কোম্পানীগঞ্জে সক্রিয় নতুন বালুসিন্ডিকেট: ধ্বংস হচ্ছে নদীতীরের মাঠ বাজার ও বসতি

প্রকাশিত: ১১:৫৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২৫

কোম্পানীগঞ্জে সক্রিয় নতুন বালুসিন্ডিকেট: ধ্বংস হচ্ছে নদীতীরের মাঠ বাজার ও বসতি

নিজস্ব প্রতিবেদক :: এলাকায় অবাধে চলছে পরিবেশ বিধ্বংসী বালু উত্তোন ও বালুঅপসারণ। এহেন লুটপাটের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাজার, বসতি, কবরস্থান, খেলারমাঠ স্কুলমাঠ ও রাস্থাঘাট। অজ্ঞাত কারণ নিরব ভূমিকায় স্থানীয় প্রশাসন।

জনৈক আতাউর এর নেতৃত্বে একটি নতুন বালুদস্যু সিন্ডিকেট ১০টাকা ঘনফুট দামে এ বালু বিক্রি করছে।

সিন্ডকেটের লুটপাট ও তান্ডব ঠেকাতে স্হানীয় বাসিন্দারা মামলা,সামাজিক প্রতিবাদ করেও থামাতে
পারছে না এই বালুদস্যু’দেরকে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ধলাইনদী তীরের উত্তর রাজনগর, উত্তর ঢালারপারের পাকা ও কাচা ২ টি সড়ক, বাজারের দক্ষিণ পাশ, বসতভিটা এমনকি কবরস্হানও খাবলে খাচ্ছে শক্তিশালী এই সিন্ডিকেট। ভুক্তভোগিরা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে শত অনুনয় বিনয় করেও কোনরূপ প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

মাঝেমধ্যে পুলিশ টহল দিলেও আগাম খবর পেয়ে নিরাপদ স্হানে সরে যায় এবং পুলিশ চলে গেলে দস্যুরা ফের শুরু করে তান্ডব। রাত যত গভীর হয়, বালুখেকেরা ততো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এই লুটপরা সুন্ডিকেট গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শতশত লিষ্টার দিয়ে বাল্কহেড ভর্তি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। ফলে বসতবাড়ি, সড়কসহ ফসলীজমি বিলীন হচ্ছে অবলীলায়। এ যেনো দেখার কেউ নাই। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষজন এই বালুদস্যু সিন্ডকেটর কাছে সম্পূর্ণ জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

স্হানীয়দের অভিযোগ- উপজেলার উত্তর রাজনগর গ্রামের আতাউর, মতিউর, ফরিদ উদ্দিন, জৈন উদ্দিন, মোড়ল মিয়া, মশক আলী, আকবর আলী, আমির হোসেন, তাজুল মিয়া, মধুর মিয়া, কালা মিয়া, ইলিয়াস ,পারভেজ, চমক আলি তৈয়ব আলি গংরা মিলেই এই বালুদস্যু সিন্ডিকেট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা নিজ বসতবাড়ি ও ছোট বাচ্চাদের নদীগর্ত হতে বাঁচাতে আকুতি জানিয়ে বলেন- আমরা গরীব, আমরা অসহায়, তাই বালুদস্যু চক্র গায়ের জোরে আমাদের বসতবাড়ির সীমানা ঘেষে গভীর খোদাই করে নিয়ে গেছে বালু। যে কোনো সময় দিনে বা রাতের আঁধারে আমাদের বসতভিটে নদীগর্ভে ধ্বসে পড়তে পারে। এ আশঙ্কার আমাদের নির্ঘুম রাত পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলী জানান-” দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের পাশের বাজার, পাকা সড়ক, বসত বাড়ীর পাশে বালু উত্তোলন চলায় ভীষণ ক্ষতির সম্মুখীন এলাকা।সামাজিক ভাবে স্হানীয় জনপ্রতিনিধি সহ অনেকে নিষেধ বাধা দিলেও মাঝে-মধ্যে লুটপাট থামে। কিন্তু পরে আবার যেই সেই।

বালু লুটপাটে জড়িত মতিউর গণমাধ্যমকে বলেন, ” আমাদের পৈত্রিক অনেক ভূমি নদীপাড়ে রয়েছে, এটা আমরা কাজে লাগাচ্ছি। এতে কারো বাঁধা দেওয়ার কিছু নেই। তবে বালু বিক্রির সাথে তিনি যুক্ত নন বলে জানান।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও মোহামদ রবিন মিয়া বলেন, নদীসহ সবধরনের বালু লুটপাটের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশ ধংসে যে বা যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। বুধবারী বাজার এলাকায় সড়ক ও ফসলী জমিতে বালু লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেলে ফের অভিযান শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ বিপিএম বলেন, এলাকার নদী তীরবর্তী দখলদারা নামমাত্র মুল্যে বালু লুটপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। এটা অবশ্য পরিবেশ বিধ্বংসী। তাই জড়িতদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। ইতেমধ্যে আমাদের পুলিশ টিম বুধবারী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বালু উত্তোলন কারীদের তাড়িয়ে দিয়েছে।

ধলাই দক্ষিণ বালুমহাল লিজকৃত হলেও একটি মহল কলাবাড়ী, বুধবারী বাজার, উত্তর রাজনগর, ঢালারপার, মোস্তফানগর, নদী তীরবর্তীজ বসত এলাকা, সড়ক, কবরস্থান, বাজারের পাশে অবাধে বালু হরিলুট করে চলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

November 2025
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

সর্বশেষ খবর

………………………..