
তারা দুইজনই বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৩৯তম ব্যাচের স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। ফ্রন্টলাইনের এই যোদ্ধারা তাদের পরিবারের সদস্যদের মায়া ত্যাগ করে রাত-দিন কাজ করছেন দেশের তরে, মানবতার ডাকে।
রাফি ও তাসফিয়া দুইজনই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মেড্ডা এলাকার বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের আইসোলেশন সেন্টারে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ১১ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১০ দিন তারা আইসোলেশন সেন্টারে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়েছেন। রোগীদের সঙ্গে সেখানেই তাদের খাওয়া-ঘুম সবকিছু হয়েছে। টানা দায়িত্ব পালনের পর তাদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই সঙ্গে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে তাদের ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।
রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় আগামীকাল সোমবার (১১ মে) থেকে আবারও তারা আইসোলেশন সেন্টারে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডা. মো. আকিব জাভেদ রাফি বলেন, আমার এখন অসুস্থ বাবা-মায়ের পাশে থাকার কথা ছিল। কিন্তু চিকিৎসক হিসেবে দেশের ক্রান্তিলগ্নে আমি ঘরে বসে থাকতে পারি না। দেশের মানুষের সেবায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমার অসুস্থ বাবা-মা, আমার স্ত্রী ও দুই বোন প্রতিনিয়ত আমাকে করোনাকে ভয় না করে লড়াই করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রথম ধাপে আমরা ছয়জন চিকিৎসক আইসোলেশন সেন্টারে দায়িত্ব পালন করেছি। রোগীদের ওষুধ খাওয়ানোসহ সেবা দেয়ার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক রোগীদের সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য সরবরাহ করেছি। রোগীদের নমুনাও সংগ্রহ করতে হয়েছে। করোনা আক্রান্ত মানুষের সেবা করতে গিয়ে আমি মারা গেলেও কোনো দুঃখ থাকবে না।
ডা. তাসফিয়া আহমেদ বলেন, চাকরিতে ঢুকেই এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি যেটির জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। তবে আমরা সবসময় মানুষকে সেবা দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আইসোলেশন সেন্টারে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় দায়িত্ব পালনকারীদের তালিকায় আমার নাম দেখে প্রথমে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। কারণ আমার ছোট বাচ্চার জন্য দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য সমস্যা ছিল। আমার স্বামীও এখানে থাকে না। তাই ছোট বাচ্চাকে রেখে কীভাবে দায়িত্ব পালন করব সেটা নিয়ে চিন্তা হচ্ছিল। কিন্তু আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। বাবা-মা আমাকে সাহস দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। আমাদের ঊর্ধ্বতনরাও নিয়মিত খেঁজখবর নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন। সেজন্য এখন আর ভয় লাগে না।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd