সিলেটের এসপি ফরিদ উদ্দিনের সহায়তায় ৩ বছর পর স্বজনদের কাছে ফিরলেন ফিরোজা

প্রকাশিত: ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ, মে ৩, ২০২০

সিলেটের এসপি ফরিদ উদ্দিনের সহায়তায় ৩ বছর পর স্বজনদের কাছে ফিরলেন ফিরোজা

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : ফিরোজা বেগম। বয়স পঞ্চান্ন বছর। তবে তিনি যখন হারিয়ে যান, তখন তার বয়স ছিল বায়ান্ন। ২০১৭ সালে ঢাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ফিরোজা কিভাবে কিভাবে যেন চলে এলেন সিলেটে। হাঁটতে হাঁটতে চলে যাচ্ছিলেন ভারতে। কিন্তু ধরা পড়লেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের হাতে। বিএসএফ তাকে দিল বিজিবির কাছে। সেখান থেকে পুলিশের কাছে ঠাঁই হলো ফিরোজার। পুলিশের সহায়তায় অবশেষে তিন বছর পর স্বজনদের কাছে ফিরলেন তিনি চোখেমুখে আনন্দ নিয়ে। আর দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে মাকে পেয়ে আনন্দাশ্রু গড়ালো ছেলে সুমন মিয়ার চোখে।

ফিরোজা বেগমকে আজ শনিবার তার ছেলে সুমন মিয়ার কাছে সমঝিয়ে দিয়েছে সিলেটের পুলিশ।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, বরগুনা জেলা সদরের কালিরতভোগ গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী ফিরোজা বেগম। ২০১৭ সালে ঢাকার খিলগাঁওস্থ ছেলে মো. সুমন মিয়ার বাসা থেকে বের হয়ে হারিয়ে যান তিনি। এরপর স্বামী, তিন ছেলে আর দুই মেয়ে মিলে অনেক খোজাখুঁজি করেছেন। কিন্তু তার সন্ধান পাননি।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, ঘুরতে ঘুরতে মানসিক ভারসাম্যহীন ফিরোজা বেগম চলে আসেন সিলেটে। কোম্পানীগঞ্জ থানার শাহ আরেফিন টিলা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তিনি চলে যান ভারত সীমান্তে। গত ৩০ এপ্রিল বিএসএফ তাকে আটক করে। তার কথাবার্তায় বাংলাদেশী নাগরিক ও ভারসাম্যহীন বুঝতে পেরে বিএসএফ তাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু ফিরোজা বেগমের কথা বুঝতে না পেরে তার ঠিকানা সনাক্ত করতে পারেনি বিজিবি। পরে তাকে নিয়ে আসা হয় কোম্পানীগঞ্জ থানায়।

খবর পেয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন ফিরোজা বেগমের পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চালান। ফিরোজার অস্পষ্ট কথায় পুলিশ বুঝতে পারে তার বাড়ি বরগুনা জেলায়। এরপর বরগুনা সদর থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে তার পরিচয় সনাক্ত করা হয়। মাকে পাওয়ার খবর পেয়ে আজ শনিবার ছেলে মো. সুমন মিয়া ছুটে আসেন সিলেটে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় মাকে দেখতে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন। তিন বছর পর মাকে ফিরে পেয়ে আনন্দাশ্রু গড়ায় সুমনের চোখে। ছেলেকে পেয়ে মায়ের মুখে খেলে খুশির ঝিলিক।

এদিকে, মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে ফিরে পেতে সহায়তা করায় সিলেট জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সুমন মিয়া।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..