সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, মে ৯, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : বিদেশিরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা তাদের মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক, হতাশামূলক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।
তাদের করা মন্তব্যে নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার (৮মে) গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের কিছু বলার থাকলে কূটনৈতিক নিয়ম মেনে আমাদের জানাতে পারতেন।
যারা বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলেন তাদের দেশে কি এসব আছে?আমেরিকায়ও তো বাকস্বাধীনতা নাই৷ তাদের দেশ নিয়ে সেই দেশে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলতে পারবে?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ওইসব দেশের উচিত কোভিড ১৯ নিয়ে আগামী ছয় মাসে তারা যে সহায়তা করতে পারেন, তা নিয়ে কথা বলা। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের যারা আছেন, তাদের কিভাবে সহায়তা করবেন এগুলো নিয়ে তারা প্রোগ্রাম করলে আমরা কথা বলতে পারি। ওই লোকগুলো যাতে না খেয়ে না মরে।
তিনি বলেন, আমরা দেশকে আমাদের মতো করে চালাচ্ছি। আমাদের কী করতে হবে তা আমরা জানি। আমি খুবই বিরক্ত। এটা খুবই হতাশাজনক। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মোটেই ভালো কিছু নয়।
তার মতে, বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়নি। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি৷ বাংলাদেশ মুক্তভাবে কথা বলার একটি দেশ। এখানে যা খুশি লেখা যায়৷ এখানে মিথ্যা কথা বললেও কোনো শাস্তি হয় না। যারা বিবৃতি দিচ্ছেন. তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে৷
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রগুলো যদি আমাদের প্রবাসীদের নিয়ে এবং পোশাক খাত নিয়ে কোনো সহযোগিতা করতে চান তাহলে, তাদের সাথে আলোচনা করতে রাজি আছি৷
আর বাংলাদেশ নিয়ে কোনো উদ্বেগের বিষয় থাকলে তারা ডিপ্লোম্যাটিক প্রটোকলের মাধ্যমে জানাতে পারেন৷ এভাবে জটলা করে পাবলিক স্টেটমেন্ট দেয়া কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না৷ তারা কেন এটা করছেন তা অনুসন্ধান করে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি৷
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ঢাকায় অবস্থানরত পশ্চিমা দেশের সাত রাষ্ট্রদূত কোভিড-১৯ এর বর্তমান সংকটে নির্ভরযোগ্য ও প্রকৃত ঘটনা-ভিত্তিক তথ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব নিয়ে তাদের মতামত দেন।
রাষ্ট্রদূতরা তাদের টুইট বার্তায়ও একই অনুভূতি শেয়ার করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার টুইট বার্তায় বলেন, ‘সর্বত্র জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের দেয়া নির্ভরযোগ্য এবং সত্য-ভিত্তিক তথ্যের প্রবেশাধিকার অত্যান্ত জরুরি। চলমান কোভিড-১৯ সংকটের মধ্যেও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বহাল রাখা অপরিহার্য যাতে সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বর সংযত না হয়।’
অন্যদিকে, নিজের টু্ইট বার্তা বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন লেখেন, ‘সর্বত্র জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের দেয়া নির্ভরযোগ্য এবং সত্য-ভিত্তিক তথ্যের প্রবেশাধিকার অত্যান্ত জরুরি। সি-১৯ সংকটের মধ্যে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সমর্থন করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং গণমাধ্যম যেন তার কাজ করে যেতে পারে।
সত্য ও ন্যায়বিচারের জন্য নিজের জীবন, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত কল্যাণকে ত্যাগ করা সব সাংবাদিককে শ্রদ্ধাও জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd