সিলেট ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৬:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২০
ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : বছরের প্রথম দিন বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আনন্দমুখর পরিবেশে সারাদেশে বই উৎসব উৎসব করলেও অসাধু কিছু শিক্ষকের জন্য অনেক শিক্ষার্থীই বই না নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আলমপুর বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, গত বছরের পুরাতন বই ফেরত আর নগদ টাকা না দিলে বই মিলছে না কারোই।
তবে নগদ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক সকলকে বই দিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। আর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, বই দিতে যদি কোনো প্রকার শর্ত আরোপ করে সেই প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বছরের প্রথম দিন বুধবার (১ জানুয়ারি) নতুন ক্লাসের বই নিতে এসেই প্রথমেই হোচট খায় সিরাজগঞ্জের আলমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জানান, গত বছরের পুরনো সব বই ফেরত আর নগদ ২০ টাকা না দিলে কাউেকে নতুন বই দেওয়া হবে না। এরপর যে সকল শিক্ষার্থীদের যাদের কাছে নগদ টাকা আছে তাদের প্রথমে তাদের নতুন বই দেওয়া হয়। তবে নতুন বই মিললেও ১৪টি বইয়ের সেট থাকলেও তাদের দেওয়া হয়েছে ১০টি। বাকি ৪টি মিলবে স্কুলের সেশন চার্জ দেবার পর। আর পুরানো বই ফেরত দেবার পরে। তাই অনেক শিক্ষার্থীই বছরের প্রথমদিন মনে কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, প্রথমে পুরানো বছরের বই ও টাকা ছাড়া শিক্ষকরা বই দিতে চাইছিলো না। পরে যাদের কাছে টাকা ছিলো শুধু তাদেরকেই বই দেওয়া হয়। আমরা তো অনেক আনন্দ নিয়ে স্কুলে এসেছিলাম কিন্ত আমাদের কাছে টাকা না থাকার কারণে আমরা খালি হাতে বাড়িতে ফিরলাম।
আলমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ টাকা নেওয়ার অস্বীকার করে জানান, কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি। যারা বই পায়নি তাদের সকলকেই বই দিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামীম আরা জানান, বই দিতে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) এ বি এম রওশন কবীর জানালেন, বিনামূল্যের বই বিতরণে কোনো ধরনের শর্ত আরোপের সুযোগ নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এই প্রতিষ্ঠানে ৮০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। বছরের নানা সময় বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশী টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ বছর জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের হাতে ৭০ লক্ষ বই বিতরণ করা হয়।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd