সিলেট | |
প্রকাশিত: ৫:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৯
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা আ,লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খা ও সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি করের বিরুদ্ধে দূর্নীতির পাহাড় সমান অভিযোগ দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নিকট লিখিত ভাবে দিয়েছেন উপজেলা আ,লীগের কয়েকজন ত্যাগী নেতা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলের ত্যাগী নেতা ও কর্মীদের বিরোদ্ধে কাজ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে হয়েছেন কোটিপতি তারা। শুধু তাই নয় গুরুত্বর অভিযোগ উপজেলা ও জাতীয় নির্বাচনে দল বিরোধী কার্যক্রম চালিয়েছেন। বিভিণœ সময় একাধিকবার তাদের রিবোদ্ধে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় চাঁদাবাজি,ক্ষমতার অপব্যবহার করার সংবাদ প্রকাশিত হলেও স্থানীয় এক সাংবাদিককে বগলদাবা করে বিভিন্ন সময় তাদের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করে ও অদৃশ্য শক্তির কারনে থেকে গেছে ধরাচোঁয়ার বাহিরে।
এর প্রেক্ষিতে গত শনিবার(০৯,১১,১৯)দুপুরে অভিযোগে সভাপতি ও সম্পাদক দুজনকেই তাহিরপুর উপজেলায় বিতর্কিত ও দুনীতিবাজ উল্লেখ করে তাহিরপুর উপজেলা আ,লীগের উপদেষ্টা আব্দুছ ছোবাহান আখঞ্জি,উপজেলা আ,লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এখলাছুর রহমান তারা,উপজেলা আ,লীগের সহদপ্তর সম্পাদক শাহীন রেজা,বন ও পরিবেশ সম্পাদক কামাল আখঞ্জি ও সদস্য আজিজুল হক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ ধাণমন্ডি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগে জানাযায়,২০০৮ থেকে ২০১৯ইংরেজি পর্যন্ত পদবী ব্যবহার করে অনেক বিতর্কিত কর্মকান্ড করেছেন এই দুইজনেই। বিএনপি,জামায়াত ও নাশকতার মামলার আসামীদের দলে যোগদান না করানোর জন্য দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নিষেধ থাকার পরও আবুল হোসেন খা নাশকতার মামলার আসামী তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বোরহান উদ্দিনসহ আরও অনেক বিএনপি,জামায়াত কর্মীদের দলে যোগদান করিয়ে নেত্রীর সিদ্ধান্তের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন। চাদাঁবাজি করে কোটি কোটি টাকার সম্পাত্তির মালিক হয়েছেন অল্প সময়ের মধ্যেই। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আবুল হোসেন খা দলের মনোনীত প্রার্থী করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল’এর বিপক্ষে এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনিসুল হকের পক্ষে কাজ করেছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালে হিন্দু লোককে (করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল)ভোট না দেওয়ার জন্য মুসলিম স¤প্রদায়ের লোকদের উস্কানি প্রদান করেন তিনি। আবুল হোসেন খা ও সাধারণ সম্পাদক অমল কর বড়ছড়া,চারাগাঁও,বাগলী শুল্ক ষ্টেশনে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছেন,এখনো করছেন। উপজেলার নতুন বাজারে আবুল হোসেন মার্কেট নামে ১৬টি দোকান ঘরের মার্কেট নির্মাণ,তাঁর মৃত ছেলে আবুল কাশেমের নামে ৬টি দোকান ঘরের একটি মার্কেট নির্মাণ,নতুন বাজারে আরও ৬টি দোকান ঘর,দোতলা একটি ভবন নির্মাণসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ও হাওরে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নিজের এবং ছেলেদের নামে কিনেছেন তিনি। আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নেই তার। তিনি দলের বড় পদে আসীন থাকায় তার ছেলেরাও ব্যবসার নামে ব্যাপক লুটপাট ও চাঁদাবাজি করেছে। বড় ছেলে পারুল মিয়ার আনুমানিক ১০কোটি ও ছোট ছেলে নয়ন মিয়ার নামে ৮কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এছাড়াও ছেলে আবুল বাসার খান নয়ন সীমান্তের চোরাচালানীদের নিয়ে তেরী করেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট। তাদের মাধ্যমে ভারত থেকে সীমান্তের চোরাই পথ দিয়ে রাতের আধাঁরে গত দশ বছরে কোটি কোটি টাকার কয়লা,চুনাপাথর পাচাঁর,গাজাঁ,মদ,হিরোয়িন পাচার করে আর পাচার করার সময় অনেক মালামাল আটক করে বিজিবি। আটক করার সময় নয়ন নিজের বাবার প্রভাবখাটিয়ে অনেক সময় ছাড়িয়ে নিত অবৈধ মালামাল। এভাবেই কোটিপতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়,উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক অমল কর দলের মনোনীত প্রার্থী করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল’এর বিপক্ষে এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনিসুল হকের পক্ষে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী লালনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করার অভিযোগ করা হয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক অমল কর নিজে কানাডায় তৈরী করেছেন বিশাল সম্পদের পাহাড়,কিনেছেন বাড়ি-গাড়ি ও দোকান। প্রায়ই তিনি কানাডায় গিয়ে এসব দেখা শুনা করে আসেন। এলাকায় তৈরী করেছে নিজস্ব বলয়ের নেতাকর্মী তাদের দিয়ে নিজের আখের গোছানোর জন্য বিভিন্ন স্থানে করছেন চাঁদাবাজি। এছাড়াও রয়েছে নানান অভিযোগ।
তাহিরপুর উপজেলা আ,লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন,আব্দুছ ছোবহান আখঞ্জি নয় বছর জাতীয় পার্টিতে থেকে সুবিধা নিয়েছে। বিভিন্ন দলে গিয়ে সুবিধা খেয়ে আবার আ,লীগে এসেছে। সম্মেলন নির্বাচন আসলেই মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে যায় এই ক্রিমিনাল। নানা মিথ্যা অপপ্রচার করে। আমরা দুর্নীতিবাজ নই। সে(আব্দুছ ছোবহান আখঞ্জি)দুর্নীতিবাজ তার বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে। সাধারণ সম্পাদক অমল কর মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায় নি।
উপজেলা আ,লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং বর্তমানে উপদেষ্টা আব্দুছ ছোবহান আখঞ্জি বলেন,আবুল হোসেন খা ও অমল কর’এর কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তালিকা দলীয় সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিতভাবে তুলে দিয়ে এসেছি। শনিবার ধানমন্ডি অফিস দপ্তরে অভিযোগ জমা দিয়ে রিসিভি কপি এনেছি। দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছি। ঘুর্ণিঝড়ের জন্য তাঁরা ব্যস্ত থাকায় শনিবার দেখা করতে পারি নি। আবারও চেষ্টা করবো। আমি দলীয় নেতা-কর্মীদের রক্ষা করার জন্য ৩বছর জাতীয় পার্টি করেছি। পরে আবার আব্দুস সামাদ আজাদ দলে এনে আমাকে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি করেছেন। আমার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ প্রমান করতে পারলে,আমি দলের সাধারণ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করবো।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd