সিলেট | |
প্রকাশিত: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২৫
মোঃ মঈন উদ্দিন মিলন, কোম্পানীগঞ্জ :: সিলেটের সীমান্ত জনপদ কোম্পানীগঞ্জের বেশ কটি সীমান্ত পথে বিভিন্ন কায়দায় ভারত থেকে মাদককারবাীরা ফেনসিডিল, ইয়াবা,হুইস্কি,বিভিন্ন ব্রান্ডের মদসহ সমাজ বিধ্বংসী মাদকদ্রব্য অনায়াসে নামাচ্ছে কয়েকটি চক্র, এমন সংবাদ একাধিক স্হানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সুকৌশলে মাদকদ্রব্য নামিয়ে ঢাকাগামী মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি উপজেলার বর্নী, গৌরিনগর, খাগাইল, টুকের বাজার, বউবাজার, পাড়ুয়া মহাসড়ক এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
ক্রাইম সিলেটের অনুসন্ধানে প্রায় শতাধিক মাদক কারবারির নাম ঠিকানা বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রের ভিত্তিতে হাতে পৌঁছেছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা, জেল জরিমানা উপজেলা প্রশাসন কোম্পানীগঞ্জ ও থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্প্রতি একমাসে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান ধরা পড়েছে থানা কতৃক। তবুও থামানো যাচ্ছেনা মাদকের ভয়াল শেকড় এমনটাই প্রতীয়মাণ।
সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে সিলেট শহর থেকে শতশত মাদকসেবি মহাসড়ক এলাকায় বিচরণ শুরু করে।অনায়াসে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় বিভিন্নরকম চাহিদা অনুযায়ী মাদক বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল টাকা।
সচেতন নাগরিক সমাজ, তৌহিদী জনতা সভা সমাবেশ করেও মাদকের ভয়াল আগ্রাসন থামানো যাচ্ছেনা এমনই খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কারণ হিসেবে খাগাইল-গৌরিনগর এলাকার একজন সচেতন নাগরিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, এলাকার বেশিরভাগ যুবক এই মাদক সেবনসহ মাদকদ্রব্য কেনা বেচায় জড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে আজ ধংসের পথে যুবসমাজ। তিনি আরো বলেন, কে কার কথা শুনে অনেক মুরব্বি যারা সমাজ-পঞ্চায়েতের মুরব্বি তাদেরই ভাই ভাতিজা ছেলে কোনুনা কোনো ভাবে জড়িয়ে পড়েছে মাদকব্যবসায়। ফলে সামাজিক বিচারে মাদক নির্মূলের আন্দোলন ব্যহত হচ্ছে।
এদিকে বৃহত্তর পাড়ুয়ায় যুব সমাজের উদ্যোগে মাদক কারবারীদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। সামাজিক আন্দোলনে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত হচ্ছে সভা সমাবেশ। উপজেলার চাটিবহর-খাগাইল এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছেন।
সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জে থানার অভিযানে মাদকসহ বেশ ক’জনের নাম ঠিকানা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন ওসি রতন শেখ পিপিএম। তারা হলেন জগন্নাথপুরের হানিফ মিয়া, পাড়ুয়ার ফকির আলী,কাওছার, রহমত, কালা মিয়া, দয়ার বাজারের জুয়েল, ফরিদ, উৎমা এলাকার সুজন, সালা উদ্দিন, টুকের বাজারের অভিযানে রাহেলা,মাসুদ, আশরাফুল, পুটামারার সোহেল সহ অনেককে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা সহ মাদকের সম্পৃক্ততার অভিযোগে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ক্রাইম সিলেট টিম মাদকের ভয়াল রাজ্য কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তসহ মহাসড়কে মাদক বিক্রির খোলা হাট গোপন পরিদর্শনসহ শতাধিক মাদককারবারীর নাম তালিকাভুক্ত করেছে। যাদের বিরুদ্ধে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা,জেল খেটে ফের ব্যবসায়,আবার নীরবে অনেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে করছেন রমরমা মাদকব্যবসা।
পত্রিকার পাতায় তুলে ধরা হয়েছে গ্রামের নামসহ প্রথমাক্ষর মাদক কারবারির নামে।
এলাকা ভিত্তিক যা নিম্নরুপ!
বর্নী গৌরিনগর, ১/ ঈ-২/ নু- ৩/ক-,৪/জ-
৫/ ক-৬/ল-৭/ ত- ৮/ শ- ৯/আ- ১০/ স- ১১ক-১১/ম-
১২/দ- সহ অন্তত ২০ জনের নাম।
খাগাইল এলাকায় যারা মাদক ব্যবসায় জড়িত তারা হলেন, ১/ জ- ২/ ত-৩/ব-৪/জ-৫/ব-সহ অন্তত ১০ জনের নাম।
বউ বাজার /টুকের বাজার এলাকায় যারা মাদক ব্যবসায় জড়িত। তারা হলেন-১/ আ-২/ব-/৩/র-সহ ১০ জনের নাম।
পাড়ুয়া এলাকার ১/ক-২/দ-৩/আ-৩/র-৪/স-৫/-ম সহ ১৩ কারবারির নাম।
ভোলাগঞ্জ আদর্শ গ্রামেরঃ-১/আ-২/হ-৩/স-৪/হ- সহ ৭ জন ব্যক্তির নাম।
উৎমা এলাকার- লামাগ্রামের ১/ন-২/ম-/৩/ক-৪/আ-৫/এ-৬/ক-৭/স-৮/শ- সহ ঐ গ্রামের বাসিন্দা ১২ জনের নাম ঠিকানা তালিকায় রয়েছে।
বরমসিদ্ধিপুর গ্রামের ১/ত-২/ই- ৩/ফ/৪/ক-৫/র-৬/আ-৭/ম-৮/ই-৯/শ১০/দ-১১/জ-১২/হ-১৩/জ- সহ ১৫ জন।
দয়ার বাজার /কালাইরাগ মাদক কারবারী যারা!
১/হ-২/ফ-৩/র-৪/জ- সহ মোট ৫ জনের নাম অনুসন্ধানে জানা গেছে।
ছনবাড়ী এলাকার যাদের নাম স্হানীয় একাধিক সূত্রে,তার হলেন -১/ আ-২/ত-৩/ই-৪/দ-৫/র-সহ ৭ জনের নাম।
বিশিষ্টজনের মতামতঃ
এ বিষয়ে স্হানীয় অধিবাসী, বাংলাদে ইমাম মুয়াজ্জিন সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এহসান উদ্দিন বলেনঃ-“বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রায়সময় তুলে ধরেছি।সিলেট ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে প্রায়ই দেখা যায় মাদকসেবী/কারবারিদের আনাগোনা। এ থেকে বেরিয়ে আসতে কোম্পানীগঞ্জে মাদক স্পট এলাকা চিহ্নিত করে “সামাজিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা বজায়” কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। এক্ষেত্রে প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক, মসজিদের ইমাম যুবসমাজের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত কমিটি মাসিক রিপোর্ট পেশ করার ব্যবস্থা করলে সে অনুযায়ী অনেকটা দমন হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় অধিবাসী, এম,সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোরশেদ আলম বলেন, “সীমান্ত কোম্পানীগঞ্জ আজ মাদকের ছড়াছড়িতে অশান্ত নেতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ভারত মাদকের বিষয় প্রমোদ করলেও আমরা তা করতে পারিনা। তিনি সম্প্রতি ব্যাপকহারে কোম্পানীগঞ্জ থানা কতৃক মাদকের চালান আটকের ভূয়সী প্রশংসা করে সামাজিক, রাজনৈতিক, আলেম ওলামা, যুবসমাজের সমন্বয়ে গঠিত মাদক বিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রশাসনের সহায়তায় এগিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করছেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরো বলেন, উঠতি বয়সী তরুণরা আজ ইয়াবাসহ মাদকাসক্ত হচ্ছে এতে শিক্ষার হার কমতে যাচ্ছে যা কোম্পানীগঞ্জ বাসীর জন্য অশনিসংকেত”।
উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আলী আকবর বলেন, “রাজনৈতিক মোকাবিলা নয় বরং দল-মত নির্বিশেষে সামাজিক আন্দোলনে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সহযোগিতা করাই সবার উচিত। কারণ এটা সামাজিক ব্যধি তাই মাদকাসক্তসহ জড়িতদের সামাজিক বয়কটের মাধ্যমে নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি”।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কোম্পানীগঞ্জ প্রধান মোঃ রবিন মিয়া বলেন, উত্তর রণিখাই ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার ফয়জুর রহমান প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে উৎমা, দমদমা, বরমসিদ্দিপুর সীমান্ত দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মাদক নামছে স্বীকার করে চোঁখ মেললই এলাকার প্রচুর সংখ্যক মানুষ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে বলে জানান। ইউনিয়ন পরিষদের আহবানে শীঘ্রই সকল ওয়ার্ড মেম্বার, সচেতন নাগরিক সমাজ নিয়ে মাদক প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনায় বসবেন বলে জানান। তাছাড়া উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অতীতের ন্যায় ফের উত্তাপন করবেন বিষয়টি দমনে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিন মিয়া বলেন, ঘনঘন অভিযানে পুলিশ প্রশাসন মাদকের চালান আটক করছেন। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে মাদক ব্যবসায় যে বা যারা জড়িত তাদের তালিকা ওসি কোম্পানীগঞ্জ বরাবর জমা দেয়ার পরামর্শ দেন। এতে স্হানীয় জনপ্রতিনিধিগণ ও মাদক নির্মূলে সামাজিক গণ আন্দোলন জোরদার করার আহবান জানান।
এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ পিপিএম জানান, ঘনঘন অভিযানে মাদকের বিপুল চালান আটক করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি আশংকাজনক হারে মাদকদ্রব্যের উৎপাতের খবর পাচ্ছেন তবে মাদকদ্রব্য সহ যাদের আটক করা যাচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তিনি এলাকাভিত্তিক স্থানীয় নাগরিকদের কঠোর সাহসী ভূমিকা রেখে সামাজিক আন্দোলন ও জোরদার করার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেন। শতাধিক মাদক কারবারিদের নামের তালিকা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হার বিষয়ে স্হানীয় দের আইনীভাবে সহযোগিতার পরামর্শ দেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd