চলছে যাদুকাটা নদীর দুই তীরে শাহ আরোফিন (রঃ)এর ওরস ও পনাতীর্থ

প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০১৯

চলছে যাদুকাটা নদীর দুই তীরে শাহ আরোফিন (রঃ)এর ওরস ও পনাতীর্থ

Manual7 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী যাদুকাটা নদীর দুই তীরে দুইধর্মের-দুইধর্মীয় উৎসব বুধবার শুরু হয়েছে চলবে ৩দিন পর্যন্ত। একটি হল-হিন্দু ধর্মালম্বীদের পনাতীর্থ বা গঙ্গাস্নান আর অন্যটি হল মুসলমানদের হযরত শাহ আরোফিন (রঃ) এর ওরস মোবারক। এই দুই উৎসবের মধ্য দিয়ে দুই ধর্মের দেশ,বিদেশের লাখ লাখ মানুষের আগমনে মিলন মেলায় যাদুকাটা নদীতে পূণার্থী ও দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে প্রায় ২৩কিলোমিটার দৈর্ঘ্য যাদুকাটা নদীর চারপাশ। কানায় কানায় পরিপূর্ন হয়ে উঠেছে ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

শাহ আরোফিন (রঃ) এর ওরস ও পনাতীর্থকে কেন্দ্র করে যাদুকাটা নদীর দুই তীর রাজারগাঁও ও লাউড়েরগড়ে বসেছে বিরাট বারুনী মেলা। মেলায় শিশু,নারী ও পুরুষের ব্যাপক সমাগম গঠেছে। দুইধর্মের ভক্তদের নিরাপত্তার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্টকতৃপক্ষ ও আইনশৃংখলা বাহিনী।

হযরত শাহ আরোফিন (রঃ) মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক আলম সাব্বির জানান,প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলা উন্মুক্তো রাখা হয়েছে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্টানের নামে কেউ কোন প্রকার চাঁদা উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিরাপত্তায় একজন ম্যাজিষ্ট্রেট রয়েছে এছাড়াও আইনশৃংখলা বাহিনীর কয়েকটি বিভাগ কঠোর নজড়দারী রয়েছে। পাশা পাশি মাজার পরিচালনা কমিটির সেচ্ছাসেবক দল নিরাপত্তার কঠোর প্ররিশ্রম করছে। শুষ্ট ও সন্দুর ভাবে মেলা ও উরশ চলছে। এই পর্যন্ত কোন অপ্রতিকর ঘটনা ঘটে নি।

Manual1 Ad Code

অদ্বৈত্য প্রভু জন্মধামের পরিচালনা কমিটির রাজারগাঁও(লাউড়েরগড় নবগ্রাম) সভাপতি করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান,এখানে না আসলে জীবনের পূর্নতা আসে না। এই উৎসবে দেশে-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পূনার্থী ও আশেকানদের আগমন ও নিরাপদে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মত এবারও জেলা প্রশাসন,পুলিশ,র‌্যাব ও বিজিবি,সাংবাদিকসহ সর্বস্থরের জনসাধারন সার্বিক সহযোগীতা করছেন।

Manual3 Ad Code

তাহিরপুর থানার অফিসার্স ইনচার্য নন্দন কান্তি ধর জানান,মেলা ও পর্নতীর্থ এলাকায় ও আসা-যাওয়ার পথে সকল প্রকার অনিয়ম ও আইনশৃংখলা বজার রাখার সবোর্চ্চ চেষ্টা করছি। কোন অন্যায় কারীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি।

Manual2 Ad Code

দুইধর্মের দুই উৎসবের একটি-হিন্দু ধর্মালম্বীদের পনাতীর্থ বা গঙ্গাস্নান ২এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে শেষ হবে রাত ১টা পর্যন্ত। হিন্দুধর্মালম্বীরা যাদুকাটা নদীতে গাঙ্গা স্নানের মাধ্যমে তাদের সারা বছরের পাপ মোচনসহ পুণ্য লাভের জন্য এখানে আসেন মা,বাবা,স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আসেন। ১৫১৬খিষ্টাব্দে পনাতীর্থের সূচনা করেন মহাপুরুষ শ্রীমান অদ্বৈত আর্চায প্রভু। তার জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের নবগ্রামে। কিন্তু সেই গ্রাম যাদুকাটা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে বহু বছর আগেই। এজন্য নদীর তীর সংলগ্ন রাজারগাঁও গ্রামে অদ্বৈত আর্চায মন্দির ও আখড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রতি বছরের চৈত্র মাসে এই তৃথীতে গঙ্গাস্নানের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে হিন্দু ধর্মাবলাম্বীরা যাদুকাটা নদীতে ছুটে আসেন।

আর অন্যটি হল-১এপ্রিল থেকে বাদ আছর ওলি আউলিয়া ও হযরত শাহ আরোফিন (রঃ) এর জীবন দর্শনের উপর আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে ৩দিন ব্যাপী ওরস বার্ষিক মোবারক আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু। শেষ হবে ৩এপ্রিল আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে। মুসলমান ধর্মালম্বীরা তাদের মনোবাসনা পূরণ ও সিদ্ধি লাভের আশায় শাহ আরোফিন (রঃ) এর ওরসে যান। মুসলমানদের ৩৬০আওলিয়ার মধ্যে শাহ আরোফিন (রঃ) ছিলেন অন্যতম। সবাই জানেন তিনি একজন জিন্দা পীর। তিনি ভারতের মেঘালায় পাহাড়ের বড়বড় পাথরের গুহায় বসে আল্লাহ ইবাদত করতেন। ওইটাই ছিল তার একমাত্র আস্তানা,বাংলাদেশে কোন আস্তানা নেই। কিন্তু ভারতের সেই আস্তানায় ভক্তদের যেতে দেয় না ভারতীয় বিএসএফ। তাই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের লাউড়েরগড় এলাকায় জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন স্থানে শাহ আরোফিন (রঃ) এর আস্তানা তৈরি করে সেখানেই ওরস পালন করা হয়। সেখানে বক্তরা বাউল,জারী,সারি,মারফতি,আদ্ধাতির্ক,বাউল শাহ আব্দুল করিম,হাসন রাজা,রাধারমন সহ বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া গান পরিবেশন করে গানে গানে মুখরীত চারপাশ।

Manual1 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

April 2019
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..