সিলেট ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৯
নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে এবং পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্য এবং অরাজকতা দূর করতে গেল বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের শেষের দিকে সড়ক পরিবহন আইন,২০১৮ নামে সরকার একটি আইন তৈরী করেছে।একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এই আইনটি কে স্বাগত জানাচ্ছি।এই আইনটি হওয়ার পিছনেও একটা ট্র্যাজেডি ছিল।সেটি হল গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহত হলে ঢাকা সহ সারা দেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে তীব্র আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছিল এর প্রেক্ষিতে এরকম একটি আইন তৈরী সময়ের দাবী হয়ে উঠেছিল।আইনের প্রতি বরাবরই অবজ্ঞা করে নিজেদেরকে অত্যন্ত ক্ষমতাধর ভাবা পরিবহন সেক্টরের সংশ্লিষ্টদের হুমকি উপেক্ষা করে জনস্বার্থে এরকম একটি আইন পাশ করা সত্যিই অনেক কঠিন ছিল।একারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আইন প্রনয়নের সাথে জড়িত সবাই ধন্যবাদ প্রাপ্য।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর হলেও বর্তমানে আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।অন্যদিকে অত্যন্ত পরিত্তাপের বিষয় সড়ক মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন দিন দিন পাল্লা দিয়ে বেরেই চলেছে। সড়ক মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিলের অনেক গুলো কারনের মধ্যে ফিটনেস বিহীন গাড়ি,ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা,চালক/হেলপারদের অজ্ঞতা,পরিবহন মালিকদের অবহেলা,ট্রাফিক সাইন না মানা,পথচারীদের সচেতনতার অভাব সর্বোপরি আইন না মানার সংস্কৃতি ইত্যাদি অন্যতম। এসব বিষয়ই মূলত বর্তমান আইনে প্রাধান্য দিয়ে জেল জরিমানার পরিমান বারানো হয়েছে। আইনটিকে অনেকেই সাধুবাদ জানালেও জেল জরিমানার পরিমান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে। এরকম প্রশ্ন তুলার আগে সবাইকে ভাবা উচিত আইন প্রনয়নের উদ্দেশ্য কি।এই আইন কার্যকরের মাধ্যমে রাষ্ট্রের নাগরিকদের নিকট থেকে জরিমানা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের আমানত বৃদ্ধি কিংবা চালক-হেলপারদের জেলে ভরে রাখা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। মুখ্য উদ্দেশ্য হল জেল জরিমানার কথা মাথায় রেখে সবাই আইন মেনে চলে পরিবহন সেক্টরে শৃংখলা ফিরিয়ে এনে সবার জন্য নিরাপদ সড়ক তৈরী করতে সহায়তা করা।আমাদের দেশের সবার মাঝে (আমি সহ) আইন না মানার সংস্কৃতি কাজ করে।আইন না মানাকেই অনেকে ক্রেডিট মনে করে।’আরে দুর হেলমেট পরা লাগে নাকি,আমি এই…করি আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করবে কে, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এ আর কি বড় অপরাধ! রাস্তাতো ফাঁকাই ছিল,ড্রাইভিং লাইসেন্স করা যে ঝামেলা,তার চেয়ে রাস্তায় পুলিশকে ম্যানেজ করাই ভাল ইত্যাদি সংস্কৃতি আমাদের মাঝে কাজ করে’।
একবার ভাবুনতো সড়ক মহাসড়কে দূর্ঘটনায় যারা মারা যায় তাদের পরিবারের অবস্থা! এরকম কারও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পরিবার,রাষ্ট্র কিংবা সমাজের কত অপূরনীয় ক্ষতি হয়! চালক-হেলপার কিংবা যাদের অবহেলার কারনে প্রতিনিয়ত সড়কে তাজা প্রান ঝরে যায়।একইভাবে অন্যের অবহেলায়ও হয়তো আপনাদের পরিবারের কেউ সড়কে এরকম ভিকটিমের শিকার হতে পারে।এরকম চিন্তা থেকে হলেও প্রত্যেকে সড়কে শৃংখলা ফিরাতে আইন মানা উচিত।তাহলে দেখবেন সড়কে ৮০% শৃংখলা ফিরে আসবে। কারও অজ্ঞতা,অবহেলা কিংবা ইচ্ছাকৃত ভুলে সড়কে কোন অনাকাংখিত মৃত্যু কিংবা অঙ্গ হানি কোনভাবেই কাম্য নয়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশ এই আইন প্রয়োগ করবে।উদ্দেশ্য কেবল মাত্র সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমিয়ে শৃংখলা ফিরে আনা।কাউকে জরিমানা করে ক্ষতিগ্রস্থ করা নয়।মনে রাখবেন হেলমেট কিংবা সিট বেল্ট আপনার জীবনের নিরাপত্তার জন্যই পুলিশ এটি শতভাগ বাস্তবায়ন করতে চায়।পুলিশ অন্য কোন গ্রহের নয় যে আপনার সাথে শোষকের মত আচরন করে পায়দা নিতে চাইবে।তবে কেউ ভুলের উর্দ্ধে নয়।ভুল কেবলই ভুল এটি উদাহরণ নয়।সড়ক মহাসড়কে সবার জীবন নিরাপদ করতে সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।
লেখকঃ সাইফুল আলম রুকন পুলিশ পরির্দশক সিলেট জেলা ডিবি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd