সিলেটে অটোরিক্সা দিয়ে ছিনতাই চক্র বেপরোয়া

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

সিলেটে অটোরিক্সা দিয়ে ছিনতাই চক্র বেপরোয়া
একই ভাবে গতবছর আমি ছিনতাইয়ের স্বীকার হয়েছিলাম। হারিয়ে ছিলাম আমা’র মোবাইল ফোন। চিনে রাখতে পারেন, সিলেটে ছিনতাইকারী চক্র! সাস্টিয়ান একজন ছোট ভাইয়ের অ’ভিজ্ঞতা।

দুপুরের সূর্য খাড়াভাবে রোদ দিচ্ছে। খাসদবীর পয়েন্টে ম’সজিদের কাছে দাঁড়িয়ে সিএনজির অ’পেক্ষায় ছিলাম। আমা’র কাছ থেকে চার-পাঁচ ফিট সামনেই একজন বয়স্ক মানুষ সিএনজির জন্য অ’পেক্ষা করছেন আম্বরখানায় যাওয়ার জন্য। ঠিক সেই মুহুর্তেই একটি সিএনজি আসলো। ওখানে ড্রাইভার সহ আগে থেকেই পাঁচজন ছিল। বয়স্ক লোকটি উঠতে গেলে তারা উনাকে না নিয়ে বরং আমাকে ডাকলো উঠার জন্য। আমি মুরব্বিকে উঠতে বললাম। ওরা আমাকেই উঠতে বললো। জরুরি প্রয়োজন বলে মুরুব্বির অনুমতি নিয়ে উঠলাম। গাড়িতে উঠেই তাদের স’ম্পর্কে আমা’র কেমন যেন একটা বোধ হলো। ঠিক এই মুহুর্ত থেকে পরবর্তী স্ক্রিপ্ট আপনাদের সবার ই জানা আছে!

ড্রাইভার অকারণেই বারবার হার্ড ব্রেক করছে। আর পাশের লোকটা একটি কোট ও ফাইল এমনভাবে রাখছে যা আমা’র প্যান্টের ডানপকেটটাকে ঢেকে রাখছে। কাহিনি মনে পড়ে গেলো! আর ঐ মহাশয় ও মোবাইলটা ধীরে ধীরে চেপে বের করার চেস্টা করছেন। আমি বুঝতে পেরে একটু টাইট করি প্যান্টের পকেটটা। অকারণে হার্ড ব্রেক করা চলছেই। মোবাইলটা হাতে নেয়ার জন্য বেচারা বেশ চেস্টা করছে বুঝতে পারার পর আমি পকেট থেকে বের করে হাতে রাখি। এর একটু পরেই ড্রাইভার সহ বাকি পাঁচজন ই বলছে হাউজিং স্টেট দিয়ে আম্বরখানায় যাবে। এদিকে এত পথ ঘুরে আম্বরখানায় যাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিরিবিলি জায়গাতে গেলেই তারা নিজেদের কাজটা সেরে ফেলবে।

যাই হোক, তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে আমি মাঝপথেই নেমে পড়ি। এখানে পাঁচজনের সাথে পেরে উঠবো না বলেই পরের আরেকটা সিএনজিতে উঠে আম্বরখানায় আসলাম তাদের পেছন পেছন। এই সময়টায় আম্বরখানায় জ্যাম থাকে৷ এসে একটু খোঁজার পর সামনেই দেখি ওদেরকে। প্রথমেই তাদের গাড়ির নাম্বার প্লেইটের ছবি তুলি। এরপরে একটু দূর থেকে তাদের ছবি তোলার চেস্টা করি। তাদের একজন দেখে আরেকজনকে সাথে নিয়ে এসে আমা’র গেঞ্জির কলারে ধরে জিজ্ঞেস করছে ছবি তুললাম কেন। আরেকজন পেছন থেকে আমাকে জো’রে একটা ঘুষি মা’রলো। আমিও উপায় না দেখে জো’রে চিল্লানি দিয়ে বললাম তোরা ছিনতাইকারী। বলেই প্রথমে যে আমাকে ঘুষি দিলো তাকে কয়েকটা দিলাম। আরেকটা আমাকে গালি দিছে পরে তার কলারে ধরে কিছুক্ষণ সাইজ করলাম। সাথেরটা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পাশেই দাঁড়ানো সেই সিএনজিতে উঠার পর তারা দ্রুতই চলে যায়। তখনো একটাকে আমি শক্ত করে ধরে দিচ্ছিলাম সেই মত। ‘ ফাব্লিক অহন মা’রাত্মক’ তারাও শুরু করলেন।

সিদ্ধান্ত নিলাম কিছু একটা করতে হবে। সাথে সাথেই ভাইস চ্যান্সেলর স্যারকে কল দিলাম। স্যার ফোন ধরেই আমা’র হাঁপানো কণ্ঠ আর মানুষের চি’ৎকার শুনে জিজ্ঞেস করলেন আমি আছি কোথায়। স্যারকে বললাম ঘটনা। স্যার সাথে সাথেই পু’লিশের ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তাদের ইনফর্ম করে আমাকে বললেন আমি যেন ঠিক সেই জায়গাটাতেই থাকি। ৫-৭ মিনিটের ভিতরেই বেশ ক’জন পু’লিশ অফিসার ও টহলরত কয়েকটি গাড়ি ভর্তি পু’লিশ এসে হাজির। এসেই শুরু করলেন উনাদের কাজ। উনারা আমাকে বললেন থা’নায় যেতে। শেষপর্যন্ত বললেন মা’মলা করার জন্য। আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন এসিস্ট্যান্ট প্রক্টর আলমগীর কবির স্যার ও আবু হেনা পহিল স্যার। তাঁরা আমাকে পরাম’র্শ দিলেন ব্যক্তিগতভাবে অ’ভিযোগ দায়ের না করার জন্য। এতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। প্রক্টরিয়াল বডি থা’নার কর্মক’র্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন অ’ত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেই মা’মলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।
আপনাদের প্রতি পরাম’র্শ রইলো সাবধানে চলাফেরা করবেন। এই গ্রুপে আগে থেকে এমন অ’ভিজ্ঞতার কথা জেনেছি বলেই আমি নিজেকে অঘটন থেকে বাঁ’চাতে পেরেছি। এজন্য শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

ভাইস চ্যান্সেলর স্যার, আলমগীর কবির স্যার ও আবু হেনা পহিল স্যারের এমন আন্তরিক ও তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পু’লিশের কর্মক’র্তাবৃন্দরাও ঘটনাস্থল ও থা’নায় অনেক আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করেছেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

September 2019
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..