কোম্পানীগঞ্জে বালুখেকোরা এখনো সক্রিয়: বিলীন হচ্ছে বাজার-বসতি, নীরব প্রশাসন

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২৫

কোম্পানীগঞ্জে বালুখেকোরা এখনো সক্রিয়: বিলীন হচ্ছে বাজার-বসতি, নীরব প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক :: কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ধলাই দক্ষিণ বালুমহালে চলছে অরাজকতা,বালু লুটপাট ঠেকাতে স্হানীয় বাসিন্দারা মামলা ও সামাজিক প্রতিবাদ করেও থামানো যাচ্ছেনা তাদের সীমাহীন লুটপাটের চিত্র। এমনটা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নদী তীরের উত্তর রাজনগর, উত্তর ঢালারপার পাকা ও কাচা ২ টি সড়ক, বাজারের দক্ষিণ পাশ,বসতভিটা এমনকি কবরস্থানও খাবলে খাচ্ছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাহীনি। ভুক্তভোগীরা পুলিশ প্রশাসনকে অনুনয় বিনয় করে মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় নেয়ার পাশাপাশি লুটপাটের তান্ডবলীলা থামাতে যোগাযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন একাধিক অভিযোগকারী। মাঝেমধ্যে পুলিশ টহল খবর পেয়ে অভিযানে আসার পূর্বেই খবর চলে আসে সিন্ডিকেটের কাছে। ফলে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে অভিযান শেষে কিছুক্ষণ পর চলে গেলে ফের শুরু তান্ডব।

অনুসন্ধানে মূলত উত্তর রাজনগর এলাকার তিনটি ভাগে তিনস্থরে পাশাপাশি এলাকায় বিশাল বাহিনীর হাতে পুরো এলাকা জিম্মি।
প্রথম দিকে সামাজিক পঞ্চায়েতী ভাবে সড়ক, বাজার, কবরস্থান রক্ষার প্রতিবাদ শুরু হলেও একসময় তা স্থবির হয়ে যায় স্থানীয় কয়েক মুরব্বি, জনপ্রতিনিধি, এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিবেদকের কাছে ভুক্তভোগীরা। যা অডিও-মোবাইল আলাপে কয়েকটি রেকর্ড সংরক্ষিত প্রতিবেদকের কাছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশেষ করে উত্তর রাজনগর এলাকার একটি সিন্ডিকেট দখলীকৃত-রেকর্ডীয় ভূমি মালিক অজুহাতে ২০ টাকা প্রতি ফুট বালু বিক্রি করছেন দেদারসে। গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শতশত লিষ্টার দিয়ে বাল্কহেড ভর্তি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।ফলে বসতবাড়ি, সড়কসহ ফসলীজমি বিলীন হচ্ছে অবলীলায় এ যেনো দেখার কেউ নাই।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি উত্তর রাজনগর গ্রামের মতিউর, আতাউর, ফরিদ উদ্দিন, জৈন উদ্দিন, মোড়ল মিয়া, মশক আলী, আমির হোসেন, তাজুল মিয়া, মধুর মিয়া, কালা মিয়া, ইলিয়াস, পারভেজ, চমক আলি
তৈয়ব আলি, শামীম ও হেলালসহ একদল বালুখেকো। উওর রাজনগর, সরাসরি বালু বিক্রিতে জড়িত বলে জানা গেছে। এসবের বেশ কিছু তথ্য-রেকর্ড জমা পড়েছে পত্রিকা ডেস্কে। এদের মধ্যে সরাসরি ২/১ জনকে বালু লুটপাটের সময় আতাউর এর উপস্থিতি নদীতীরে দাড়িয়ে লিষ্টার মেশিন লোকদের ইশারা দিতে দেখা যায় বালু তুলতে যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে নেটিজেনরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তাদের দৌরাত্ম্যের শক্তির জোর কোথায় তা প্রশাসনকে খুঁজে বাহির করা প্রয়োজন বলে মনে করেন।

অন্যদিকে স্থানীয় এক অধিবাসী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) নিজ বসতবাড়ি ও ছোট বাচ্চাদের নদীগর্ত হতে বাঁচাতে প্রতিবেদকের কাছে আকুতি জানান, ঐ ব্যক্তি বলেন আমরা গরীব, অসহায় সেই সুবাদে বালু খেকো চক্র জোরপূর্বক আমাদের বসতবাড়ি এলাকা তছনছ করে দিচ্ছে। প্রথমদিকে এলাকার মুরব্বি ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা পেলেও এখন আমলে নিচ্ছেনা কেউ।বাঁধা দিলেই প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। তিনি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির কাছে তাদের নাম ঠিকানা বলবেন বলে জানান প্রতিবেদকের কাছে যা অডিও রেকর্ডে সংরক্ষিত।

কোম্পানীগঞ্জের বালু লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের যা স্হানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

স্থানীয় মুরব্বি ইয়াকুব আলী জানান দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের পাশে বাজার, পাকা সড়ক, বসত বাড়ীর পাশে বালু উত্তোলন চলায় ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন এলাকা। সামাজিক ভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ নিষেধ বাধা দিলেও মাঝে-মধ্যে লুটপাট থামে। তবে আপাতত আজ হতে বন্ধ ভবিষ্যতে ফের লুটপাট শুরু হলে সংবাদকর্মীদের সহায়তার আশা প্রকাশ করেন মুরব্বি ইয়াকুব আলী।

এদিকে ” বালু লুটে জড়িত মতিউর মিয়া সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, ” আমাদের পৈত্রিক ভূমি নদীপাড়ে বটে তবে বালু বিক্রির সাথে তিনি যুক্ত নন বলে জানান। এক প্রশ্নের জবাবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভাইর উপস্থিতি বালু লুটপাটের সাথে উত্তরে তিনি এসবের কিছুই জানেননা বলে প্রতিবেদককে জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কোম্পানীগঞ্জ এর ইউ, এন,ও মোহামদ রবিন মিয়া বলেন, নদীসহ সবধরনের বালু লুটপাটের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। পরিবেশ ধংস করে যে বা যারা জড়িত থাকবে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা বলে জানান তিনি। তিনি বুধবারী বাজার এলাকায় সড়ক ও ফসলী জমিতে বালু লুটপাটের অভিযোগ পেলে ফের অভিযান শুরু হবে বলে জানান।

এ বিষয়ে, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন শেখ বলেন, এলাকার তীরবর্তী দখলদার অজুহাতে নামমাত্র মুল্যে বালুসিন্ডিকেট বাহিনীর হাতে সুযোগ করে দিচ্ছে বালু লুটপাটে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান পরিচালনা ধারাবাহিক চলছে।গতকালও আমাদের পুলিশ টিম বুধবারী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বালু উত্তোলন কারীদের তাড়িয়ে দিয়েছে।
অনেকের অভিযোগ দায়ের বিষয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রসঙ্গে ওসি কোম্পানীগঞ্জ বলেন, মামলা সংক্রান্ত মামলার আয়ু অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্হা নিবেন বলেও জানান।

প্রসঙ্গত, ধলাই দক্ষিণ বালুমহাল লিজকৃত হলেও একটি মহল বিভিন্ন সিন্ডিকেটে কলাবাড়ী, বুধবারী বাজার, উত্তর রাজনগর, ঢালারপার, মোস্তফানগর, নদী তীরবর্তী বসত, সড়ক, কবরস্থান, বাজারের পাশে অবাধে বালু উত্তোলনের হুলিখেলায় মত্ত কয়েকমাস ধরে। এলাকাবাসীর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি করেন প্রশাসনের কাছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

November 2025
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

সর্বশেষ খবর

………………………..